banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আইন অনুযায়ী অনুমোদনের পর সাত বছরের মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্থায়ী জমিতে ক্যাম্পাস পরিচালনা করতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এই নিয়ম মানেনি। আইনের অমান্য করেই বছরের পর বছর শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে অস্থায়ী ক্যাম্পাসেই। খোদ ইউজিসি চেয়ারম্যান বলছেন, আইন না মানার প্রবণতা রয়েছে এমন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা কম নয়। প্রতিষ্ঠার পর দশ বছরের বেশি অতিবাহিত হলেও কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় যায়নি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।

দেশে ৯৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে এদের মধ্যে মাত্র ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী জমিতে ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে। বাকিগুলো থেকে গেছে এ আওতার বাইরেই। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ শুরু করেছে, কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় জমি কিনেছে স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য। আবার কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নবায়ন করে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে সময় বাড়িয়ে নিয়েছে আরও পাঁচ বছর। 

২০১০ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের আগে ৫১টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। এই ৫১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এ বলা হয়েছে, ‘এই আইনে যাই থাকুক না কেন এই আইন কার্যকর হবার পূর্বে সাময়িক অনুমতিপ্রাপ্ত কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে সনদ গ্রহণপূর্বক স্থায়ী না হইয়া থাকিলে এই আইন কার্যকর হবার পর উক্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধারা ৯ এর শর্তাবলী পূরণ সাপেক্ষে সনদপত্র গ্রহণ করিতে হইবে।’

ইউজিসির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে সংকটের নানান দিক। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ আল্টিমেটাম অনুসারে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের কি অবস্থা, ২৪ বছরের কার অগ্রগতি কতটুকু, কারা নিয়ম মেনে কাজ করছে, কারা করছে না এমন নানান প্রশ্নের উত্তর মিলেছে প্রতিবেদনে। দুই যুগে আয় বাড়লেও মান বাড়েনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের। 

দেশে ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এদের মধ্যে মাত্র ১২ বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী জমিতে ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ শুরু করেছে, আবার কোনোটি জমি কিনেছে স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য। তবে বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় নবায়ন করে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে সময় বাড়িয়ে নিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে দফায় দফায় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সময়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসিও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

ইউজিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজস্ব জমিতে স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম স্থানান্তর করেছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-চট্টগ্রাম, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-চট্টগ্রাম, আহসানুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। তালিকায় আরও আছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেজ অ্যান্ড টেকনোলজি, গণবিশ্ববিদ্যালয়, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি, দ্য ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক এবং সিটি ইউনিভার্সিটি। স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করা হলেও সম্পূর্ণভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে না ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি। 

স্থায়ী ক্যাম্পাসে আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়। এ তালিকায় আছে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, লিডিং ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, রয়েল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অব সায়েন্সেস, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও  নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি।

শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেনি, তবে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করছে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়। এ তালিকায় আছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, গ্রীন ইউনিভার্সিটি, দি পিপলস ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি, আশা ইউনিভার্সিটি।

এছাড়া জমি কিনলেও নির্মাণকাজ শুরু করেনি ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলো হচ্ছে- স্টেট ইউনিভার্সিটি, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া।

ফাউন্ডেশনের জমিতে ক্যাম্পাস রয়েছে দু’টি বিশ্ববিদ্যালয়ের। একটি সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি অপরটি মিলিওনিয়ার ইউনিভার্সিটি। একাধিক স্থায়ী ক্যাম্পাস রয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির। এ দুটি বিশ্ববিদ্যালয়কে আইন অনুসারে জমি নির্দিষ্ট করে সরকারকে স্থায়ী ক্যাম্পাসের তথ্য জানাতে বলা হয়েছে।

নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম জমিতে ক্যাম্পাস থাকা তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে- স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, প্রাইম ইউনিভার্সিটি ও সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি। আর আইন অনুযায়ী জমি ক্রয় করেনি প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়। এর বাইরে মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ ও দুই পক্ষের মধ্যে মামলা রয়েছে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ইবাইস ইউনিভার্সিটির।

 

 

 

 

ট্যাগ: