banglanewspaper

জেলা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় এক মাদ্রাসা ও বিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষার্থী গত নয়দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। তারা গত ১ অক্টোবর নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেনি।

পুলিশ ও স্বজনরা তাদের খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় গত বুধবার প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্য পূর্বধলা থানায় পৃথক পৃথকভাবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

এলাকাবাসী, পুলিশ ও নিখোঁজদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর সকালে ওই পাঁচ শিক্ষার্থী মাদ্রাসা ও স্কুলে যাবার কথা বলে সঙ্গে স্কুল ব্যাগ নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর আর তারা বাড়ি ফিরেনি।

নিখোঁজ হওয়া ওই শিক্ষার্থীরা হলো- পূর্বধলার শ্যামগঞ্জ বাজার সংলগ্ন মহিষবেড় গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে আরিফ মিয়া (১৪), ফরিদ মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন ওরফে বেলাল হোসেন (১৫), হেলাল উদ্দিনের ছেলে নয়ন মিয়া (১৪), আইনুদ্দিনের ছেলে মো. হৃদয় (১৩) ও হামেদ আলীর ছেলে রবিকুল ইসলাম (১৩)।

এদের মধ্যে বেলাল হোসেন শ্যামগঞ্জের শালদীঘা তালি-ই-মাটি ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে এবং নয়ন মিয়া একই মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। আর অপর তিনজন শ্যামগঞ্জের জালশুকা-কুমুদগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।

এই পাঁচজনের মধ্যে বেলাল ও নয়ন সম্পর্কে আপন চাচাত ভাই। আর আরিফ তাদের ভাতিজা। অন্য দুজনের বাড়িও তাদের পাশাপাশি। নিখোঁজ হওয়া শিক্ষার্থী বেলালের সঙ্গে একটি মোবাইল ফোন ছিল।

নিখোঁজের দিন ও এর পরদিন ওই নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও কেউ রিসিভ করেনি। পরবর্তী সময় থেকে তার ফোন নম্বরটির সংযোগ বন্ধ রয়েছে।

পুলিশ জানায়, ওই শিক্ষার্থীরা নিখোঁজ হওয়ার দিন শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে ময়মনসিংহগামী একটি ট্রেনে ওঠেছে বলে স্থানীয়রা দেখতে পেয়েছে।

শিক্ষার্থী বেলালের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনের নম্বরটি ট্র্যাকিং করে ঢাকার কাকরাইল এলাকায় একটি মসজিদে অবস্থান করছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। পরবর্তীসময় সেখানে তাদের স্বজনদের পাঠানো হলেও সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ কিশোররা সবাই দরিদ্র পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।

নিখোঁজ আরিফের নানী জুলেখা বেগম বলেন, আমার নাতিসহ নিখোঁজ হওয়া ওই চারজন সবাই শান্ত এবং সহজ, সরল স্বভাবের। এরা এক সঙ্গে খেলাধুলা করতো। জানিনা এদের ভগ্যে কি-আছে। আমরা প্রত্যেকটি পরিবার চরম দুশ্চিন্তায় আছি।

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান বলেন, মোবাইল কললিস্টের সূত্র ধরে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের সন্ধানে গত শনিবার থেকে ঢাকায় পুলিশ পাঠিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এখনও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ট্যাগ: