banglanewspaper

শিশির কুমার সরকার, বেনাপোল: যশোরে আতঙ্কের নাম ভুয়া সাংবাদিক। সাংবাদিকতা পরিচয়ে এখন নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড ঘটাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জায়গার সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ আবার শহরে মটর সাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে সাংবাদিক লিখে অপরাধ করে বেড়াচ্ছে এ চক্রটি।

চক্রের বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বলতে সাহস পর্যন্ত পায় না। বিভিন্ন সময় জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ চক্রের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠলে ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কেউ কোন ব্যবস্থা নেয়না।

অভিযোগ রয়েছে, এ চক্রের সাথে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কতিপয় সদস্যের দহরম-মহরম সম্পর্ক। যে কারণে তারা অপরাধ করে খুব সহজেই পার পেয়ে যায়। ভুক্তভোগীরা এ চক্রের হাত থেকে রেহাই পেতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যশোর বড় বাজারে সাংবাদিক পরিচয়ে এক দুর্বৃত্ত পুলিশের সহযোগিতায় ব্যবসায়ীদের হয়রানি করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ওই সংবাদিক একটি টেলিভিশন প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে পুলিশের সহায়তায় ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার ও ছাড়ানো কাজ করে আসছে। শুধু তাই নয়, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতানোর অভিযোগ ও রয়েছে ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে।

ওই সাংবাদিকের মোটর সাইকেলে চড়ে সাংবাদিক নেতারা ঘুরে বেড়ানোর কারণে তার দুর্বৃত্তায়ন দিনকে দিন বেড়েই চলছে। এসব অভিযোগের কারণে ওই সাংবাদিকের চাকরিও চলে যায় প্রায় বছর খানেক আগে। তারপরও ওই দুর্বৃত্ত এখনও বড় বাজার, থানা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালতে সাংবাদিক পরিচয়ে চষে বেড়াচ্ছে। থেমে নেই সাংবাদিক পরিচয়ে সরকারি বেসরকারি অফিসে তার যাতায়াত।

শুধু এই নয়, তার মত রয়েছে আর ও বহু ভুয়া সাংবাদিক। যারা মটর সাইকেলে সাংবাদিক লিখে শহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখের সামনে এসব ভুয়া সাংবাদিক ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের কিছু বলে না। সাংবাদিক নামধারীরা মটর সাইকেলে সংবাদিক কিম্বা সংবাদপত্র লিখে নানা রকম অপরাধ কর্মকান্ড ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংবাদপত্র কিম্বা সাংবাদিক লেখা মোটর সাইকেলগুলোর কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। আবার অনেকে লাইসেন্স, ইন্সুরেন্স পর্যন্ত নেই। যশোর শহর ও শহরতলীতে প্রায় অর্ধশত বিতর্কিত ব্যক্তি এখন সাংবাদিকতার আড়ালে সমাজে সাধারণ মানুষ ঠকিয়ে বেড়াচ্ছে। এর মধ্যে শহরতলী উপ শহর এলাকায় রয়েছে ‘মাহমুদ’ নামে বাপ-বেটার এক পরিবারের তিন প্রতারক সাংবাদিক।

ডাকাতিয়ায় রয়েছে ‘ম’ আদ্যাক্ষর এক টাউট সাংবাদিক। চাঁচড়া বাজার মোড়ে ‘স’ আদ্যক্ষর এক প্রতারক। বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় ‘ন’ আদ্যক্ষরের এক টাউট সাংবাদিক। সদর উপজেলার রূপদিয়া এলাকার ‘শ’ আদ্যক্ষরের এক টাউট প্রতারক সাংবাদিক। প্রতিদিন সকাল হলে এরা বিভিন্ন স্থানে মানুষদের খবর সংগ্রহ করে তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়।

এছাড়া এসব টাউটরা শহরের কালেক্টরেট চত্ত্বর, টাউন হল ময়দান, মণিহার বাসস্ট্যান্ড, খাজুরা বাসস্ট্যান্ড, পালবাড়ি, চাঁচড়া বাসস্ট্যান্ড, বাজার মোড়, মুড়লী মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় এসব প্রতারকদের দেখা যায়। সরকারি অফিস আদালতে এদের দাপট খুব বেশী।

এসব সাংবাদিকদের জন্য প্রকৃত সাংবাদিকদের বদনাম হয়। তাই এলাকার সাধারণ জনগণ এ চক্রটির হাত থেকে রক্ষায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ট্যাগ: