banglanewspaper

আগামী ২০১৪-১৫ অর্থবছরের রাজস্ব আয়ের প্রধান খাত আয়কর হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন।

বুধবার রাজধানীর ইস্কাটনে বিসিএস কর একাডেমিতে প্রথমবারের মতো ই-টিআইএন সেবা সেন্টারের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

আগামী অর্থবছরের বাজেট সম্পর্কে তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরে আয়কর ৩৮ শতাংশ, মূল্য সংযোজন কর ৩৫ শতাংশ এবং শুল্ক হবে ২৭ শতাংশ।

তিনি আরো বলেন, আয়কর  আদায়ের অনেক খাত তৈরি হয়েছে। বাজেটে দেশিয় শিল্পের কাঁচামালের ওপর আয়করের বিষয়ে চিন্তা করা হচ্ছে।

আগামী জুলাই থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সম্পূর্ণ সমন্বিত অটোমেশনে যাচ্ছে উল্লেখ করে গোলাম হোসেন বলেন, বাংলাদেশের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডই প্রথম সম্পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় আসছে। এর ফলে রাজস্ব আদায় বেড়ে যাবে।

চলতি বছর রাজস্ব ঘাটতি হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজস্ব আদায়ের সেরা সময় মে-জুন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্মকর্তারা দিনরাত কাজ করছে। তদারকির পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে।

এর ফলে রাজস্ব ঘাটতি থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রাজস্ব ঘাটতি থাকবে সিপিডির এমন মন্তব্য সম্পর্কে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বাজেটে প্রায় ৫ হাজার সুপারিশ পেয়েছি। সুপারিশ করার ক্ষমতা সবার থাকে। সিপিডিরও রয়েছে।

সিপিডি আমাদের থেকে তথ্যউপাত্ত নিয়ে গবেষণা করার কথা। কিন্তু, কারো সুপারিশ বা গবেষণা নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। তবে রাজস্ব ঘাটতি হবে না।

জুলাই থেকে সম্পূর্ণ অনলাইনে কর আদায় করা হবে বলে জানান গোলাম হোসেন।

তিনি আরো বলেন, জানুয়ারি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইনে রিটার্ন জমা ও কর আদায় ব্যবস্থা চালু হবে।

জুলাই থেকে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হবে। তবে এক্ষেত্রে প্রধান বাধা হলো ব্যাংক। কারণ, অনেক ব্যাংকের সঙ্গে এখনো সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

ই-টিআইএন সম্পর্কে চেয়ারম্যান বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অটোমেশনের প্রথম প্রক্রিয়া হলো- ই-টিআইএন। ২০১৩ সালের ১ জুলাই ই-টিআইএন শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত ১২ লাখ করদাতা এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে নতুন ৩ লাখ করদাতা রয়েছেন। 

তিনি আরো বলেন, আগের প্রায় ৩২ লাখ করদাতার তালিকা রয়েছে। যেহেতু, প্রত্যক্ষ করা দাতা রয়েছেন ১৮ লাখ, সেহেতু ৯ লাখ করদাতার ই-টিআইএন রেজিস্ট্রেশন তুলনামূলকভাবে কম। তাই, কমপক্ষে আরো ৬ লাখ করদাতাকে এর অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কাজ করছি আমরা।

ই-টিআইএন তথ্য সেবাকেন্দ্র সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে এ কেন্দ্রটি চালু করা হলো। এটি আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে। এখানে নয় জন কম্পিউটার অপারেটর ও দুই কর্মকর্তা সার্বিকভাবে সেবা প্রদান করবেন। একজন করদাতা ই-টিআইএন রেজিস্ট্রেশন, ইউজার আইডি, ভুল সংশোধন সংক্রান্ত সব ধরনের সেবা পাবেন।

এ সেবা কেন্দ্রে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬শ করদাতা এ সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

আগামীতে প্রতিটি করাঞ্চলে এ সেবা চালু করা হবে বলেও জানান গোলাম হোসেন।

ইসিআর কার্যকারিতা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইসিআর নিয়ে আমাদের কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও বেশকিছু সীমাবদ্ধতার জন্য আমরা পারছি না। ইসিআর নিয়ে সিলেটে একটি মামলা চলছে, যা এর কার্যক্রমের গতিরোধ করে রেখেছে।

দেশিয় শিল্প রক্ষায় কর কমানোর দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, রাজস্ব বোর্ডের মূল উদ্দেশ্য হলো রাজস্ব আয় বাড়ানো। কিন্তু ৩৫০ এর বেশি পণ্যে কর কমানোর দাবি এর উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করবে।

তবে অটোমেশন ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ করে রাজস্ব আয় বাড়ানো হবে।

সেক্ষেত্রে দেশিয় শিল্পকে রক্ষায় কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সদস্য, কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ: