banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তাঁর নির্ধারিত পূজা মন্ডপ ছাড়া অন্য কোথাও পূজা পালন করলে নাওড়া গ্রামের হিন্দুদের হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আসন্ন দুর্গোৎসব ঘিরে তাদের নির্ধারিত একটি মাত্র পূজা মন্ডপে পূজা না করে অন্যান্য মন্ডপে পূজা উদযাপন করলে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়ার অভিযোগ করেছেন নাওড়া পূর্বপাড়া রায়বাড়ী সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিধান কৃষ্ণ রায়। সে কারনে তারা গত ১৪ সেপ্তেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে জমা দেয়া অভিযোগে উলেখ্য করা হয় যে, ‘অতি দুঃখ ভরাক্রান্ত হৃদয়ে জানাচ্ছি যে, আমি শ্রী বিধান কৃষ্ণ রায়, গ্রামঃ নাওড়া, পোস্ট ও থানা রূপগঞ্জ, জেলাঃ নারায়ণগঞ্জ। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর হইতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সার্বজনীন দুর্গোউৎসব পালনের আকুল ইচ্ছায় পুজা প্রস্তুতি শুরু করেছি। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় এই যে, আমাদের গ্রামের একটি প্রভাবশালী ও স্বার্থান্বেষী মহলের মুল হোতা ভুমিদস্যু রফিকুল ইসলাম ওরফে আন্ডা রফিক ও তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী গত বছরের ন্যায় এবারও গ্রামের হিন্দু সমাজকে দ্বিধাবিভক্ত করে সার্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসবকে বন্ধের জন্য সচেষ্ট হয়েছে। আন্ডা রফিক গ্রামের কুচক্রী হিন্দুদের সঙ্গে নিয়ে আমাদের হিন্দু সমাজকে বিভ্রান্ত করে আমাদের মধ্যে জাতিগত বিভেদ সৃষ্টি করেছে।

জনাবের নিকট উল্লেখ্য যে, গত বছর আন্ডা রফিক ও তাঁর  সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের পূজা মন্ডপে এসে হামলা করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে ও প্রতিমা ভাংচুর করে পূজা বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনা তৎকালীন সকল জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু এই বছর আন্ডা রফিক তাঁর অনুসারীদের নিয়ে শুধুমাত্র একটি পূজা মন্ডবে পূজা করার ঘোষণা দিয়েছে এবং অন্যান্য পূজা মন্ডবে কেউ পূজা উদযাপন করলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। সে একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। তাঁর সাথে সবসময় দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র সহ ৬-৭ জন গানম্যান থাকে যারাযে কোন যায়গায় উপস্তিত হলে মুহূর্তের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা দিনে দুপুরে প্রকাশে গুলি চালায় ও হত্যার হুমকি দেয়।

গত বছরের ন্যায় সে এবারও আমাদের পূজা ভণ্ডুল ও নিরীহ সংখ্যালঘু গ্রামবাসির উপর আক্রমণ করে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য প্রস্তুতিপূর্বক হুমকি দিচ্ছে। যে কোন অবস্থায় পূজা বন্ধের জন্য হুমকিস্বরূপ সতর্ক বার্তা দিয়ে যাচ্ছে।

এমতাবস্থায় আমরা নাওড়াবাসী আমাদের সর্বোচ্চ ও সার্বজনীন ধর্মীয় উৎসব উদযাপন ও নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রচণ্ড শঙ্কায় দিন  কাটাচ্ছি। তাঁর এহেনে কর্মকাণ্ডে আমরা নাওড়াবাসী গত ১৪ সেপ্টেম্বর রূপগঞ্জ থানার সামনে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করেছি।’

