banglanewspaper

হায়দার মোহাম্মাদ জিতু: জাতিগত প্রবাদ-প্রবচন থেকে একটি জাতির ইতিহাস এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। সেই প্রবাদ-প্রবচনের দিনলিপি খণ্ডন করলে দেখা যায় উপমহাদেশীয় সমাজ ব্যবস্থা পুরুষ আধিপত্যে বশ।

অর্থাৎ নারী এখানে গৌণ চরিত্রের দেয়াল লিখন মাত্র। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় সাফল্যের মালা পরিহিত সন্তানদের প্রতি উচ্ছ্বসিত প্রশংসাসূচক উক্তি হিসেবে কিছু প্রবাদ ধ্বনিত হয়। যেমন- বাঘের বাচ্চা, বাপের বেটা, আসল মরদের ছা (সন্তান) ইত্যাদি। যা কিঞ্চিত সমালোচনামূলক চাহুনিতে স্পষ্ট ইঙ্গিত করবার চেষ্টা করে যে জাগতিক সাফল্য কেবল পৌরুষই কায়দায় পুরুষ দ্বারাই অর্জিত!

আবার আমাদের পরিবার তথা সমাজ ব্যবস্থা পর্যন্ত একটি সূক্ষ্ম চল চলিত আছে যে সন্তান ভালো কিছু করলে পিতা দাম্ভিক কণ্ঠে ধ্বনি তোলেন আমার সন্তান! আর কিঞ্চিত পান থেকে চুন খসলে তোমার (মায়ের) সন্তান দেখ কি করেছে? পাল্টা যুক্তি স্বরূপ বলতে পারেন, "বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর"- এমন উক্তিরও তো চল আছে।

এ প্রসঙ্গে বলব, পূর্বেই ইঙ্গিত দিয়েছি যে তা শুধু অক্রিয় অবস্থার ছল মাত্র । আবার উপরিউক্ত উক্তির উদ্ভাবনকারীর প্রতি সমালোচনা মূলক প্রশ্নও ছুঁড়ে দেয়া যেতে পারে যে তাহলে কি সমাজ ব্যবস্থায় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কোন অস্তিত্বই নেই? নাকি সেটাকে তিনি অস্বীকার করে গেছেন? একতরফাভাবে এই দৃষ্টিভঙ্গি একদিনে গজে উঠেনি। এর পেছনে রয়েছে নারীর নারী সুলভ আচরণ এবং ক্ষেত্র বিশেষে সুযোগ সন্ধানী কিছু মনোভাব!

তবে সর্বোচ্চ প্রতিবন্ধকতাপূর্ণ বিষয়টি হল তারা এখনো নিজেদের নারী হিসেবেই দেখেন, মানুষ হিসেবে দেখেন না। বা বলতে পারেন সমাজ তাদের দেখার সুযোগ দেন না। এ প্রসঙ্গে সামান্য ইঙ্গিত দিতে চাই, অধিকার কেউ কাউকে দেয় না, আদায় করে নিতে হয়। আবার ভিন্নভাবে বলতে পারেন এখনো আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় নারীর সর্বোচ্চ গন্তব্য হিসেব করা হয় একজন সু-পাত্র পর্যন্ত এবং বিয়ের বয়সের ব্যবধানটাও এমন স্তরে রাখা হয় যে যিনি পুরুষ তিনি থাকেন কর্মরত এবং নারী থাকেন কর্মহীন বা অধ্যয়নরত।

আবার আমাদের রাষ্ট্রীয় আইনেও আছে নারীর তুলনায় পুরুষের বিবাহ যোগ্যতার বয়সসীমা বেশী। অর্থাৎ সমাজের একজন পুরুষ প্রতিষ্ঠিত হবার পর বিবাহের অনুমতি পাবেন। কিন্তু একজন নারী তার পারিবারে যেমন নির্ভরশীল ছিলেন তেমনি নির্ভরশীল থাকতে থাকতে আরেক নির্ভরতার সাগরে ভাসবেন। ভিন্নভাবে বললে, সমাজই চায় না নারী দাঁড়াক!

নারীবাদী তাত্ত্বিক কাঠামো কচলিয়ে কোন সিদ্ধান্তে উপণিত হবার অভিপ্রায়ে এই চিন্তা নয়। বরং সমাজের মানুষগুলি এবং তাত্ত্বিক কাঠামো নির্মাণকারীদের প্রতি আহ্বান রাখার তাগিদেই এই উস্কানি। বুজুর্গগণ নারীবাদী কিংবা পুরুষবাদী চিন্তাকে জাহির করে পক্ষপাতমূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি না করে মানুষই কায়দার কিছু তত্ত্ব নির্মাণ করুণ।

যাতে করে শুধু নারী-পুরুষে নয়, সমাজের তৃতীয় লিঙ্গধারী মানুষগুলোও বঞ্চিত না হোন। জয় হোক মানবতার ।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

                                                                                                                                             

লেখক:

হায়দার মোহাম্মাদ জিতু

সাংগঠনিক সম্পাদক

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: