banglanewspaper

রাবি প্রতিনিধি: ৩৩ ক্রেডিট বাতিলের দাবিতে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যায়ের (রুয়েট) ১৪ ও ১৫ সিরিজের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে।

শনিবার সকাল ৮ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে চত্ত্বরে তারা এ কর্মসূচি পালন করে। যা দুপুর দুইটা পর্যন্ত চলবে বলে জানান তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের ‘৩৩ ক্রেডিট’ সম্বলিত যে নিয়ম বর্তমানে চালু রয়েছে সেই নিয়মের কারণে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই নিয়ম চালুর পর থেকে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষাবর্ষ হুমকির মুখে পড়ছে, সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা সবসময় একটা চাপা অস্বস্তির মধ্যে থেকে মেধার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারছে না।’

এ সময় তারা আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘৩৩ ক্রেডিট নিয়ম’ চালু নেই। ৩৩ ক্রেডিট মূলত এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে শিক্ষার্থীদের সারা বছরে পরীক্ষা, ল্যাব, ভাইভা, উপস্থিতি সব মিলিয়ে একটা অর্জিত ফল। বছরে ৩৭-৪০ পর্যন্ত ক্রেডিট থাকে। এর মধ্যে যদি কেউ ৩৩ ক্রেডিট অর্জনে ব্যর্থ হলে তার ছয় মাস থেকে এক বছর নষ্ট হয়ে যায়।

এমনকি অসুস্থতার কারণেও অনেকে পরীক্ষা দিতে না পারলে তবুও তার একই পরিণতি হয়। মাত্র কয়েক ক্রেডিটের জন্য পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হতে না পারায় শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ, বিকারগ্রস্থতা, এমনকি বিপদগামীতাও বাড়ছে। যেখানে পূর্বের নিয়মে সুপার ব্যাকলগ বা শর্ট সেমিস্টার পদ্ধতিতে উক্ত ক্ষতি অল্প সময়ে পূরণ করে নেওয়া যেতো। কিন্তু বর্তমানে মানোন্নয়নের কোনো সুযোগ নেই।’

এর আগে গত ২২ জানুয়ারি শিক্ষার্থীরা উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করে। যাতে তারা তাদের নানা সমস্যা তুলে ধরে ‘৩৩ ক্রেডিট’ সম্বলিত নিয়ম বাতিলের দাবি জানায়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাস বর্জন করবে বলে জানা যায়।

এদিকে আজ থেকে রুয়েটে নবীনদের ক্লাস শুরু হয়েছে। জানা যায় ১৪ ও ১৫ সিরিজ ব্যতিত সকল সিরিজের ক্লাস-পরীক্ষা যথারীতি চলছে।

জানা যায়, একই দাবিতে ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট ১৩ সিরিজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে। কিন্তু তা কোনো ফলপ্রসূ হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল আলম বেগ বলেন, ‘এটা একটি একাডেমিক বিষয়। তাই আলোচনা না করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করছে তা মোটেও যৌক্তিক নয়। তবে আমরা যে নিয়ম চালু রেখেছি তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থেই রাখা হয়েছে। কোনো মা-বাবা নিশ্চই চাইবেন না তাদের সন্তান ফেল করা ইঞ্জিনিয়ার হোক। তাই আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে তাদের শিক্ষার মান সঠিকভাবে অর্জন করুক। এতে তাদের ও দেশের মঙ্গল।’

ট্যাগ: