banglanewspaper

ফরহাদ খান, নড়াইল : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার পারমল্লিকপুর গ্রামে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় উদ্যোগ নিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম।

শনিবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে পারমল্লিকপুর ফুটবল খেলার মাঠে কমিউনিটি পুলিশিং ও লোহাগড়া থানা পুলিশের আয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হাই সরদারের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, নড়াইলের প্রতিটি ইউনিয়ন, পাড়া-মহল্লায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কোনো এলাকায় যেন অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করে যাচ্ছে নড়াইল জেলা পুলিশ প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা কবলিত গ্রাম পারমল্লিকপুরে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এজন্য দুইপক্ষসহ সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। তবে যারা গ্রামে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। 

মল্লিকপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম পিপিএম, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান, লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু, লোহাগড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এম আরাফাত হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা ফকির মফিজুল হক, লোহাগড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম, ডিবির ওসি আমিনুজ্জামান, জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি শিকদার আজাদুর রহমান, লক্ষীপাশা ইউপি চেয়ারম্যান কাজী বনি আমিন, আ’লীগ নেতা শেখ সিহানুক রহমান, মল্লিকপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি শামসুল আলম কচি, জাকির  হোসেন, সৈয়দ শরিফুল ইসলাম, মল্লিকপুর ইউপি সদস্য উজ্জ্বল ঠাকুর, আল আমিন, লিটন শরীফ, হাসিনা বেগম প্রমুখ। 

জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গত ২১ এপ্রিল সকালে লোহাগড়া উপজেলার পারমল্লিকপুর গ্রামে দুইপক্ষের সংঘর্ষে নলকূপ মিন্ত্রি খায়ের মৃধা (৩৮) নিহত এবং এক শিশু, দুই ছাত্রলীগ নেতাসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশ ২৫ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে লোহাগড়ার পারমল্লিকপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুর ও মৃধা গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলে আসছে। এর ধারাবাহিতকায় প্রায় দেড় বছর আগে মৃধা পক্ষের নূর ইসলাম (৫৫) ও ইকবাল মৃধাকে (৪২) কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। এরপর দুইপক্ষের দ্বন্দ্ব-সংঘাত প্রকট আকার ধারণ করে। এর জের ধরে গত ২১ এপ্রিল ঠাকুর পক্ষের খায়ের মৃধা (৩৮) নিহত হন। খায়ের বংশীয় ভাবে মৃধা হলেও ঠাকুর গ্রুপের লোক ছিলেন। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় মৃধা পক্ষের ৫১ জনের নামে মামলা হয়। এ পরিস্থিতিতে নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের উদ্যোগে পারমল্লিকপুর গ্রামে আইন-শ্ঙ্খৃলা রক্ষায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত ১০ ও ৪ এপ্রিল মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় লোহাগড়া উপজেলার আমাদা গ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার  অঙ্গীকার নিয়ে দুইপক্ষের লোকজন পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

এতে আমাদা গ্রামের দীর্ঘ ছয়মাসের দ্বন্দ্ব-সংঘাতের অবসান করা হয়। এদিকে, সদর উপজেলার চৌগাছা গ্রামে দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিরসনে গত ১৪ এপ্রিল চৌগাছায় দুইপক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে গত ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় চৌগাছা থেকে ২২টি ঢাল, ৫০টি সড়কি ও রামদাসহ ৩০টি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তিনজনকে আটক করা হয়।

ট্যাগ: banglanewspaper নড়াইল