banglanewspaper

প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, রাজারহাট কুড়িগ্রাম: মৃৎ শিল্পীদের দূর্দিন চলার কথা বলা হলেও মানতে নারাজ কুড়িগ্রামের রাজারহাটের মৃৎ শিল্পী ব্রজেন্দ্র পাল ও তার স্ত্রী রেনু বালা পাল। শুধুমাত্র মেধা , মননশীলতা, পরিশ্রম এবং সময় উপযোগী মাটির উপকরন তৈরী করে সফলতা অর্জন করেছেন তারা। শুধু তাই নয়, এই পেশা দিয়েই তারা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি সন্তানদের শিক্ষিত করে তুলেছেন ।

গত ১৮নভেম্বর শুক্রবার সরেজমিন রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের মানাবাড়ী পালপাড়া গ্রামের ব্রজেন্দ্র পালের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার স্ত্রী রেনু বালা পাল সহ দু’জনে মাটির বিভিন্ন উপকরন তৈরীতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এ সময় কিভাবে মাটির উপকরনাদী তৈরী করা হয় দেখান তারা। পরিচয় করে দেন তাদের মাটির তৈরী ঘট, ধুপাতি, কলস, ডিয়ার, খুটি, সরা স্লীম, ফুলের টপ, গাঁজার স্লীম, ব্যাংক এবং পাতিলের সাথে।

ব্রজেন্দ্র পাল জানান, বংশানুক্রমে তিনি মৃৎ শিল্প পেশার সাথে সম্পৃক্ত। অনেকে বাপ দাদা পূর্ব পুরুষদের এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেলেও তিনি তা করেননি। কেউ মৃৎ শিল্পীদের দূর্দিন চলার কথা বললেও তিনি একথা মানতে নারাজ। বরং ধৈয্য সহকারে দূর্দিন মোকবেলা করে মেধা খাটিয়ে পরিশ্রম করে ও সময়োপযোগী মাটির জিনিস পত্র তৈরী করে বাজারজাত করে চলছেন তিনি।

তার মতে, সময়ের আবর্তনে প্রযুক্তির উন্নয়নে  প্লাষ্টিক , মেলামাইল ও সিরামিকের জিনিসপত্রের সহজলভ্যতা এবং চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও মাটির তৈরী কিছু সামগ্রীর চাহিদা আজো কমেনি। বিশেষ করে সনাতন ধর্মাম্বলীদের বারো মাসে তের পুঁজায় ব্যবহৃত সামগ্রীর অধিকাংশই মাটির তৈরী। স্বল্প মূল্য, সহজলভ্যতা এবং একবার ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাটির তৈরী জিনিসপত্রেরই বেশী চাহিদা। তাছাড়াও গ্রামাঞ্চলে এখনো মাটির তৈরী কিছু সামগ্রীর চাহিদা রয়েছে বলে তিনি জানান।

ব্রজেন্দ্র পালের স্ত্রী রেনু বালা পাল জানান, তাদের বিয়ের পর থেকে ৩১ বছরে স্বামী-স্ত্রীর নির্লস পরিশ্রমে এই পেশা দিয়েই তারা জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। অর্ধাহারে অনাহারে কখনো থাকতে হয়নি। বরং এলাকায় ১ একর (একশত শতক) জমিও ক্রয় করেছেন। এছাড়া এই পেশা দিয়েই বড় ছেলে জয়ন্ত পালকে একাউন্টিংয়ে মাষ্টার্স ও ছোট ছেলে নয়ন পালকে অনার্সে পড়াচ্ছেন বলে জানান। মৃৎ শিল্পের কাজ করেই তারা এখন স্বাবলম্বী। তবে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ফুলের টব, খেলনা সামগ্রী ও আধুনিক মানের মাটির তৈরী জিনিস পত্র তৈরী করে বিদেশে রপ্তানীর ক্ষেত্রে সরকারী ভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে মৃৎ শিল্প আজও প্রতিযোগীতায় এগিয়ে থাকত বলে জানান ওই মৃৎ শিল্পী দম্পতি।

পালপাড়ায় পূর্ব পুরুষদের মৃৎ শিল্প পেশার সাথে জড়িত প্রায় ১’শ পরিবার আজো এই পেশায় কর্মরত রয়েছেন। আদি যুগ থেকে পাল বংশের লোকেরা এই পেশায় সম্পৃক্ত থাকায় তাদের কর্মানুযায়ী গ্রামের নাম হয়েছে পালপাড়া। ওই গ্রামের অমূল্য পাল, স্বরস্বতী পাল, বিদ্যুৎ পাল, অতুল পাল,  মলয় পাল, সূর্য্য পাল সহ অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, পালদের নানা ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা।

তাদের সন্তানদের অনেকে এই পেশায় সম্পৃক্ত না হলেও তারা জীবণের বাকী দিন গুলো পূর্ব পুরুষদের পেশা নিয়েই থাকতে চান।

ট্যাগ: