banglanewspaper

কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ) : রবিবার দুপুরে নওগাঁর রাণীনগর সদরে প্রকাশ্য দিবালোকে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান পিন্টুকে (৪৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক ভাবে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা তাকে মূমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করালে তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সদরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান পিন্টু এদিন দুপুর ১২টার দিকে রাণীনগর সদরের বিজয়ের মোড় নামক স্থানে গেলে হঠাৎ করে ৫/৬ টি মোটরসাইকেল যোগে এসে প্রায় ১২/১৪ জন হেলমেট পরিহিত লোকজন  পিন্টুকে ঘিরে ফেলে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এরপর হামলাকালীরা মোটরসাইকেল নিয়েই বীরদীর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এসময় স্থানীয়রা চেয়ারম্যান পিন্টুকে রক্তাক্ত জখম ও মূমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। খবর পেয়ে রাণীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে সন্দেহভাজন সম্ভাব্য বেশ কয়েক জায়গায় অভিযান চালায়। ঘটনার খবর পেয়ে নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 

এদিকে পিন্টুকে জখমের ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নের্তৃত্ববৃন্দ সমন্বয়ে দলীয় কার্যালয়ে জরুরি বৈঠকে বসে। বৈঠকে আজ (রবিবার) বিকেল ৪টায় বিজয়ের মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার কর্মসূচি ঘোষনা করা হয়।

এদিকে হামলার ঘটনায় রাণীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধাণ সম্পাদক মফিজ উদ্দীন, যুবলীগের সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সজলসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জ্ঞাপন করেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন জানান, সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদর ইউনিয়নে নির্বাচিত পিন্টু চেয়ারম্যানের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যায় গোলাম মোস্তফা গোলাম। সেসময়ের পরাজিত প্রার্থী গোলাম মোস্তফা গোলাম ও তার ভাতিজা জনি’র নেতৃত্বে আরো বেশ কয়েকজন মিলে পিন্টুকে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র দ্বারা কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে। 

এ ব্যাপারে রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, রবিবার দুপুরে সদর ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান পিন্টু বিজয়ের মোড়ে পৌছালে গোলাম ও জনি’র নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন একযোগে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিন্টুকে কুপিয়ে গুরুত্বর জখম করে। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও সম্প্রতি গোলামকে মারপিটের ঘটনায় এঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করছেন তিনি। এ ঘটনায় এখনো মামলা না হলেও ওই দুইজন সহ আরো যাদের নাম জানতে পেরেছি তাদেরকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে ।

ট্যাগ: