banglanewspaper

ব্রিটেনে সাধারণ নির্বাচনে লড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ১২ প্রার্থী। শুধু লড়ছেনই না, রীতিমতো বিজয়ের বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে মাঠে তারা। আর সে কারণেই এবার ব্রিটেনের নির্বাচনে সবার দৃষ্টি এখন এই বাংলাদেশি প্রার্থীদের ওপর। তবে নানা দিক বিবেচনায় এগিয়ে আছেন তিন প্রার্থী। এর মধ্যে সাবেক এমপি রুশনারা আলীর জয় মোটামুটি নিশ্চিত বলে মনে করছেন সবাই। এ ছাড়া সম্ভাবনার পথে এগিয়ে আছেন লেবার দলের অন্য দুই প্রার্থী টিউলিপ সিদ্দিক ও রূপা হক। এবার যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আলাদা আমেজ তৈরি হয়েছে। ব্রিটেনে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের মতে, এ নির্বাচন হবে তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি বড় মাইলফলক। গত রবিবার ছিল নির্বাচনের আগে শেষ সাপ্তাহিক ছুটির দিন। দেশটির নির্বাচনী ভাষায় দিনটিকে বলা হয় ‘কি সিট ডে’। এদিন তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ (মার্জিনাল) আসনগুলোকে দখলে নিতে শেষবারের প্রচারণা চালানো হয়। লন্ডনের এমন দুটি ‘কি সিট’ হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনে টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক এবং ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসনে রূপা হক লড়ছেন লেবার দলের প্রার্থী হিসেবে। আসন দুটি এবার লেবার দলের অন্যতম টার্গেট সিট। রবিবার ওই দুই আসনে তুমুল প্রচারণায় অংশ নেন বাংলাদেশি দুই প্রার্থী। ২০১০ সালে পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনে লেবার দলের প্রার্থী রুশনারা আলী প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন। এবারও প্রায় নিশ্চিত জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে ওই আসনে প্রার্থী হয়েছেন তিন। গত নির্বাচনে প্রায় ১১ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হওয়া রুশনারার জন্ম ১৯৭৫ সালে সিলেটের বিশ্বনাথে।এরপরই ফোকাসে আছেন টিউলিপ সিদ্দিক ও রূপা হক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক এমপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন হ্যাম্পস্ট্যান্ড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনে। যুক্তরাজ্যের প্রথম সারির মিডিয়া এখন তাকে নিয়েই মাতামাতি করছে বেশি। অন্যদিকে লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসনে লেবার দলের প্রার্থী হয়েছেন রূপা হক। তিনি কিংস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক। ১৯৭২ সালে ইলিংয়ে জন্ম নেওয়া রূপার বাড়ি বাংলাদেশের পাবনায়। তিনিও ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন। লন্ডনের বেকেনহাম আসনে প্রার্থী হয়েছেন মেরিনা আহমদ। লেবার দল সমর্থিত এই প্রার্থীর জন্ম বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে। ছয় মাস বয়সে মেরিনা মাবাবার সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাড়ি দেন। লুটনের রিগেইট অ্যান্ড বেনস্ট্যাড আসনে লেবার দলের প্রার্থী আলী আকলাকুল। তার জন্ম লুটনে হলেও বংশের শেকড় সিলেটের বালাগঞ্জে। লিবডেম থেকে মনোনয়ন পাওয়া তিন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী হলেন প্রিন্স সাদিক চৌধুরী, আশুক আহমদ ও মোহাম্মদ সুলতান। সিলেটে জন্ম নেওয়া ব্যবসায়ী প্রিন্স সাদিক লড়ছেন নর্থ হ্যাম্পটন সাউথ আসনে। তিনি ২০০৭ সালে নর্থহ্যাম্পটনশায়ার কাউন্সিল নির্বাচনে বিজয়ী প্রথম বাংলাদেশি কাউন্সিলর। আশুক আহমদ প্রার্থী হয়েছেন লুটন সাউথ আসনে। তার জন্ম সিলেটের বিয়ানীবাজারে। অন্যদিকে মোহাম্মদ সুলতান লিবডেমের সমর্থন নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন ওয়েলসের আর্ফন আসনে। তার বাড়িও সিলেটের দক্ষিণ সুরমায়। লন্ডন সিটির কাছেই ওয়েলউইন অ্যান্ড হার্টফিল্ড আসনে লেবার দলের প্রার্থী আনোয়ার বাবুল মিয়া। তিনি লড়ছেন কনজারভেটিভ দলের চেয়ারম্যান ও মন্ত্রী গ্রান্ট শ্যাপের সঙ্গে। নর্থ ইস্ট হ্যাম্পশায়ার আসনে লেবার দলের সমর্থন পেয়েছেন আমরান হোসাইন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়ুয়া আমরানের জন্ম যুক্তরাজ্যে, আদি বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জে। কনজারভেটিভ পার্টির আরেক উজ্জ্বল প্রার্থী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মিনা রহমান। যদিও ১৯৯৪ সাল থেকে এ আসনে লেবার দলের মার্গারেট এমপি হয়ে একক আধিপত্য করছেন। লেবার দলের এটি একটি নিরাপদ আসন হলেও জয়ের লক্ষ্য নিয়েই লড়ছেন মিনা। তার জন্ম সিলেটের ছাতকে। আইন বিষয়ে পড়াশোনা করে মিনা বর্তমানে একটি আবাসন সংস্থার ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছেন। স্কটল্যান্ডের অ্যাবার্ডিনশায়ারের বেনক অ্যান্ড বুখান আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন সুমন হক। স্টকল্যান্ডে জন্ম নেওয়া সুমনের আদি বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকে। তিনিও লেবার দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। কিন্তু মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে আদালতে হাজিরা দেওয়ায় তার ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে দল। যুক্তরাজ্যের ৫৬তম এ পার্লামেন্ট নির্বাচনে এবার প্রধান তিনটি দলের সমর্থনসহ ১২ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী অংশ নিড়েবছন।

ট্যাগ: