banglanewspaper

পেপ গার্দিওলার কথাটাই সত্যি হলো। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বায়ার্ন মিউনিখের ডিফেন্সকে রীতিমত দিশেহারা করে রাখেন লিওনেল মেসি। যেন সেই পুরনো মেসি। তার জাদুকরী কিছু মুহূর্ত উপভোগ করেন গ্যালারিতে থাকা হাজার হাজার দর্শক। এই আর্জেন্টাইন তারকার ম্যাজিকে বায়ার্নকে ৩-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল কাতালানরা।

জোড়া গোল করে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় নিজের ১০০তম ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখেন মেসি। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে টপকে হয়ে যান চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা (৭৭ গোল)। অপরদিকে, ন্যু ক্যাম্পে গার্দিওলার প্রত্যাবর্তনটাও হতাশায় পরিণত হয়। বায়ার্ন যে এভাবে অসহায় আত্মসমর্পন করবে তা মনে হয় কল্পনাও করেননি এই স্প্যানিশ কোচ। আর বাজিমাত করেন লুইস এনরিক।

বায়ার্নের বিপক্ষে মধুর প্রতিশোধও নিয়ে নিল বার্সা। দু’বছর আগে জার্মান জায়ান্টদের বিপক্ষে সেমিফাইনালের দুই লেগ মিলিয়ে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল জাভি-ইনিয়েস্তারা। তবে, এ ম্যাচে অবশ্য বাভারিয়ানদের দুই সেরা অস্ত্র ফ্রাঙ্ক রিবেরি ও আরিয়েন রোবেন ইনজুরির কারণে দলের বাইরে ছিলেন।

ন্যু ক্যাম্পে ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে বার্সা। ৮ মিনিটেই বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে একা পেয়েও গোলবঞ্চিত হন লুইস সুয়ারেজ। চার মিনিট পরেই আরো একটি সুযোগ হাতছাড়া করেন নেইমার। ৩৮ মিনিটে অবশ্য বায়ার্নের হয়ে নিশ্চিত গোলের সুযোগ নস্যাৎ করেন রবার্ট লেভানডফস্কি। প্রথমার্ধ থাকে গোলশূণ্য ড্র।

দ্বিতীয়ার্ধেও নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখে স্বাগতিকরা। কিন্তু, মুহুমুর্হু আক্রমন করেও জালের ঠিকানা খুঁজে পাচ্ছিল না মেসি-নেইমার-সুয়ারেজরা। অপরদিকে, বার্সার সামনে বাধার দেয়াল হয়ে দাঁড়ান নয়্যার। বেশ কয়েকবার দলকে বিপদমুক্ত করেন বিশ্বসেরা এই জার্মান গোলরক্ষক।

অবশেষে ৭৭ মিনিটে দানি আলভেজের পাস থেকে ডি-বক্স থেকে বাম পায়ের দুর্দান্ত শটে লক্ষ্যভেদ করেন মেসি। তিন মিনিট পরেই ইভান রাকিটিচের কাছ থেকে বল পেয়ে ডিফেন্ডার জেরম বোয়েটেংকে কাটিয়ে গোলপোস্টের ডান প্রান্তে হাজির হন। সেখান থেকে পায়ের আলতো টোকায় নয়্যারের মাথার উপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল আদায় করে নেন চারবারের এই বিশ্বসেরা ফুটবলার। সঙ্গে সঙ্গেই গ্যালারিতে থাকা সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন।

খেলা যখন শেষের পথে তখনই বায়ার্নের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন নেইমার। নেপথ্যে সেই মেসি। তার পাস থেকে বল নিয়ে জার্মান গোলরক্ষকের মুখোমুখি হয়ে ডান পায়ের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে উৎসবের রঙটা আরো গাঢ় করেন এই ব্রাজিলিয়ান সেনসেশন।

উল্লেখ্য, ১৩ মে অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় সেমিফাইনালের ফিরতি পর্বের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। ফাইনাল নিশ্চিত করতে হলে বায়ার্নকে কমপক্ষে ৪-০ গোলে জিতবে হবে। দুরন্ত বার্সার বিপক্ষে গোতজে-মুলাররা এমন সমীকরণ মেলাতে পারবে কিনা তা সময়েই বলে দিবে।

ট্যাগ: