banglanewspaper

মো:মোজাম্মেল ভূইয়া, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: বুধবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার মো: মিজানুর রহমানকে বিদায়ী সংবর্ধনা দিয়েছেন আখাউড়া থানা পুলিশ। পুলিশ সংর্বধনার আয়োজন করলেও মানুষের ভিড়ে এক সময় তা গণসংর্বধনায় পরিণত হয়। ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ নামে খ্যাত পুলিশ সুপার মো: মিজানুর রহমানকে আখাউড়াবাসী বিদায়ী ভালোবাসা আর ফুলেল শুভেচ্ছার বন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছেন।

পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, আওয়ামীলীগ, পৌরসভা, শিক্ষক সমাজ, আখাউড়া প্রেসক্লাব থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো: মিজানুর রহমান পিপিএম (বার)কে ফুলে ফুলে সিক্ত করে তুলেন।

ক্রেষ্ট দিয়ে সম্মান জানিয়েছেন কসবা-আখাউড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল করিম, আখাউড়া পোরসভার মেয়র, আখাউড়া থানা পুলিশ, আখাউড়া রেলওয়ে থানা পুলিশ, আখাউড়া প্রেসক্লাব, কমিউনিটি পুলিশ, যুবলীগ, আখাউড়া টিভি, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণসহ ১১টি প্রতিষ্ঠান।

 বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন তরফদারের সভাপতিত্বে থানার মাঠে অনুষ্ঠিত বিদায়ী সংর্বধনা অনুষ্ঠানে ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (হেডকোর্য়াটার) মো: আবু সাইদ, কসবা-আখাউড়ার সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল করিম, আখাউড়া পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল, উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন, আখাউড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি জেসমিন সুলতানাসহ আখাউড়া উপজেলার সরকারী বেসরকারী অফিস, সংগঠন, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংবাদিক, শিক্ষক সমাজের নেতৃবৃন্দরা।

পুলিশ সুপার মো: মিজানুর রহমান বলেছেন,আখাউড়া দেশের পবিত্র স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাঙালী জাতীয়বাদ আর ধর্মীয় ভাবে পবিত্র স্থান এই আখাউড়া। দেশের মুক্তিযোদ্ধের পূর্বাঞ্চল প্রবেশদ্বার, মুক্তিযোদ্ধের সময়ের আখাউড়া-আগরতলার সমন্বয়, বীর শ্রেষ্ট শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামালের সমাধি ও খড়মপুরে কল্লাহ শাহ বাবার মাজার শরীফ আখাউড়া উপজেলাতে।

তিনি আরো বলেছেন, কিছু রাজনৈতিক হিংস্র হায়ানার মাধ্যমে যারা তাদের সুবিধার জন্য, তাদের লাভের জন্য এই পবিত্র জায়গাকে মাদকের বিষাক্ত ছোবল দিয়ে, বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড দিয়ে দুষিত পদদলিত করেছে। আমরা সেই জায়গা থেকে আমাদের আইনমন্ত্রী মহোদয়ের নেতৃত্বে আবার আখাউড়া জেগে উঠছে, আখাউড়া পবিত্র জায়গার দিকে ছুটে যাচ্ছে।
 
তিনি আরো বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাথে যে সম্পর্ক আমার তৈরী হয়েছে তা রক্তের সম্পর্কের চেয়ে বড় হয়েগেছে। এই সম্পর্ক কখনো ছিন্ন হবার নয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ আমার পাশে থেকে সহযোগীতা করায় সফলতা এসেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছে তা কখনো ভুলতে পারব না। চাকুরী জীবনে আমার সবচেয়ে বেশি প্রাপ্তি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাতেই।

পুলিশ সুপারের বিদায় সংর্বধনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন তরফদার। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্যামল কান্তি দাস, আখাউড়া থানার ওসি তদন্ত আরিফুল আমিন, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক সেলিম ভুইয়া, আবুল কাশেম ভু্ইয়া, মনির হোসেন বাবুল, মুক্তিযোদ্ধা জামসেদ শাহ, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাড: আব্দুল্লাহ ভুইয়া বাদল, আখাউড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো: মানিক মিয়া, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল মমিন বাবুল, আখাউড়া প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি জুটন বনিক, সাধারন সম্পাদক নুরুন্নবী ভুইয়া, সাংবাদিক বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ও মো মোজাম্মেল ভূইয়া, উত্তর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান স্বপন, ধরখার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আরিফুল বাছির, দক্ষিন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন, শিক্ষক মৌসুমী আক্তার, সেকের মিয়া, ফাতেমা বেগম, মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।

উল্লেখ্য যে,  পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যোগদানের পর আইনশংঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জেলা পুলিশকে মানবিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরকারী শিশু পরিবারের নিবাসী হাবিবা আক্তারের অভিভাবকত্ব গ্রহন করে তার রাজকীয় বিয়ে আয়োজনের মাধ্যমে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হন। এছাড়া গণপরিবহন ব্যবস্থাকে প্রতিবন্ধিবান্ধবকরণ, প্রতিবন্ধি শিশু মৌসুমীকে সুস্থ্য করে তুলা, উত্তরাঞ্চলের বন্যা দুর্গতদের সাহায্যার্থে তহবিল গঠন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া টাউন খাল পরিস্কার ও শহরের জোড়া সেতুর সৌন্দর্য্যবর্ধনসহ জনকল্যাণে করা আরও বেশ কিছু কর্মকান্ডে মিজানুর রহমানকে দিয়েছে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ উপাধি। তার মানবিক কর্মকান্ড নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। এছাড়া তিনি সীমান্তবর্তী আখাউড়া উপজেলাসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মাদকসহ নানা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বলিষ্ট ভূমিকা পালন করেছেন।

ট্যাগ: banglanewspaper আখাউড়া