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা আছে, ‘এতএব মহোদয়ের নিকট বিনীত নিবেদন এই যে, সার্বজনীন পূজা উদজাপনে বাধা সৃষ্টিকারী ও নিরীহ গ্রামবাসীকে দিনের পর দিন অত্যাচার করা আন্ডা রফিক ও তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করে গ্রামের স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে এনে আমাদের হিন্দু সমাজকে নিজেদের ধর্মীয় উৎসব পাললে সহায়তা করে বাধিত করবেন। আইনের সুশাসন  প্রতিষ্ঠাপূর্বক আমাদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার জন্য জনাবের নিকট আকুল আবেদন রইলো, সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামন করি”।

এই বিষয়ে বিধান কৃষ্ণ রায় বলেন, “গত বছরের মতো এবারও আন্ডা রফিক আমাদের গ্রামের হিন্দু সমাজকে দ্বিধাবিভক্ত করে সার্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসব বন্ধে পায়তারা করছে। গত বছর আন্ডা রফিক ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী পুজা মন্ডপে স্থানীয় সংসদ ও রূপগঞ্জ থানা পুলিশের উপস্থিতিতেই কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে ও প্রতিমা ভাংচুর করে পূজা বন্ধ করে দেয়। গ্রামের অনেক হিন্দু পরিবারকে নির্যাতন করে গ্রামছাড়া করেছে আন্ডা রফিক। এবারও তেমন পরিস্থিতি তৈরির জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। এবার একটি মাত্র মন্ডপে পূজা করার জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছে আন্ডা রফিক ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। তাদের নির্ধারিত মন্ডপ ছাড়াও অন্যান্য মন্ডপে পুজা উদযাপন করলে গ্রামের হিন্দুদের হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিয়েছে। নিজেদের ঘোষনার ব্যতিক্রম কেউ করলে তাকে হত্যা করতে পিছুপা হয় না তারা। আন্ডা রফিকসহ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে গুলি চালায় ও হত্যার হুমকি দেয়।’

বিধান কৃষ্ণ রায় আরো বলেন, ‘পূজা বন্ধের জন্য আন্ডা রফিক ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হুমকিস্বরুপ সতর্কবার্তার বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর রুপগঞ্জ থানার সামনে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করেছে নাওড়াবাসী। এছাড়াও সকল বিষয় উল্লখ্য করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও ভারতীয় দূতাবাসে এর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।’

এই বিষয়ে নাওড়া পূর্বপাড়া রায়বাড়ী সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সেক্রেটারী কাজল কুমার রায় বলেন, গত বছর পুজার অষ্টমীর দিনে রফিকুল ইসলাম ও তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী তাঁর বাড়ির পূজা মন্ডপে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাংচুর করে এবং ফাঁকা গুলি চালায়। এর পর তিনি তাঁর পরিবার নিয়ে বাড়ী থেকে পালিয়ে ঢাকায় আসেন। গত এক বছর ধরে তিনি প্রাণ ভয়ে বাড়িতে ফিরে যেতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন। আর এ বছর রফিকুল ইসলাম হিন্দু সপ্রদায়ের লোকদের ডেকে বলে দিয়েছেন যে শুধু মাত্র তাঁর নির্ধারিত মহা-শ্মশান পূজা মন্ডপেই সবাইকে পূজা পালন করতে হবে। তাদের এলাকায় মোট চারটি পূজা মন্ডপ রয়েছে। সে গুলোতে পূজা পালন করতে গেলে দেখে নেবার হুমকি দিয়েছেন রফিক।

তিনি আরো বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও ভারতীয় দূতাবাসে এর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। এরপর নারায়নগঞ্জের পুলিশ সুপার ও রূপগঞ্জ থানার ভ্রারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাদের এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তাঁর বাড়ীতে যে পূজা মন্ডপটির কাজ চলছে সেখানে পুলিশের পাঁচ জন সদস্য মোতায়েন করা আছে। কিন্তু তবুও তারা নানা রকমের আশঙ্কায় দিন পার করছেন বলে জানান তিনি।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, এমন কোন অভিযোগের বিষয়ে তার জানা নেই। তবে যদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ও পুলিশ সুপার এর কাছে এমন অভিযোগ দেয়া হয়ে থাকে তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ: