banglanewspaper

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং ঢাকায় পাকিস্তানের হাই কমিশন কর্মকর্তাদের জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়ে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে সোমবার আবরার খান নামে এক  দূতাবাসকর্মীকে আটকের ঘটনা ঘটে।

তার কাছে অবৈধভাবে রাখা ভারতীয় রুপি পাওয়া গিয়েছিল বলে পুলিশ দাবি করলেও তা প্রত্যাখ্যান করে পাকিস্তান হাই কমিশন এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মো. মারুফ হোসেন সরদার বলেন, গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় ওই ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছিল। পরে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। 

আবরার খান ১০ বছর ধরে ঢাকায় প্রেস সেকশনে অ্যাসিটেন্ট প্রাইভেট সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করছেন বলে পাকিস্তান হাই কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। তার বাসাও গুলশান ২ নম্বর সেকশনে।

যে দলটি পাকিস্তান দূতাবাসকর্মীকে আটক করেছে, তার নেতৃত্বে থাকা গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মাহফুজুর রহমান বলেন, গুলশান এক এবং দুই নম্বরের মাঝমাঝি আগোরার সামনে মোটর সাইকেলে থাকা অবস্থায় তাকে আটক করা হয়। “তার কাছে মোটর সাইকেলের কোনো কাগজ বা চালকের লাইসেন্স পাওয়া যায়নি।”

উপ-কমিশনার মারুফ বলেন, দেহ তল্লাশি করে ওই দূতাবাসকর্মীর কাছে সাড়ে তিন হাজার ভারতীয় রুপি পাওয়া যায়। “জিজ্ঞাসাবাদে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিকালে দূতাবাস কর্মকর্তাদের ডেকে তাকে হস্তান্তর করা হয়, তবে তার সঙ্গে থাকা রুপি জব্দ করা হয়েছে।”

পুলিশ দুপুরে বললেও পাকিস্তান হাই কমিশন থেকে সন্ধ্যায় পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবরারকে সকাল ১১টায় তুলে নেওয়া হয়েছিল।  

“ডিবির জ্যাকেট পরা চার-পাঁচজন আবরার খানকে গুলশান ২ নম্বরে তার বাড়ির সামনে থেকে জোর করে রুপালি রঙের একটি গাড়িতে তোলে। এরপর জোর করে তার বাড়িতে ঢুকে তার মোটর সাইকেলটিও নিয়ে যায়।”

আবরারকে উদ্ধৃত করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “তাকে গাড়িতে তুলে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে চোখ বেঁধে চার ঘণ্টা ঘোরানো হয়েছিল। তার কাছে পাঁচ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল, নইলে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছিল। এরপর গুলশান থানায় যোগাযোগ করা হলে দূতাবাস কর্মকর্তারা জানতে পারেন, তাদের সহকর্মী আবরার থানায় আছেন। পরে কর্মকর্তারা গিয়ে তাকে নিয়ে আসেন।

ট্যাগ: