banglanewspaper

ইবি প্রতিনিধিঃ ‘পরিশ্রম ও কষ্টের বিনিময়ে পিতার ঘাম ঝড়ানো অর্থ দিয়ে তাদের স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হয়েছিলাম এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় আমাদের দেড় মাস ক্লাস চলার পরে ভর্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ। যা নাকি দেশে নজীর স্থাপন করেছে। যদি তাই হয় তবে দ্বীতিয় মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরে পূনরায় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে যদি অনার্সে ভর্তির সুযোগ না পাই, তবে আমরাও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশসানের সামনে আত্মহত্যা করে জীবন বিসজর্ন দিয়ে নজীর স্থাপন করে যাবো।’

কান্না তাড়িত কন্ঠে কথাগুলো বলছিলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেনীর ভর্তি পরীক্ষায় উত্তির্ন হয়ে ‘এফ’ ইউনিটে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা। 

জানা গেছে, ভর্তি পরীক্ষায় ‘এফ’ ইউনিটের প্রশ্ন ও উত্তর পত্র ফাঁসের ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষ গতকাল (সোমবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৩ তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘এফ’ ইউনিটের ভর্তি হওয়া ১০০ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সাথে এক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী ও শিক্ষার্থী সহ ৪জনকে বহিস্কার করা হয়। এই সিদ্ধান্তে পুরো ক্যাম্পাস জুরে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

এই সিদ্ধান্তে ওই ইউনিটের ১০০ শিক্ষার্থী ক্ষুব্ধ হয়ে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে প্রশাসন ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। 

মানববন্ধন চলাকালে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা ও প্রক্টর অফিসে যায়। সেখানে ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আনোয়ারুল হক স্বপন ও প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমানের কাছে শিক্ষার্থীর তাদের ভর্তি বাতিল হওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। 

তারা জানায়, ‘ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের সাথে যারা জড়িত শুধু তাদের বিরুদ্ধে আপনারা ব্যবস্থা নিয়ে নজীর স্থাপন করুন। কিন্তু দোষীদের সাথে আমরা যারা নির্দোষ তাদের কেন বলির পাঠা দিচ্ছেন। আমাদের শতকরা ৭০ ভাগ শিক্ষার্থী দ্বীতিয় মেয়াদে ভর্তি হয়েছি। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার পর ভর্তি বাতিল করে এসে এখানে ভর্তি হয়েছি। এমনকি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তি বাতিল করে এসে এখানে অনার্সে ভর্তি হয়েছে। এখন যদি আমাদের ভর্তি বাতিল করে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হয় তাহলে আমাদের অনেকেই চান্স পাবে না। কারন আমাদের মানসিকতা এখন অনার্সের বই পড়ার। ইন্টার মিডিয়েটের বই পড়ার আর কোন মানসিকতা নেই। তাছাড়া ভর্তি পরীক্ষার জন্য অনেক প্রস্তুতি থাকার দরকার। কিন্তু সে অনুয়ায়ী কোন বই পুস্তক এখন গোছানো নেই।

তারা চ্যালেঞ্জ করে বলেন, ‘যত বড় মেধাবীই হোক না কেন। তাকে একবার ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে তার ভর্তি বাতিল করে আবার ওই বিভাগেই ওই স্থানেই পরীক্ষা নিলে সে কখনই চান্স পাবে না। এটা কোন সিদ্ধান্ত হতে পারে না। অথচ তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্ত কমিটির কাজ হলো দোষীদের বের করা। কিন্তু এখানে দোষী নির্দোষ সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হলো। এটা কি কোন সুবিচার হতে পারে?

কান্না তাড়িত কন্ঠে তাদের অনেকেই বলেন, ‘আমাদের অনেক শিক্ষার্থীই ভর্তির টাকা ঋন করে এনে ভর্তি হয়েছে’। এখনো সে ঋন শোধ করতে পারে নি। তাহলে তার কি হবে। যদি এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকে তবে আমাদের আত্মহত্যা করা ছাড়া আমাদের কোন পথ থাকবে না। এই অবস্থায় আমাদের অবিভাকদের কি দিয়ে বোঝাবো?

পরে প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা অবশ্যই নজীর স্থাপন করেছে। তবে তোমাদের বিষয়ে আমরাও সমবেদনা জানাচ্ছি। তবে আশাকরি সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তু অনুযায়ী তোমাদের মেধার মূল্যায়ন অবশ্যই করা হবে।”

এদিকে ক্যাম্পাসে সকাল থেকে ওই শিক্ষার্থীদের অবিভাকদেরকেও তাদের ছেলে মেয়েদের জন্য বিভিন্ন জায়গায় কান্না করতে দেখা গেছে। 

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান বিডিনিউজ আওয়ার২৪'কে জানান,‘ আমরা এখনো সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত গুলোর লিখিত কোন তথ্য পাইনি। তবে ভিসির সাথে আমরা বসবো। সিন্ডিকেটের সিদ্ধানত গুলোর বিষয়ে কথা হবে। এর পরে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত নেব।’

ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী বিডিনিউজ আওয়ার২৪'কে জানিয়েছেন, “যেখানে পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে যে বিষয়টি নিশ্চিত। আবার ৭০ শতাংশ অবৈধভাবে ভর্তি হয়েছে, সেখানে ভর্তি বাতিল করা ছাড়া অন্য কোন উপায়ে এর সমাধান দেওয়া সম্ভব ছিল না। পূনরায় ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই মেধার মূল্যায়ন করা হবে। আগামী ১৬ মার্চ অনুরুপভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। সেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের মেধার পরিচয় দিবে।”  

ট্যাগ: