banglanewspaper

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনা ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে অন্য কেউ করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।   

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ছাত্রলীগের এখন কোনো কমিটি নেই। ছাত্রলীগের কনফারেন্সের পর এখনো নতুন কমিটি ঘোষিত হয়নি। ছাত্রলীগের নামে এখন কেউ কিছু করেছে কিনা… ছাত্রলীগ করা ছাত্রলীগের নামে কেউ কিছু করেছে কিনা এটা আমাকে জেনে বলতে হবে। আই অ্যাম নট শিওর।’

‘আর এখানে নানান… তাদের মধ্যেও নানান ধরনের বিষয় এখানে আছে। এখন ছাত্রলীগ নামধারী আছে কিনা এটা আমাদেরকে বিষয়টা পরিষ্কার হতে হবে’, যোগ করেন ওবায়দুল কাদের।

রোববার আসন্ন তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকায় উপস্থিত সম্পাদকমণ্ডলী এবং কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এসব কথা বলেন।

এ বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ এপ্রিল সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করেন আন্দোলনকারীরা। পরে প্রধানমন্ত্রী সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। আন্দোলনকারীরা এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনন্দ মিছিলও করে। কিন্তু সেই প্রজ্ঞাপন এখনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।

পরে শিক্ষার্থীরা আবার আন্দোলন শুরু করেন। এরই মধ্যে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় ছাত্রলীগ জড়িত- আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ করা হলেও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়। এই সময়ে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ১৩ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাউকে কাউকে রিমান্ডেও নেওয়া হয়।

এই অবস্থার মধ্যেই গত ১২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে এ ব্যাপারে বলেন, ‘যেখানে হাইকোর্টের রায় আছে যে মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা ওইভাবেই সংরক্ষিত থাকবে, তাহলে হাইকোর্টের রায় আমরা কীভাবে ভায়োলেট করব?’

আজ কোটা সংস্কার আন্দোলনে আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং ছাত্রলীগের হামলার বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন শেষে মিছিল বের করে আন্দোলকারীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু টাওয়ারের কাছে এলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দুই অংশে ভাগ হয়ে সামনে ও পেছন থেকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা শিক্ষার্থীদের মারধর করে। ব্যানার ফেস্টুন কেড়ে নেয়। ছাত্রীদের গায়েও হাত তোলা হয়।

এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া কয়েকজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও আহত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আহত শিক্ষকদের মধ্যে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ফাহমিদুল হক ওআন্তর্জাতিক বিভাগের সহোযোগী অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান রয়েছেন।

ট্যাগ: banglanewspaper কাদের