banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অস্ট্রেলিয়ার পথে রওনা হয়েছেন। শুক্রবার রাত ৯টা ৫৭ মিনিটে সময় হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন থেকে সস্ত্রীক বের হন প্রধান বিচারপতি।

রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ভিআইপি গেট দিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন তারা। রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এসকিউ ৪৪৭ ফ্লাইটে চড়েন তিনি।

তবে প্রধান বিচারপতির স্ত্রী সুষমা সিনহা তার সঙ্গে ফ্লাইটে রওনা হননি বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার সাব্বির ফয়েজ। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায়, অস্ট্রেলিয়ায় তার মেয়ে সুচনা সিনহার বাড়িতে উঠবেন তিনি ও তার স্ত্রী। তাদের তিন বছরের ভিসা দিয়েছে ঢাকার অস্ট্রেলিয়া দূতাবাস।

এদিকে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সঙ্গে দেখা করতে শুক্রবার তার বাসায় যান স্বজনরা। শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে হেয়ার রোডে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে যান তারা। স্বজনদের মধ্যে ছিলেন প্রধান বিচারপতির ভাই এন কে সিনহা, ভাতিজি জামাই রাজমন সিনহা, সুজিত সিনহা ও রাম কান্ত সিনহা ও শ্যালিকা শিলা সিনহা।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এসকিউ ৪৪৭ ফ্লাইটটিতে রয়েছে এয়ারবাস এ৩৩৩ মডেলের উড়োজাহাজ। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৬টা ৫ মিনিটে সিঙ্গাপুরের চাংগি বিমানবন্দরে অবতরণ করবে ফ্লাইটটি। সেখানে থেকে অন্য একটি ফ্লাইটে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধান বিচারপতি।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে তার বিদেশ ভ্রমণের বিষয়টি চিঠি দিয়ে অবহিত করেন। ওই চিঠিতে আগামী ১৩ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে চান বলে উল্লেখ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে প্রধান বিচারপতির বিদেশ যাওয়া সংক্রান্ত সরকারি আদেশ (জিও) জারি করে আইন মন্ত্রণালয়।

আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকের সই করা ওই আদেশে বলা হয়, প্রধান বিচারপতির আবেদনে এর আগে ৩ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত ৩০ দিনের ছুটি মঞ্জুর করেছিলেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু বিচারপতি আরও বেশি দিন বিদেশে থাকবেন। তাই রাষ্ট্রপতি নতুন আদেশ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২৫ দিনের অবকাশ শেষে ৩ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট খোলার দিনই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ১ নভেম্বর পর্যন্ত এক মাসের ছুটিতে যান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও আইনজীবীদের মধ্যে আলোচনার ঝড় ওঠে। এর আগে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া রায় এবং বিচারিক আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি সংক্রান্ত গেজেট নিয়ে সরকারের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির মত পার্থক্য দেখা দেয়।

এর জের ধরেই প্রধান বিচারপতিকে জোর করে ছুটিতে পাঠানোর অভিযোগ তোলেন বিরোধীদলীয় রাজনীতিবিদসহ আইনজীবী সমিতির একাংশ। তবে সরকার ও আওয়ামী লীগ এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। প্রধান বিচারপতি বা আদালতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারিতে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এস কে সিনহার অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি।

ট্যাগ: