banglanewspaper

খোকসা প্রতিনিধি: একবিংশ শতকে বাস করেও জান-মাল রক্ষায় ব্যবসায়ীরা। গল্পটা রূপকথা মনে হলেও কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় জান-মাল রক্ষায় বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ীরা নিজেরায় দল বেঁধে বাজার পাহারা দেয়া শুরু করেছে।  ডিফেন্স পার্টি গঠন করে রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিচ্ছে সাধারণ মানুষ।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও গ্রামবাসীর দাবি, দুর্বৃত্ত দমনে ব্যর্থ হয়ে পুলিশ তাদের পাহারা দিতে বাধ্য করেছে। জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলা সদরের খোকসা জানিপুর বাজার, শোমসপুর বাজার, শ্যামপুর, পদ্মাবিলা, মির্জাপুর, বসোয়া, শিমুলিয়াসহ ১০টিরও বেশি গ্রামে চুরি ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধি পায়। সর্বশেষ থানা থেকে ৫০০ গজ দূরের খোকসা জামে মসজিদ মার্কেটের সামনের একটি কাপড়ের দোকান থেকে এক রাতে প্রায় ৬ শাড়ি পিস ড়ি কাপড় লুট হয়। ওই রাতে দুর্বৃত্তরা বাজারের নৈশপ্রহরীদের চোখে ধুলোদিয়ে দোকানটির সামনে মিনি ট্রাক রেখে ঘরের সাটারের তালা ভেঙে প্রায় ৬ লাখ টাকার কাপড় নিয়ে যায়।

এরপর থেকে ২ সপ্তাহ ধরে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বাজারের ২৪ জন ব্যবসায়ী বাজার কমিটির নিয়োগ দেয়া ৯ জন নৈশ প্রহরীকে সঙ্গে নিয়ে পালাক্রমে ৮শ’ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পাহারা দিচ্ছেন। বাজার পাহারার সময় নিজেদের নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে অনেকে উদ্বিগ্ন থাকেন বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।

এছাড়া উপজেলার ১০টিরও বেশি গ্রামের মানুষ নিজেদের নিরাপত্তায় ডিফেন্স পার্টি গঠন করে রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিতে বাধ্য হচ্ছে।  প্রত্যেক ব্যাবসায়ীর গলায় আলাদা আলাদা ফিতায় পরিচয়পত্র আর একটি করে বাঁশি ঝুলছে। তবে তাদের কাছে এক খানা বাঁশের লাঠিও নেই। এই দলের প্রধান ব্যবসায়ী গোলাম ইয়াসিন স্বপন জানায়, সারাদিন ব্যবসা বাণিজ্য করার পর তারা অনেকটা বাধ্য হয়ে বাজার পাহারায় এসেছে। তারপরেও বাজার নিরাপদ রাখতে পারছেন না। এ দলের অনেক ব্যবসায়ী পাহারায় অনিহার কথা জানায়।

বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বলেন, ২৫-২৮তারিখের মধ্যে ব্যবসায়ীরা  নিজেদের মধ্যে অালোচনায় বসবে।অালোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে পাহারা থাকবে কিনা?

এছাড়াও তিনি অারও বলেন,বাজারে একটি দোকান থেকে ট্রাকে করে কাপড় লুটের পর ব্যবসায়ীরা ভেঙে পড়েছেন। নিরাপত্তাহীনতা থেকে মুক্তির জন্য তাৎক্ষণিকভাবে পাহারার উদ্যোগ নেয়া হয়। ভেতরে ভেতরে পুলিশের ওপর চাপ দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, নিজের সম্পদ নিজেকেই রক্ষা করতে হবে। ডিউটি পার্টি চলাতে নিরাপত্তাবলয় বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও দাবি করেন পুলিশের এ কর্মকর্তা। তার দাবি সবাই বিষয়টি স্বত:স্ফূর্তভাবে করছে। পুলিশ ছিল আছে এবং থাকবে।

ট্যাগ: