banglanewspaper

ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি: ইন্দুরকানীতে উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা নামে মাত্র অফিস করছেন। তিনি কাউকে তোয়াক্কা না করে মাসে দু’ এক দিন  অফিসে আসেন। তিনি উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় অনেক সময় লোক দেখানোর জন্য থাকেন। কিন্তু সভায় অমনোযোগী থাকেন। কারো সাথে কোন আলাপ আলোচনা করেন না।

গত ২২ মে সোমবার ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ভ্যাটেনারী সার্জন মোঃ আজাহারুল ইসলাম সভায় উপস্থিত থেকে সভার আলোচনা না শুনে সভা চলাকালীন সময়ে তিনি কানে হেডফোন দিয়ে হিন্দি সিনেমা দেখছিলেন। তার বাম কানে লাগানো হেডফোন ও হাতে মোবাইল ফোনে চলছে হিন্দি সিনেমা এ অবস্থায় সাংবাদিকরা ছবি তুললেও তিনি এতটা অমনোযোগী ছিলেন যে, কে কি করছেন তা তিনি উপলব্ধি করতে পারছিলেন না। তার পশে থাকা অন্য কর্মকর্তারা তা দেখে হাসলেও তিনি তা আমলে নেননি।

ইন্দুরকানী উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আজাহারুল ইসলাম এক বছর ধরে এ উপজেলায় যোগদানের পর এক বছর কর্মকাল শেষ করলেও মাসের মধ্যে দু’ একদিনের বেশি অফিস করেন না। মাসের অধিকাংশ সময়ই তার দপ্তরের চেয়ারটি খালি পড়ে থাকে। প্রাণি সম্পদ জেলা অফিসে কাজ, প্রশিক্ষণ সহ না অজুহাতে তিনি অফিসে আসেন না।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী গত ২১ মে পিরোজপুর জেলা মাসিক সমন্বয় সভায় উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার অফিস না করার বিষয় প্রস্তাব করলে জেলা প্রশাসক  মোঃ খায়রুল আলম শেখ মহোদয় জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তাকে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশে জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা তিনি কি কারণে অফিস করেণ না এবং কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হইবে না এজন্য ২২ মে শোকজ করেন।

এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আঃ আলীম জানান, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে ইন্দুরকানী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মোঃ আজাহারুল ইসলামকে নিয়মিত অফিস না করার জন্য শোকজ করা হয়েছে এবং ৩ দিনের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে। 

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী জানান, এছাড়া প্রাণি সম্পদ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আজাহারুল ইসলাম মাসে দু’ একদিনের বেশি অফিস করে না। এ বিষয়ে গত ২১ মে পিরোজপুর জেলার মাসিক সমন্বয় সভায় উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস না করার অভিযোগ দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ভ্যাটেনারী সার্জন মোঃ আজাহারুল ইসলাম জানান, আমি নিয়মিত অফিস করার চেষ্টা করছি। মাঝে মধ্যে ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে আমার অফিসে আসতে বিলম্ব হয়।

উপজেলা পরিষদের ওই মাসিক সমন্বয় সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুরুল হুদা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ বেলায়েত হোসেন হাওলাদার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ শংকর কুমার ঘোষ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফায়জুল কবির, উপজেলা জেপির সহ-সভাপতি কাওসার আহম্মেদ দুলাল, ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন হাওলাদার, কবির হোসেন বয়াতী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম, ইন্দুরকানী থানার এস আই মোঃ আঃ রহিম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর একেএম আবুল খায়ের, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ সোহাগ হোসেন, ইন্দুরকানী প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম. আহসানুল ছগির প্রমুখ।

ট্যাগ: