banglanewspaper

ঢাকা : শিক্ষা, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য,  প্রযুক্তিসহ বেশ কয়েকটি বড় খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট সংসদে উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। আর কোন কোন খাতে কত টাকা খরচ করা হবে বাজেট উপস্থাপনে তারই হিসাব দেয়া হচ্ছে। তবে আয় বা টাকা পাওয়ার যে খাতগুলোর কথা বলা হয়েছে সেসব খাত থেকে অর্থ প্রাপ্তির যে লক্ষ্যমাত্রা তা পূরণ খুব একটা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন অনেকে।

বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আয়ের খাত ধরা হয়েছে রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে। বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। যেখানে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৭৭ হাজার ৪শ’ কোটি টাকা।

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর না হওয়ায় সেখানে রাজস্ব আদায়ের যে প্রত্যাশা করা হয়েছিল তা আর পূরণ হবে না।অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের জন্য রয়েছে আলাদা প্যাকেজ ভ্যাটের ব্যবস্থা। এই কারনে  কর আদায়ের একটা পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রা থেকে কমে যাবে। 

বাজেটে অর্থমন্ত্রী বৈদেশিক অনুদান প্রাপ্তির হিসেব দেখিয়েছেন ৫ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা। কিন্তু এই  টাকা কীভাবে কোথা থেকে আসবে; এ অনুদানগুলো আনার জন্য কী কাজ করতে হবে তার কোনো বিস্তারিত তথ্য তিনি দেননি। 

বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা; যা মোট বাজেটের ৫ শতাংশ। এ ঘাটতি বাজেটের অর্থায়ন করা হবে বিদেশ থেকে নেয়া ঋণ, ব্যাংক ঋণ ও ব্যাংক বহির্ভূত ঋণ থেকে। বিদেশ থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেয়া হবে ৩৮ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা। আর সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে নেয়া হবে ১৯ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। আর ব্যাংক বহির্ভূত ঋণ নেয়া হবে ২২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হওয়ার কারণে সরকারকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতেই একটা বড় অংশ ব্যয় করতে হবে।

সরকারের অনুন্নয়ন রাজস্ব ব্যয় (বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য খরচ) ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধ করা হবে ৩৮ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। যার বড় অংশই হল সঞ্চয়পত্রের সুদ। কারণ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ তো নেয়ই নি, বরং পরিশোধ করেছে।  আর উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে এডিপি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। 

এই বারের বাজেটে  মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৮ শতাংশের মধ্যে রাখা হবে বলেও প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে।    

মোট শতাংশের হিসেবে আয়ের খাত দেখা যায়, বাজেটের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নিয়ন্ত্রিত কর আদায় হবে ৫৯ দশমিক ৭ শতাংশ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বহির্ভূত কর ২ দশমিক ১ শতাংশ, কর ব্যতীত আদায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ, অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ১৮ দশমিক ১ শতাংশ, বিদেশি ঋণে ৯ শতাংশ এবং ১ দশমিক ৬ শতাংশ বৈদেশিক অনুদান নিয়ে সর্বোপরি ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার বাজেট হিসেব উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী। 

 

ট্যাগ: