banglanewspaper

অনেক হয়েছে রেষারেষি, অনেক হয়েছে ভাগাভাগি দয়াকরে এবার থামুন! শুধুমাত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সন্তানদের সামান্য মনোমালিন্যের সুযোগে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে দেশদ্রোহী মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী হায়েনার দল।

স্বাধীনতার পরের প্রজন্ম আমরা, জন্মের পর থেকেই দেখে দেখে ক্লান্ত হয়ে গেছি আমাদেরই বাবা- চাচাদের মধ্যে মতোবিরোধের জেরে কিভাবে সম্মান হারাচ্ছি আমরা সাথে সাম্মান হারাচ্ছেন আমাদের বীর বাবা- চাচারাও।

আমাদের বাবা- চাচাদের বয়স হয়েছে তারা এখন একটু বেশী অভিমানী হবেন এটাই স্বাভাবিক - তাদের চোখের সামনে কেউ কেউ দুর্নীতি করে সম্পদের পাহাড় গড়বেন, আবার কেউ অনাহারে, অর্ধাহারে, বিনাচিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মারা যাচ্ছেন এসব দেখে তাদের মধ্যে এই রেষারেষি বা মনোমালিন্যের সূত্রপাত হয়েছে, এটা আমরা প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা জানলে কেউ এগিয়ে এসে সে মনোমালিন্য ঠিক করে দেয়নি বা জীবনে কেউ ঠিক করে দিবে সেটা আশা করাও ভুল।

কারণ দেশে হায়েনার দল সদা জাগ্রত রয়েছে সেই ৭১ এর পর থেকেই।  হায়েনার বংশধরও এখন ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। ওদের বংশানুক্রমে প্রধান কাজই হলো বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যের সামান্য দ্বন্দ্ব কে উস্কে দিয়ে নিজেরা নিজেদের মধ্যে অপমান পালটা অপমানের নোংরা খেলায় মাতিয়ে রাখা। আর আমরা প্রতিনিয়ত সেই নোংরা ষড়যন্ত্রকারীদের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে বাড়িয়ে তুলছি নিজেদের দ্বন্দ্ব !

যার ফলশ্রুতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের মধ্যে হয়েছে হাজারটা ভাগ, হয়েছে হাজারো সংগঠন। আর দুঃখের ব্যাপার হলো যারযার সংগঠন থেকে আমরা নেজেরা নিজেদের ভাবছি " আমার চেয়ে বড় কে - আমি ই সেরা" টাইপ ভাবনা। সেকারণে আমরা কখনোই একাত্ম হতে পারিণা। এক সংগঠন কে সমাবেশের ডাক দিলে হিংসা করে আরেক সংগঠন পালটা সমাবেশ ডাকি, যাতে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা আমাদেরই অন্য ভাইদের সংগঠনে মানুষ কম হয়। অথচ একবার ও ভাবিনা আমরা সবাই সেই একই বীর বাবাদের সন্তান, যারা ধনী দরদ্র সব ভেদাভেদ ভূলে একজনের ডাকে দেশের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। 

ভুলে যাই আমাদের বাবা- চাচারা দেশের জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত হয়ে যুদ্ধে গিয়েছিলেন, কে কার চেয়ে বড় সেটা প্রমাণের জন্য নয়। ভুলে যাই যুদ্ধ শেষে আদৌ বেচে ফিরতে পারবেন কিনা, সেটাও ভাবেননি তারা। কিন্তু আমরা তাদের ঔরসজাত সন্তান হয়ে সবার আগে ভাবি আমি ব্যক্তিগতভাবে কি পেলাম বা পাব!  আর আমাদের এই ভাবনার সাথে মিশে আছে আমাদের নিজেদের সেরা প্রমাণের নষ্ট লোভ। সত্যি বলতে কি আমরা বীরদের ঔরসে জন্ম হয়েও আমরা হতে পারিণি তাদের মতো দেশপ্রেমী। হতে পারিণি যোদ্ধা বাবার গর্বের সন্তান। আর আমাদের এই অপারগতার সুযোগ নিচ্ছে ৭১ এর নরপিশাচসহ ওদের মিত্রদল।

আমাদের লজ্জা হয় যখন দেখি আমাদের বাবা- চাচাদের মধ্যেও গ্রুপিং, যখন দেখি তারাও এখন নিজেদের সন্তানদের মতোই আচরণ করেণ। যখন দেখি বাবা-চাচারা বাচ্চাদের মতো নিজেদের সেরা প্রমাণের জন্য একে অন্যকে প্রকাশ্যে অসম্মান করছেন। কেউ কেউ আবার কেন্দ্রীয় পদ দখলের জন্য নানা কুটকৌশলে সন্তানদের মধ্যেও গ্রুপিং এর বীজ বুনে দেয়ার চেষ্টা করছেন। অথচ আপনারাই তো আমাদের সেই বাবা-চাচা যারা গোটা বিশ্বের বাঙালি জাতির অহংকার "বীর মুক্তিযোদ্ধা "।

আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে, আপনাদের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরতে চাই, তুলে ধরতে চাই আপনাদের দেশপ্রেমের সাহসী সেই গল্প কাহিনী, তুলে ধরতে চাই আপনাদের বিজয়গাঁথা। 

আজ আমি আপনাদের নিজের সন্তানের পক্ষ থেকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনারা আমাদের কারো বাবা কারো চাচারা দয়াকরে আর একবার মিলিত হন। আর একবার এই বাংলার খেয়ে পড়ে বাচা সেই হায়েনাদের দেখিয়ে দিন - দেশের স্বার্থে আপনারা আজো সেই ৭১ এর মতো একতাবদ্ধ। আপনারা আজো দেশদ্রোহীদের জন্য যমদূত, যেমন ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। আমরা সন্তানেরা আজ বড় অসহায় অনুভব করছি আপনাদের স্নেহের ছায়া ছাড়া। তাই আসুন আগামী ৬ মে ২০১৮ সকাল থেকে শাহাবাগে মিলিত হয়ে নস্যাৎ করে দেই সকল প্রেতাত্মাদের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র।

আর একটিবার আমরা সন্তানেরা দেখতে চাই আমাদের বাবা-চাচাদের মহামিলনের সেই অহংকারের দৃশ্য। একটি বারের জন্য ভুলে গিয়ে সকল পাওয়া-না পাওয়ার হিসেব, ভুলে গিয়ে বড় ছোট হওয়ার হিসেব, ভুলে গিয়ে একান্ত নিজের স্বার্থ আসুন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্মান পূনরুদ্ধারের এই সমাবেশে। আপনারা আমাদের অহংকারের সম্পদ, আপনাদের কোন রকম অসম্মানকে আমরা মেনে নেবোনা বলেই এই সমাবেশের আয়োজন।
https://www.facebook.com/events/596351754052221/?ti=cl

 

অনেক অনেক শ্রদ্ধাসহ অনুরোধে,
মাকসুদা সুলতানা ঐক্য,
ত্রাণ ও পূনর্বাসন সম্পাদক,
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটি

বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম সমন্বয় জাতীয় কমিটি।

 

 

 

ট্যাগ: bdnewshour24 মুক্তিযোদ্ধা