banglanewspaper

জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে একাত্তরের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।

শনিবার দুপুরে ঢাকা পৌঁছানোর পর সফরসঙ্গীদের নিয়ে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান আবে।

দুপুর ২টায় স্মৃতিসৌধে পৌঁছে ফুল দিয়ে বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। এরপর সেখানে পরিদর্শন বইতে সই করেন তিনি।

পরে ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে গিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সোয়া ২টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন শিনজো আবে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও এর আশপাশের এলাকা ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। বন্ধ রাখা হয় দর্শনার্থীদের প্রবেশ।

এক যুগেরও বেশি সময় পরে জাপানের কোনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শনিবার বেলা ১টার দিকে দুই দিনের সফরে সস্ত্রীক ঢাকা পৌঁছান শিনজো আবে।

বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমান থেকে নামার পর দুটি শিশু আবে ও তার স্ত্রীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেয়।

বিমানবন্দরে শিনজো আবেকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অফ অনার দেয়, বাজানো হয় দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত।

এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গার্ড পরিদর্শন করেন আবে। এ সময় জাপান ও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার সামনে এসে মাথা নুইয়ে দুই দেশের পতাকার প্রতি সম্মান জানান তিনি।

পরে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন। শিনজো আবেও তার সফরসঙ্গীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছে ১৫০ জনের বিশাল বহর। এর মধ্যে দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ৫০ কর্মকর্তার সঙ্গে সাংবাদিকদেরও একটি বড় দল রয়েছে।

বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠকের পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে দেখা করবেন।
সোনারগাঁও হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া নৈশভোজে অংশগ্রহণের আগে শিনজো আবের সঙ্গে তার হোটেলকক্ষে সাক্ষাৎ করবেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ।

তিনি ব্যাপটিস্ট মিশন ইন্টিগ্রেটেড স্কুল (বিএমআইএস) এবং ঢাকা নার্সিং কলেজও পরিদর্শন করবেন।

রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউট পরিদর্শন করবেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় জাপানি প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।

গত ১৪ বছরের মধ্যে এটাই জাপানের কোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ঢাকা সফর। শেখ হাসিনা সরকারের প্রথম মেয়াদে ২০০০ সালের অগাস্টে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন জাপানের সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিরো মোরি।

শেখ হাসিনার টোকিও সফরের তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশে আসলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্যে দিয়ে ঢাকা-টোকিও ‘সমন্বিত সম্পর্কে’ গতি আসবে বলে মনে করছে সরকার।গত মে মাসে জাপান সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অগ্রগতির আভাস দিয়েছিলেন।

আবের সফরের আগের দিন এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, বাংলাদেশকে দেয়া জাপানি সহায়তা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে শিনজো আবের সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গত মে মাসে শেখ হাসিনার টোকিও সফরের সময় আগামী চার/পাঁচ বছরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশকে প্রায় ছয়শ কোটি ডলার সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেয় জাপান।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দাতা দেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের পর জাপানের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিকে জাপানের বাণিজ্য বিষয়ক একটি পত্রিকা লিখেছে, চীনকে টপকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে জাপান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সফরকালে শিনজো শনিবার জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও কথা বলবেন।  

দুই প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ বৈঠকের আলোচনায় বাংলাদেশে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে জানান তিনি। 

বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ এরই মধ্যে জাপানকে ৫০০ একর জমি দিতে সম্মত হয়েছে।

মাহমুদ আলী বলেন,“আশা করছি জাপানের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, অবকাঠামো, আইটি, বস্ত্র ও পোশাক খাত, ওষুধ শিল্প এবং অটোমোবাইল খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন।

“টোকিও সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপানে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেয়ার যে আহ্বান জানিয়েছিলেন, আবের সফরে সে বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে বলে আশা করছে ঢাকা।”

বাংলাদেশে ‘পিস বিল্ডিং সেন্টার’ স্থাপনে জাপানের সহায়তা দেয়ার বিষয়েও শিনজো আবের সফরের সময় আলোচনা হতে পারে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে বাংলাদেশ, জাপান ও জাতিসংঘের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্যাগ: