banglanewspaper

আব্দুর রশীদ তারেক, নওগাঁ: পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। অবিস্বাশ্য হলেও সত্য টাকা ছাড়াই সকল রকমের সেবা পাচ্ছে নওগাঁ সদর মডেল থানায় সেবা নিতে আসা জনসাধারন। জিডি, অভিযোগ ও মামলা লেখাতে বা অন্তর্ভূক্ত করতে কোন রকম টাকা দিতে হয়না। সম্প্রতি যোগদানকৃত সৎ ও নিষ্ঠাবান (ওসি) মোঃ আব্দুল হাইয়ের নির্দেশনা মোতাবেক বন্ধ হয়েছে এই টাকার খেলা।

জানা গেছে, ইতিপূর্বে থানায় একটি জিডি লিখতে লেখককে দিতে হতো ১০০ টাকা ওই জিডি অনর্ভূক্ত করতে ডিউটি অফিসারকে কমপক্ষে ১০০ টাকা। অভিযোগ লিখতে ১০০/২০০ টাকা লিখিত অভিযোগটি অফিসার ইনচার্জের অনুমতি সাপেক্ষে কোন এস,আই কে দায়িত্ব দেয়াতে কমপক্ষে ২ হাজার টাকা। এজাহার লিখতে ১০০/২০০ টাকা মামলা রেকর্ড করাতে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। বর্তমান অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাই নওগাঁ সদর মডেল থানার দায়ীত্ব গ্রহন করার পর থেকে কোন রকম টাকা পয়সা দিতে হচ্ছে না সেবা নিতে আসা ভূক্তভোগীদের। এছাড়া থানা দালালমূক্ত করার সর্বময় প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন মোঃ আব্দুল হাই।

পাবনা জেলার সুজানগর থানার তাঁতীবন্দ গ্রামের স্কুল শিক্ষক হাসান আলীর ঘরে পহেলা জুন ১৯৭৪ সালে জন্ম গ্রহন করেন মোঃ আব্দুল হাই। পিতা-মাতার ৮ ভাইয়ের মধ্যে সপ্তম নম্বর ভাই তিনি। তাঁতীবন্দ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাইমারী পাশ করে সুজানগর হাইস্কুল থেকে ১৯৯১ সালে এসএসসি পাশ করেন। ১৯৯৩ সালে পাবনা এডওয়াড কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে এমএ পাশ করেন। ১৯৯৮ সালে এসআই হিসেবে পুলিশের চাকুরীতে জয়েন্ট করেন। তার কর্ম দক্ষতা ও মেধায় ২০১০ সালে পুলিশের ওসি হিসেবে পদোন্নতী লাভ করেন। সম্প্রতি নাটোর জেলায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবির) অফিসার ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় তার বদলীর অর্ডার হয় নওগাঁ সদর মডেল থানায়। গত ২৭ মে/১৮ তারিখে যোগদান করেন নওগাঁ সদর মডেল থানায়। পারিবারিক জিবনে দুই সন্তানের জনক তিনি। স্ত্রী শামীমা ইয়াসমিন গৃহীনি অর্থনিতীতে মাষ্টার্স, ছেলে হাসিব বিন আব্দুল হাই নওগাঁ সরকারী কেডি স্কুলের ১০ম শ্রেনীর ছাত্র ও মেয়ে হুমায়রা মারইয়াম নওগাঁ শাহিন স্কুলের প্লে শ্রেনীতে পাড়াশুনা করছেন। শৈশব কাল থেকেই মোঃ আব্দুল হাইয়ের স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শিখে বড় হয়ে চাকুরী করে দেশ ও জনগণের সেবা করবেন তিনি।   

নওগাঁ সদর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের ব্যবসায়ী রহিদুল ইসলাম জানান, দির্ঘদিন পর নওগাঁ সদর মডেল থানায় একটি অভিযোগ করতে যাই। আমার বিষয়টি ওসি আব্দুল হাই স্যারকে অবহিত করলে মনোযোগ সহকারে তিনি শুনে অভিযোগ লিখে নিয়ে আসতে বলেন। থানায় ডিউটিরত একজন অভিযোগ লিখে দেওয়ার পর লেখার জন্য টাকা দিতে চাইলে বলেন লাগবে না। পরবর্তীতে অভিযোগের বিষয়ে এসআই হরেন্দ্রনাথকে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পাঠালে দুই লক্ষ টাকাসহ আসামীর স্ত্রী ও শ্যালককে আটক করে থানায় নিয়ে এসে দুই দিনের মধ্যে ট্রাক্টরটি বের করে দেয়ার মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেন। তাদের নিকট গচ্ছিত আমার দুই লক্ষ টাকা আমাকে ফেরত দেওয়ার পর আমি ওসি স্যারকে কিছু সম্মানী দিতে চাইলে তিনি বলেন আপনাদের সেবা দেওয়ার জন্য সরকার আমাকে বেতন দেয় আপনার সম্মানী দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। 

শৈলগাছী ইউনিয়নের রামরায়পুর গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন জানান, তার মেয়েকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী এক ছেলে পালিয়ে গেলে নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি স্যারের নিকট গিয়ে জানালে তিনি একটি লিখিত অভিযোগ করতে বলেন। রাত্রী অনুমান ১টার সময় অভিযোগপত্র ডিউটি অফিসার এএসআই আয়নুলের নিকট জমা দিয়ে আসি। পরদিন বিকেলে এসআই মামুন ঘটনাস্থল তদন্ত করে অভিযোগের ৪৪ ঘন্টার মধ্যে কোন রকম মামলা রেকর্ড ছাড়াই আমার মেয়েকে উদ্ধার করে দেন। এব্যাপারে থানা পুলিশকে কোন রকম টাকা দিতে হয়নি। আমাদের মতো গরিব মানুষ পুলিশকে টাকা না দিয়ে এত ভালো সেবা পাবো এটা ভাবতেই পারিনি। 

থানায় জিডি করতে আসা একেএম ফজলুল হক জানান, বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে ট্রান্সপার হয়ে নওগাঁ ডিগ্রী কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য তার থানায় একটি জিডি করার প্রয়োজন হওয়ায় থানায় একটি জিডি করাতে এসেছিলেন তিনি। থানা মানেই টাকা খরচ না করলে কোন কাজ হবে না এমনটাই ধারনা ছিল তার। জিডি লিখতে বা অন্তর্ভূক্ত করতে যে একটি টাকাও খরচ হয় না এ্টা তার জানা ছিলো না। 

এ ব্যাপারে নওগাঁর পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন জানান, ওসি মোঃ আব্দুল হাইয়ের পূর্ববতী রেকর্ড যাচাই করে ডিআইজি স্যারের অনুমতি সাপেক্ষে তাকে সদর থানায় পোষ্টিং দেয়া হয়েছে। এই ওসির সেবাদানের ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোন রকম অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পুলিশ জনগণের সেবক। পুলিশ সুপার হিসেবে জনগণের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করাই আমার কাজ।   
 

ট্যাগ: banglanewspaper নওগাঁ