banglanewspaper

‘তড়িঘড়ি’ করে রায় দিয়ে অবসরে যাওয়া ঢাকার বিচারক ফারুক আহাম্মেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইন মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

এই বিচারকের বিরুদ্ধে সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত সপ্তাহে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বিচারপতি এস কে সিনহা নিজে ঢাকার আদালতে গিয়ে তার বিচার করা কয়েকটি মামলার নথি জব্দ করেন।  

রোববার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার একেএম শামসুল ইসলাম বলেন, “এতে অস্বাভাবিকতা পাওয়া গেছে।

“উনি তো অবসরে চলে গেছেন। এখন তার বিরুদ্ধে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নিতে আইন মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।”

বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নথি জব্দ করার পর ওই দিনই প্রতিবেদন পাঠাতে বলেছিলেন এবং তা পাঠানো হয়েছিলও।

“ওই দিন সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল। তবে (আজ) ইতোমধ্যেই মন্ত্রণালয় প্রতিবেদনটি পেয়ে গেছে,” বলেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার।

ঢাকার জননিরাপত্তা আদালতের বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ ফারুক আহম্মেদ গত ২৬ জুন অবসরে যান।

অবসরের আগের ১৮ কার্যদিবসে ২৪ মামলার রায় দেন। এনিয়ে বৃহস্পতিবার যুগান্তরে ‘মামলা খালাসের রেকর্ড’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, তড়িঘড়ি করে ঢাকার জননিরাপত্তা আদালতের বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ ফারুক আহম্মেদ অবসরের আগের ১৮ কার্যদিবসে ২৪ মামলার রায় দেন। এসব মামলার আসামিদের তিনি বেকসুর খালাস দিয়েছেন।

এছাড়া তিনি একদিনে ১০ মামলার সব সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ ও আসামি পরীক্ষা এবং যুক্তিতর্ক শেষ করেন। শুনানি শেষে চার থেকে ১০ দিনের ব্যবধানে ২০টি মামলা নিষ্পত্তি করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

“সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের আগেই আসামির পরীক্ষা করেছেন বিচারক ফারুক আহম্মেদ, যা ফৌজদারি কার্যবিধির পরিপন্থি। আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন অথচ তার স্বাক্ষর নেই। এমনকি আসামির নাম নেই, অথচ আসামি পরীক্ষার কাগজে তার স্বাক্ষর রয়েছে।”

তার নিষ্পত্তি করা মামলাগুলোর নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, মামলা খালাসের পাশাপাশি তিনি গত জুন মাসে মাদক মামলার ৪৫ জন আসামিকে জামিন দিয়েছেন। আর ছয় মাসে খালাস দিয়েছেন ৭৭ মামলার আসামিদের।

এছাড়া জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে ১০১ জন আসামির জামিন দিয়েছেন এই বিচারক। ২০১৩ সালে ৭৯ মামলা নিষ্পত্তি করেছেন তিনি। এর মধ্যে ৬০ মামলার আসামিকে খালাস ও ১৯ মামলার আসামিদের সাজা দেন।

ট্যাগ: