banglanewspaper

গুরুতর অসুস্থ সংগীতজ্ঞ ও লোকসঙ্গীত সংগ্রাহক পণ্ডিত রামকানাই দাশের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে অসুস্থ হয়ে পড়া এই শিল্পী বর্তমানে রাজধানীর মেট্রোপলিটন হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।

সেখানেই শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়ার অধীনে রামকানাই দাশের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার হয়।

কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, “উনার মস্তিষ্কে বড় ধরনের রক্তক্ষরণ হয়েছিল। হার্টেও সমস্যা ছিল। অপারেশন হয়েছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কিছু বলা যাবে না।”

রামকানাইয়ের ছেলে পিনু সেন দাশ জানান, গত মঙ্গলবার সিলেটের বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন তার বাবা। এরপর তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের বিষয়টি ধরা পড়ে। পরদিন তাকে নিয়ে আসা হয় ঢাকায়।

মেট্রোপলিটন হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে রামকানাই দাশের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের পরিমাণ বেড়ে গেলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।

এ কারণে তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে জরুরি ভিত্তিতে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়।

পণ্ডিত রামকানাই দাশের জন্ম ১৯৩৫ সালে, সুনামগঞ্জ জেলায়। লোকসংগীত সংগ্রহে অবদানের জন্য ২০১৪ সালে সরকার তাকে একুশে পদক ভূষিত করে।

অবশ্য ‘অসততার’ অভিযোগ এনে রামকানাই দাশকে ওই পুরস্কার না দেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছিলেন সিলেটের সাংস্কৃতিক কর্মীদের একটি অংশ।

তাদের অভিযোগ ছিল,‘সাধের লাউ বানাইল মোরে বৈরাগী’ ও ‘বিনোদিনী গো তোর বৃন্দাবন কারে দিয়া যাবি’সহ অন্যের লেখা বা সুর করা বেশ কিছু গান রামকানাই দাশ তার বইয়ে নিজের বলে চালিয়ে দিয়েছেন। 

এ অভিযোগে সিলেটের আরেক লোকসংগীত শিল্পী ও সুরকার বিদিত লাল দাসের করা এক মামলায় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর সিলেটের সিনিয়র সহকারী জজ নাজিয়া নাহিদ ওস্তাদ রামকানাই দাসের লেখা ‘সঙ্গীত ও আমার জীবন’ বইটির প্রচার ও প্রকাশনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

তবে রামকানাই যে দেশের আনাচে-কানাচে হারিয়ে যাওয়া বহু লোকসঙ্গীত সংগ্রহ করে বাংলা গানকে সমৃদ্ধ করেছেন, তা দেশের সংগীতবোদ্ধারা স্বীকার করেন। 

রামকানাইয়ের বাবা রসিকলাল দাশ এবং মা দিব্যময়ী দাশও ছিলেন লোকসঙ্গীতের শিল্পী। লোকসঙ্গীতের ধারা রক্তে থাকলেও রামকানাই সেই গণ্ডি পেরিয়ে ধ্রুপদী সঙ্গীত, বিশেষ করে ‘খেয়াল’ এ মন দিয়েছিলেন। তালিম নিয়েছিলেন তবলাতেও।

গাওয়ার পাশাপাশি তিনি গান লিখছেন এবং সুর করেছেন। সেই সঙ্গে শিক্ষক হিসাবে বহু শিল্পী তৈরি করেছেন তিনি।

১৯৬৭ সাল থেকে সিলেট বেতারে নিয়মিত সংগীত পরিবেশন করে আসা রামকানাইয়ের গানের অ্যালবামগুলো হলো- ‘বন্ধুর বাঁশি বাজে’ (২০০৪); ‘সুরধ্বনির কিনারায়’ (২০০৫); ‘রাগাঞ্জলি’ (২০০৬); ‘অসময়ে ধরলাম পাড়ি’ (২০০৬) এবং ‘পাগলা মাঝি’ (২০১০)।

শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিক্ষা নিয়ে ‘সরল সঙ্গীত শিক্ষা’ নামে একটি বইও লিখেছেন রামকানাই।

সংগীতে অবদানের জন্য একুশে পদক ছাড়াও ২০১২ সালে বাংলা একাডেমির সম্মানসূচক ‘ফেলোশিপ’ এবং ২০০০ সালে ‘রবীন্দ্র পদক’ পেয়েছেন তিনি।

ট্যাগ: