banglanewspaper

নেপাল, ভুটান ও ভারত আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে মংলা বন্দর ব্যবহার শুরু করলে বছরে বন্দরের আয় বেড়ে দ্বিগুণ হবে। বর্তমানে নেপাল ও ভুটান আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ভারতের হলদিয়া বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া সমুদ্রবন্দরের পণ্য ও জাহাজ জট কমিয়ে আনাসহ তার পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যে দ্রুত পণ্য পাঠাতে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ব্যবহার প্রয়োজন ভারতের। এ অবস্থায় গত ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরকালে এই তিনটি দেশকে মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর ফলে এখন এই তিনটি দেশ দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর হিসেবে মংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। ইতিমধ্যে এই সমঝোতা স্মারকের আলোকে ভারত চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার শুরু করেছে। মংলা বন্দর সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। মংলা বন্দর সূত্র জানায়, ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে ভারত সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের দুটি সমুদ্রবন্দর ব্যবহারে ভারতকে সম্মতি জানায়। একই সঙ্গে নেপাল ও ভুটান বাংলাদেশের দুটি সমুদ্রবন্দর ব্যবহারে ভারতকে তার সড়কপথ ব্যবহার করতে অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানায়। এরই প্রেক্ষাপটে ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরকালে সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর আগে ১৯৯৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৯৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নেপাল পরীক্ষামূলকভাবে বাংলাদেশের মংলা সমুদ্রবন্দরের মাধ্যমে ভারতীয় সড়ক ব্যবহার করে বহির্বিশ্বের সঙ্গে তার আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালায়। এরপর ভারত তার সড়কপথ ব্যবহার করতে না দেওয়ায় নেপাল আর মংলা বন্দর ব্যবহার করতে পারেনি। বর্তমানে নেপাল ও ভুটান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া বন্দরের ওপর নির্ভরশীল হলেও ওই বন্দরটিতে লেগেই থাকে জাহাজ ও পণ্যজট। দূরত্ব বেশি থাকার কারণে ওই বন্দরটি ব্যবহার করতে নেপাল ও ভুটানকে অধিক অর্থ ব্যয় করতে হয়। এখন নেপাল ও ভুটান জাহাজ জট ছাড়াই কম দূরত্বে বাংলাদেশের মংলা বন্দর ব্যবহার করে দ্রুত সময়ে পণ্য আনা-নেওয়া করতে পারবে। এতে নেপাল ও ভুটান কম খরচে বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাদের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য করতে পারবে। স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আলোকে মংলা বন্দর ব্যবহারে একই সুবিধা পাচ্ছে ভারত। ভারত এখন বালাদেশের সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে দ্রুত সময়ে ও কম খরচে তার পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যে দ্রুত পণ্য পাঠাবে। এর ফলে ভারত, নেপাল ও ভুটানসহ আর্থিকভাবে লাভবান হবে বাংলাদেশ। মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (অপারেশন ) মো. আলতাফ হোসেন ভারত, নেপাল ও ভুটান মংলা বন্দর ব্যবহারের বিষয়টিকে বন্দরের জন্য ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে জানান, এই তিন দেশ মংলা বন্দর ব্যবহার শুরু করলে বন্দরের আয় বছরে দ্বিগুণ হবে। তিনি জানান, গত অর্থবছরে মংলা বন্দরের আয় হয় ১৫৫ কোটি টাকা। খরচ বাদে বন্দরের নিট লাভের পরিমাণ ছিল ৫৩ কোটি টাকা। এই তিন দেশের আমদানি-রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় কার্গো, লাইটারেজ জাহাজ ও ভেসেল রয়েছে। মংলা বন্দরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো রয়েছে। বন্দরে একসঙ্গে ৩৩টি জাহাজ নোঙ্গরের সুবিধা রয়েছে। ৪টি ট্রানজিট শিট ও ২টি ওয়্যার হাউস রয়েছে। সেখানে ৬০ হাজার মেট্রিক টন পণ্য রাখার সুবিধা রয়েছে।

 এ ছাড়া ৩টি কনটেইনার ইয়ার্ড ও গাড়ি ইয়ার্ডে ২ হাজার গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। গত অর্থবছরে মংলা বন্দরে ৩৫ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন পণ্য ওঠানামা করে। চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে ইতিমধ্যে ৩৬ লাখ ৮১ হাজার টন পণ্য ওঠানামা করেছে।

ট্যাগ: