banglanewspaper

অনেক সময় কল্পকাহিনীর চেয়ে বাস্তব জীবন অনেক বেশি রোমাঞ্চকর, অনেক বেশি লড়াইবহুল। ‘শুনতে কি পাও!’ প্রামাণ্য ছবিটি নাড়া দিয়ে যায় বাস্তব জীবনের তেমন কিছু গল্পকে। এ গল্পের চরিত্রের বসবাস এ দেশে, এই অঞ্চলে। আগামীকাল ঢাকায় স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাচ্ছে পরিচালক কামার আহমাদ সাইমনের প্রামাণ্য সিনেমা ‘শুনতে কি পাও!’। গত মঙ্গলবার ছবিটির মুক্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন ও ছবির বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এটি প্রযোজনা করেছেন সারা আফরীন।

নির্মাতা কামার আহমাদ সাইমন বলেন, ‘শুনতে কি পাও!’ নিয়ে সবাই মজার একটা বিতর্ক করছে যে এটা কি ডকুমেন্টারি, নাকি ফিকশন। আমি বলছি, এটা একটি সিনেমা। কারণ সিনেমা বলতে আমরা বুঝি মানুষের হাসি, কান্না, প্রেম, সংঘাত। এ অনুমান নিয়ে যদি কেউ প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি দেখতে যান, তাহলে কিন্তু তারা হতাশ হবেন না। বরং নতুন করে মানুষের প্রেম-বেদনা-আনন্দ-ভালোবাসার কাব্যকে আবিষ্কার করতে পারবেন।’

প্রামাণ্য এ ছবিটির প্রদর্শনী প্রয়াত নির্মাতা তারেক মাসুদকে উত্সর্গ করা হয়েছে। সাইমন আরো জানান, তারেক মাসুদ নির্মিত ‘রানওয়ে’র আদলে আসছে মাস থেকে ‘শুনতে কি পাও!’ দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনীর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

বছর চারেক আগে খুলনার দাকোপ থানার সুতারখালী গ্রামে গিয়েছিলেন নির্মাতা সাইমন ও তার দল। তারা সেখানে ২০ মাস অবস্থান করেন। কাছ থেকে দেখেন গ্রামের সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাপন। সেখানকার মানুষের জীবনসংগ্রামের বাস্তব চিত্র নিয়েই নির্মাণ হয়েছে ‘শুনতে কি পাও!’। পর্দায় যেমন এ ছবির চরিত্ররা বেঁচে থাকার লড়াইয়ে নিয়োজিত, তেমনি বাস্তবেও বিচরণ করে তাদের সংগ্রামী জীবন।

বছরখানেক ধরে সম্পাদনার পর ছবিটি সম্পূর্ণ হলে পৃথিবীর অন্যতম প্রামাণ্য উত্সব জামার্নির ডক-লাইপজিগ থেকে আমন্ত্রণ পায়। উত্সবের ৫৫তম আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের নজরে পড়ে ছবিটি। এর দুই সপ্তাহ পর বিশ্বের বৃহত্তম প্রামাণ্য উত্সব আমস্টারডামের ইডফায় আনুষ্ঠানিক বাছাইয়ে ‘শুনতে কি পাও!’ প্রদর্শিত হয়। এরপর এ ছবির জন্য আমন্ত্রণ আসতে থাকে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে। গত এপ্রিলে প্যারিসে অনুষ্ঠিত প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উত্সব সিনেমা দ্যু রিলের ৩৫তম আসরের মূল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগে শ্রেষ্ঠ ছবির জন্য ‘গ্রাঁ পি’ জয় করে ‘শুনতে কি পাও!’। গত বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দ্বিবার্ষিক প্রামাণ্য উত্সব ফিল্ম সাউথ এশিয়ায় ছবিটি জয় করে জুরি অ্যাওয়ার্ড। এছাড়া সম্প্রতি মুম্বাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে শ্রেষ্ঠ ছবির সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘স্বর্ণশঙ্খ’ বা ‘গোল্ডেন কঞ্চ’ জয় করে এটি।

নতুন করে কোনো উত্সবে ‘শুনতে কি পাও!’ যোগ দিচ্ছে কিনা জানতে চাইলে সাইমন বলেন, ‘ছবিটি এখন আর কোনো উত্সবে পাঠাচ্ছি না। ছবি বানিয়েছি, প্রাণ দিয়ে কাজ করেছি। দীর্ঘদিন ধরে ছবিটি দর্শকের কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছি। আগামীকাল প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। আমার প্রত্যাশা, ছবিটি দর্শকদের ভালো লাগবে।’

ট্যাগ: