banglanewspaper

ব্যবসায়ীদের বায়ার্স ক্রেডিটের (আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ) বকেয়া শোধের চাপ এড়াতে পরিশোধ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার এক সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন এই পরিশোধ ব্যবস্থা পরিপালনের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের ব্যবসায়ীদের প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি ডলার বায়ার্স ক্রেডিটের বকেয়া রয়েছে। এসব ঋণ সাধারণত মূলধনী যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে ব্যবসায়ীরা দেশিয় ব্যাংকগুলোর অফসোর ব্যাংকিং ইউনিট বা বিদেশি ব্যাংক থেকে নিচ্ছেন।

বকেয়া ঋণের মধ্যে ২০০ কোটি ডলারের বেশি দেশে কার্যরত ব্যাংকগুলোর অফসোর ব্যাংকিং ইউনিটের এবং বাকি প্রায় সোয়া ১০০ কোটি ডলার বিদেশি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের।

এর ফলে দেশের ব্যাংকগুলোতে টাকার ঋণ চাহিদা কমছে। বর্তমানে ব্যাংক খাতে ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার উদ্বৃত্ত তারল্য সৃষ্টি হয়েছে।

মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে এসব ঋণের মেয়াদ এক বছর আর শিল্পের কাঁচামালের ক্ষেত্রে এর মেয়াদ ৬ মাস। আর সুদের হার সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ।    

এতোদিন ব্যবসায়ীরা এসব ঋণ নিয়ে নির্ধারিত মেয়াদে অর্থাৎ ৬ মাস ও এক বছর পর পরিশোধ করছেন। কোনো কোনো ব্যবসায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে আরও বেশি সময় নিয়ে বকেয়া পরিশোধ করেছেন।

কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে সময়মত এসব ঋণ পরিশোধ করা না হলে বৈদেশিক মুদ্রার দায় পরিশোধের চাপ দিন দিন বড় হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে দেখা যাচ্ছে বায়ার্স ক্রেডিটের বকেয়া কমপক্ষে ৯ মাসের আমদানি দায়ের সমান থাকছে। এছাড়া এ বাবদ সুদ ব্যয়ও বাড়ছে।

এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত ৬ মাস মেয়াদে যেসব ঋণ নেওয়া হবে, তা ওই সময়ের পরে একবারে পরিশোধ করলে চলবে।

কিন্তু ৫ লাখ ডলার কিংবা ৬ মাস মেয়াদের বেশি সময়ের জন্য বায়ার্স ক্রেডিট নেয়া হলে তা চার কিস্তিতে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার বলা হয়েছে, চারটি সমান কিস্তি নিজেদের সুবিধা মতো হিসেব করে নিতে পারেন ব্যবসায়ীরা।

আর তা না হলে অন্যভাবে ভাগ করেও প্রতিতিনমাসে বায়ার্স ক্রেডিটের বকেয়া শোধ করতে পারেন ব্যবসায়ীরা। 

সেক্ষেত্রে সার্কুলারে প্রথম কিস্তিতে ঋণ পরিশোধের ন্যূনতম কিস্তির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি।

তবে দ্বিতীয় কিস্তিতে তৃতীয় কিস্তির তুলনায় কম অর্থ পরিশোধ করা যাবে বলে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এক্ষেত্রে তা মোট ঋণের ১০ ভাগের এক ভাগের কম হবে না বলে শর্তও জুড়ে দেয়া হয়েছে।

২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক এক সার্কুলার জারি করে ব্যবসায়ীদের এ ঋণ নেয়ার সুবিধা করে দেয়।

ট্যাগ: