banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিনিধি: আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের জরিপ চালাচ্ছে আওয়ামীলীগ। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ সরকারি-বেসরকারি একাধিক জরিপ শেষে ১৫১ আসনে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত তালিকা শেষ করেছে দলটি। হাইকমান্ড থেকে মনোনয়নের বিষয়টি জানিয়ে নির্বাচনী এলাকায় জনসংযোগ করতে বলা হয়েছে।

এরই মধ্যে কুষ্টিয়া চার আসনের মধ্যে দুই আসনের মনোনয়ন তালিকা চূড়ান্ত করেছে দলটি। তবে আসন গুলোতে মনোনয়ন তালিকার পরিবর্তন হতে পারে বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। তাই এখনও আসনগুলো নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গণভবনে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে একান্ত আলাপে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেই একাধিকবার প্রার্থী জরিপের কথা জানিয়েছেন। ২০০ আসনে প্রার্থী জরিপ চূড়ান্ত হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির গত বৈঠকের আগের বৈঠকে জানিয়েছিলেন সভাপতি নিজেই। এখন ওই ২০০ আসনের মধ্য থেকে ১৫১ জনের মনোনয়ন প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া সদরে আ.লীগের প্রার্থী হানিফ

কুষ্টিয়া সদরে আ.লীগের প্রার্থী হানিফ

এদিকে দলটির সভানেত্রীর মনোনয়ন তালিকায় এরই মধ্যে কুষ্টিয়ার দুইজন মনোনিত হয়েছেন। এর মধ্যে কুষ্টিয়া সদর আসনের বর্তমান সাংসদ সদস্য মাহবুব-উল আলম হানিফ। এলাকায় উন্নয়ন ও রাজনৈতিক ভেদাভেদ দূর করে দলকে সু-সংগঠিত করার কারণে দল তাকে মনোনিত করেছে। তবে আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠনের মধ্যে বেশ কয়েকটি গ্রুপিং সমাধানে দল তাকে তাগাদা দিছে। হানিফ আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আওয়ামীলীগ সরকার প্রথম ২০০৯ সালে ক্ষমতা নেবার পর ‘এমপি’ না হয়েও মন্ত্রী-এমপিদের টপকিয়ে কথা বলে মহাজোট সরকারের ৫ বছরই আলোচিত সমালোচিত ছিলেন হানিফ। এছাড়া হাসানুল হক ইনুর সাথে নমিনেশন দ্বন্দ্ব ছিল হানিফের। শেষে সব কিছু টপকিয়ে ২০১৪ সালের নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ (সদর)আসন থেকে নৌকা প্রতিকে মনোনয়ন পান হানিফ।

পরে তিনি কুষ্টিয়া সদর আসন থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হন। এ সময় হানিফ নৌকা প্রতীক নিয়ে এক লাখ পাঁচ হাজার চারশ’ ৯৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) প্রার্থী রকিব উর রহমান খান চৌধুরী লিটন টেলিভিশন প্রতীকে পেয়েছিলেন মাত্র ছয় হাজার চারশ’ ১২ ভোট। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ছিলো তিন লাখ ৩৩ হাজার পাঁচশ’ ৯৪।

কুমারখালী-খোকসা আসনে আ.লীগের প্রার্থী আব্দুর রউফ

কুমারখালী-খোকসা আসনে আ.লীগের প্রার্থী আব্দুর রউফ:

হানিফের পর আওয়ামীলীগ থেকে মনোনিত হয়েছেন আব্দুর রউফ। তিনি কুষ্টিয়া-৪ কুমারখালী খোকসা আসনের বর্তমান এমপি। ২০০৯ সালে এই আসনে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন পান সুলতানা তরুণ। তবে তিনি ও তার ছেলে পিটারের দূর্নীতির কারণে দল ২০১৪ সালের নির্বাচনে তৎকালীন কুমারখালী উপজেলার চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ নৌকার মনোনয়ন পান। ওই নির্বাচনে তার দলেরই বর্তমান সভাপতি সদর উদ্দিন খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। তবে আব্দুর রউফের কাছে ৫ হাজার ৬শ ৭৪ ভোটের ব্যবধানে তিনি হারেন সদর খান। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রউফ। সে সময় ওই আসনের বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীর কাছে হারেন তিনি। কথিত আছে ভারতের বিশেষ তদবিরে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে মনোয়ন পান তিনি এবং জয় লাভ করেন।

এদিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, বিভিন্ন জরিপের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে বেশকিছু আসনে প্রার্থী বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, প্রথমে আমরা ১৬০টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করব। দুই ধাপে এটি হবে। প্রথম ধাপে ১০০, পরের ধাপে ৬০ প্রার্থী। এরপর যেসব দলের সঙ্গে আমাদের নির্বাচনী জোট রয়েছে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বাকি আসনগুলোয় প্রার্থী ঠিক করা হবে। এক প্রশ্নে তিনি বলেন, চূড়ান্ত প্রার্থীদের অনেককেই চুপচাপ জানানো হচ্ছে, এলাকায় গিয়ে কাজ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে দল থেকে দুই আসনে মনোনয়ন তালিকা ঠিক হলেও কুষ্টিয়া সদর আসনে তেমন আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থী না থাকলেও কুমারখালী-খোকসা আসনে বেশ কয়েকজন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে এলাকায় কাজ করছে।

কুমারখালী আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য বিদ্রোহী প্রার্থী কুমারখালী আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থী

এর মধ্যে রয়েছেন- কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন জাফর, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, খোকসা পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বিটু। তবে দল থেকে আব্দুর রউফ আবার মনোনয়ন পেলে এই তিনজন থেকে একজন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারে বলে মনে করে তৃণমূল নেতৃবৃন্দ। কারণ তাদের অনেক ভোট ব্যাংক রয়েছে।

ট্যাগ: