banglanewspaper

মামলা জটিলতার পর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের প্রশাসনিক এলাকায় চলছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর ভবনের নির্মাণ কাজ। বেশ ভালো গতিতেই এগিয়ে চলেছে কার্যক্রম।
 
মাটি ভরাট শেষে ও সোর ফাইলিংয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে। ভবন নির্মাণ ফাইল অনুমোদনের জন্য ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
 
সব কিছু ঠিক থাকলে ২০১৬ সালেই ভবন নির্মাণ শেষ হবে। আর সেক্ষেত্রে আগামী বছর নতুন ভবনেই জাতীয় আয়কর মেলার আয়োজন করা যাবে বলে প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে।
 
২০ তলা ফাউন্ডেশনে ১২ তলা ভবন নির্মাণ হওয়ার কথা থাকলেও এখন ৪০ তলা ভবন নির্মাণে গণপূর্ত ও স্থাপত্য অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান।
 
তিনি বলেন, ‘গণপূর্ত প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূঞা এবং স্থাপত্য অধিদফতরের প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির ৪০ তলা ভবন নির্মাণে আশ্বস্ত করেছেন’।
 
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে নির্মাণধীন ভবনের প্লটে এ ভবন হবে। রাজস্ব ভবন হবে দেশের সর্বোচ্চ ভবন। নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।
 
সূত্র জানায়, আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকায় কর ভবনের জন্য তিন একর জায়গা বরাদ্দ দেয় সরকার। পরে মামলা জটিলতা তা আটকে যায়।
 
১৯৮০ সাল থেকে চলমান মামলার পর ২০১১ সালে রায় পায় এনবিআর। ২০১১ সালের ৯ এপ্রিল মাটি কাটার কাজ শুরু হলে আবারও তার ওপর স্থগিতাদেশ দেন আদালত।
 
২০১৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত রায় পেয়ে এপ্রিলে জায়গা দখল করে এনবিআর। তবে এসময় গণপূর্ত বিভাগের ৮১ শতাংশ জায়গা অতিরিক্ত দখল করে ফেলে তারা।
 
সূত্র জানায়, ৪০ তলা ভবন নির্মাণ বিষয়ে সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবে এনবিআর। সিদ্ধান্ত অনুসারে মূল ভবনের কাজ শুরু হবে।
 
মাটি ভরাট ও সোর ফাইলিং কাজ করছেন শামীম এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প কর্মকর্তারা।
 
সূত্র আরও জানায়, এপ্রিলের পর মূল ভবন নির্মাণে টেন্ডার আহ্বান করে এনবিআর। ২৫ সেপ্টেম্বর দরপত্র খোলা হয়। সর্বনিন্ম দরদাতা একটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদনের জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
 
গৃহায়ণ থেকে ৭ ডিসেম্বর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠানো হয়েছে। ১১ ডিসেম্বর অনুমোদনের জন্য ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
 
‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নির্মাণ প্রকল্প’ নামে প্রকল্পটি ২০০৮ সালের নভেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদন পায়।
 
প্রকল্প মেয়াদ ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়। পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সভায় ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করে।
 
১৪১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১০-১১ অর্থবছরে ২০ তলা কর ভবন নির্মাণ কাজ দু’টি স্তরে শুরু হওয়ার কথা ছিল।
 
জিওবি (সরকারি তহবিল) অর্থায়নে জিবিবি লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে এ কাজ দেওয়া হয়েছে।
 
প্রাথমিক পর্যায়ে ১২ তলা নির্মাণের জন্য ৮৬ কোটি টাকা এবং এরপর আরও ৫০ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দ রাখা হয়। ৪০ তলা হলে নতুন করে বরাদ্দ বাড়ানো হবে।
 
২০১১ সালের ৯ এপ্রিল এনবিআর’র তত্কালীন চেয়ারম্যান ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদ ভৌত কাজের উদ্বোধন করেন।
 
সূত্র জানায়, সর্বোচ্চ প্রযুক্তি নির্ভর রাজস্ব ভবন হবে মহানগরী ও সরকারি ভবনের মধ্যে আগামী দিনের অন্যতম ‘আইকন বিল্ডিং’।
 
সুদৃশ্য পার্কিং ব্যবস্থার জন্য থাকবে একাধিক বেজমেন্ট। ভবন সিরামিক ব্রিক, অ্যালুমিনিয়াম উইনডো ও পার্টিশন ওয়াল ও গ্লাস কার্টেন ওয়ালসহ নির্মিত হবে এটি।
 
থাকবে অত্যাধুনিক লিফট, স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর, ইলেকট্রিক সাবস্টেশন, সেন্ট্রাল এয়ারকন্ডিশনিং সিস্টেম, ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম, ডিপ টিউবওয়েল, ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেম ও রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং সিস্টেম।
 
নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক দুই বা ততোধিক মেটাল ডিটেক্টর সিস্টেম, অত্যাধুনিক মিলনায়তন ও প্রশিক্ষণের জন্য পৃথক ট্রেনিং রুম, রেস্ট হাউস ও ডরমিটরির ব্যবস্থাও থাকবে। সৌন্দর্য বর্ধনে ভবনের সামনে স্থাপিত হবে পানির ফোয়ারা, ভাস্কর্য এবং সুদৃশ্য বাগান।
 
কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক মো. বশির উদ্দিন আহমেদ বলেন, মাটি ভরাট শেষে প্রতিদিন ৩-৪টি করে ফাইলিং হচ্ছে।
 
তিনি বলেন, মূল ভবন নির্মাণ দরপত্র অনুমোদনের জন্য ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে দ্রুত অনুমোদন হয়ে গেলে কাজ শুরু হবে।
 
কাজের বর্তমানে যে গতি তাতে ২০১৬ সালের জাতীয় আয়কর মেলা নতুন ভবনে করা যাবে বলে জানান বশির উদ্দিন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বর্তমান পাঁচতলা ভবনটি পিডব্লিউডি প্রায় আড়াই লাখ টাকায় ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ট্যাগ: