banglanewspaper

অনলাইন ডেস্ক : রহস্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ সীমাহীন। সৃষ্টির সেই আদিকাল থেকে মানুষ ছুটেছে রহস্যের পিছনে। সৃষ্টির শুরুতে সব কিছুই ছিল রহস্যে ঘেরা। আস্তে আস্তে মানুষ প্রযুক্তিতে উন্নত হয়েছে আর খুজে বের করেছে তার কারন। তবুও এমন কিছু রহস্যময় ঘটনা ও স্থান আছে যেগুলো সম্পর্কে আজও ভালভাবে জানা যায়নি। জেনে নিন ভারতীয় উপমহাদেশের তেমনই কিছু রহস্যময় স্থান ও ঘটনা সম্পর্কে।

১) কুলধারা- রাজস্থান (ভূতের গ্রাম) 
কুলধারা গ্রামটা ভূতের গ্রাম বলে বিখ্যাত। এটি ১৮২৫ সাল থেকে পরিত্যাক্ত। কুলধারা পশ্চিম রাজস্থানের জয়সলমীর থেকে ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। গ্রামটা এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত। অনেকেই এই গ্রামটিকে অভিশপ্ত বলে মনে করেন। গ্রামটা পলিওয়াল ব্রাহ্মণদের দ্বারা ১২৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, যারা ছিল খুব ধনী গোত্র। তারা ব্যবসায়িক ও কৃষিসংক্রান্ত জ্ঞানের জন্য সর্বজনবিদিত ছিল। কিন্তু ১৮২৫ সালে কুলধারা এবং এর আশেপাশের আরও ৮৩টি গ্রামের অধিবাসীরা এক রাতের ভেতরেই উধাও হয়ে যায়। আর কখনোই তাদের কারও কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

শোনা যায়, রাজ্যের মন্ত্রী সেলিম/সালিম সিং একবার গ্রাম পরিদর্শনে এসে গ্রামের সর্দারের মেয়ের প্রেমে পড়ে যান এবং বিয়ে করতে চান। মন্ত্রী হুমকি দেয়, যদি তাঁর সাথে বিয়ে না দেয়া হয় তবে গ্রামের উপর প্রচুর কর ধার্য করা হবে। সালিম সিংয়ের সাথে বিয়ে ঠেকাতে গ্রামের সর্দার অন্য ৮৩টা গ্রামের লোকসহ গ্রাম ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যাবার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু রহস্য হল, কেউই তাদের চলে যেতে দেখেনি বা কোথায় তারা গিয়েছে কেউই জানেনা।

২) কঙ্গকা লা পাস-আকসাই ছিন, লাদাখ (ইন্দো-চাইনীজ ইউএফও ঘাটি) 
হিমালয়ের কঙ্গকা লা পাস আকসাই ছিনের ইন্দো-চাইনিজ সীমান্তে অবস্থিত। চীনের অন্তর্গত অংশ আকসাই ছিন নামে এবং ভারতীয় অধিকৃত অংশ লাদাখ নামে পরিচিত। এটি বিশ্বের সবচেয়ে কম প্রবেশাধিকারমূলক এলাকাগুলোর একটি এবং দুই দেশের ভেতর চুক্তি অনুযায়ী এখানে কোন বর্ডার পেট্রল এর ব্যবস্থা নেই।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই এলাকায় সমন্বিতভাবে দুই দেশের একটা ভুগর্ভস্থ ইউএফও (এলিয়েন যান) ঘাটি রয়েছে। অনেকেই ভুগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা ইউএফও দেখেছেন বলে দাবিও করেছেন।তাদের মতে, অদ্ভুত ত্রিকোণাকৃতি আলোকবিশিষ্ট নিঃশব্দ আকাশযান দেখেছেন যা মাটি থেকে উঠে সম্পুর্ন খাঁড়া ভাবে আকাশে চলে গেছে।

এখানে দুই দেশের ভেতরেই বিশেষ অনুমতি ব্যতীত কেউ প্রবেশ করতে পারেন না।

২০০৬ সালের জুনমাসে গুগল আর্থের স্যাটেলাইট ইমেজগুলো এই এলাকার (চাইনিজ অংশ) ১:৫০০ স্কেলের বিস্তৃত মডেল দেখায় যেখানে দেখা যাচ্ছে অনেক বিল্ডিং, যেগুলোর সাথে একটা মিলিটারি ফ্যাসিলিটিরই তুলনা হতে পারে। কিন্তু সেখানে কি রয়েছে সেটা পরিষ্কার করে বলেনি কোনো পক্ষই। তাই ইট সবার কাছেই একটি রহস্যময় স্থান হিসেবে রয়ে গেছে আজও।

৩) কদিনহি- কেরালা (জমজদের গ্রাম) 

কদিনহি গ্রাম ভারতের কালিকুট থেকে ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। মুসলিমপ্রধান এই গ্রামে প্রায় ২০০০ পরিবারের বসবাস।  

কদিনহি গ্রামটা মূলত জমজ বাচ্চা জন্মের উচ্চহারের জন্য পরিচিত। ২০০৯ সালে এই গ্রামে ২২০ জোড়া জমজ বসবাস করত এবং ট্রিপলেট (তিনজন একই চেহারার) ছিল দুইটি! যদিও এলাকাবাসীর মতে, জমজের জোড়া ৩০০ থেকে ৩৫০ হবে।

জানা যায়, এই ঘটনার শুরু তিন প্রজন্ম আগে থেকে এবং হারটা ক্রমশ বেড়েই চলেছে প্রতি বছর। এমনকি গ্রামের মেয়েদের যদি অন্য কোন দূরবর্তী এলাকায় বিয়ে হয় তাতেও তাদের জমজ বাচ্চা জন্ম দেয়ার হার একই থাকে। 

৪) জাটিঙ্গা-আসাম (পাখিদের আত্মহত্যা) 

জাটিঙ্গা গ্রাম আসামের দিমা হাসাও জেলায় অবস্থিত যার জনসংখ্যা প্রায় ২৫০০। এই গ্রামটা পাখিদের আত্মহত্যার ঘটনার জন্য পৃথিবী বিখ্যাত। এই এলাকায় আসা বেশিরভাগ পাখিই আর বেঁচে ফিরে যেতে পারেনা।

সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর মাসের অমাবস্যার রাতে ঠিক ৬টা থেকে সাড়ে ৯ টার ভেতর আত্মহাত্যার ঘটনাগুলো ঘটে। এই গণআত্মহত্যার ঘটনা ঘটে নির্দিষ্ট এক মাইলের ভিতর ৬০০ ফুট লম্বা এক ভূখণ্ডের উপর এবং এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে কোন ধরনের বিরতি ছাড়াই এটি ঘটে আসছে প্রতি বছর।

এই ঘটনা ব্যাখ্যা করার জন্য অনেক তত্ত্ব দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যে একটি হলো, পাখিরা গ্রামের বাড়িগুলোর আলো দ্বারা আকর্ষিত হয়ে দিকভ্রান্ত হয়ে যায়।

আরও একটি তত্ত্ব রয়েছে এই ব্যাপারে। সেমতে, এই এলাকায় অত্যাধিক ম্যাগনেটিক ফিল্ডের উপস্থিতি রয়েছে যা পাখিদের দিকনির্দেশ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। ফলাফল মৃত্যু।

যদিও নিত্যনতুন তত্ত্ব প্রতিনিয়তই দেয়া হচ্ছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত বিতর্কহীন ভাবে এই ঘটনার সঠিক কারণ ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়নি।

ট্যাগ: