banglanewspaper

কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ধর্ষণের হুমকি দেয়ার অভিযোগ এনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক ছাত্রী।

অবশ্য জমা দেয়া স্ক্রিনশটে ‘ধর্ষণ’ শব্দটি উল্লেখ নেই এবং এ কারণে প্রক্টর শুরুতে অভিযোগটি না নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নির্যাতনবিরোধী সেলে অভিযোগ করতে বলেছিলেন। তবে ছাত্রীটি রাজি না হওয়ায় পরে অভিযোগটি জমা নেয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতাসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগটি জমা দেন ওই ছাত্রী।

তবে অভিযোগটি জমা দেয়ার সময় নানা বাকবিতণ্ডা হয়। তিনি জানান, প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন তার জমা দেয়া নথিপত্রে ধর্ষণ শব্দটি না থাকায় তিনি এমন অভিযোগ নেয়ার পক্ষে ছিলেন না।

প্রক্টর বলেন, ‘তোমাকে ধর্ষণের কথা কোথায় বলা হয়েছে দেখাও। আমি তো কোথাও খুঁজে পেলাম না।’

স্ক্রিনশটে দেখা যায়, মাসুদ রানা নামে এক শিক্ষার্থীর ফেসবুক কমেন্টকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত। সেখানে সরাসরি ‘ধর্ষণ’ শব্দটির উল্লেখ না করলেও এক ধরনের প্রচ্ছন্ন হুমকি ছিল।

তখন স্ক্রিনশট দেখানো হলেও প্রক্টর একে ধর্ষণের হুমকি মানতে নারাজ। উল্টো প্রশ্ন করেন ‘এই কমেন্ট তুমি কোথায় পেলে?’

এক পর্যায়ে প্রক্টর অভিযোগ নিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। সেই সাথে তাকে থানায় বা কোর্টে আইসিটি আইনে মামলা করার অনুরোধ করেন।

প্রক্টরের যুক্তি, কারণ ঘটনাটি যেহেতু ফেসবুকে ঘটেছে তাই এটির জন্য আইসিটি আইন রয়েছে। তাই এটি তার এখতিয়ারে পড়ে না। এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সাথে প্রক্টরের বাদানুবাদও হয় বলে ঢাকাটাইমস এর খবরে বলা হয়।

প্রক্টর বলেন, ‘তোমরা ফেসবুকের গ্রুপে কী করেছ না করেছ তা তো আমার দেখার কথা না। তোমাদের কোনো কিছুর দায়ভার আমি নিতে পারব না। তোমরা থানা বা কোর্টে মামলা কর।

সবশেষে প্রক্টর ওই ছাত্রীকে অভিযোগটি ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে আবার ভাবতে বলেন। তার যুক্তি, এমন একটি অভিযোগ দিলে তা মিডিয়াতে আসবে। এতে ওই পাঁচ শিক্ষার্থীর সম্মানহানি হবে। তাই তাদের কথা চিন্তা করে অভিযোগের শিরোনাম থেকে ‘ধর্ষণ’ শব্দটি বাদ দিতে বলেন।

প্রক্টরের কার্যালয়ে উপস্থিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমানও সে সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আরও ছিলেন জাতীয় দৈনিকের প্রতিনিধি ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের সাত-আটজন শিক্ষার্থী।

প্রক্টরের বক্তব্য

প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, ‘ছাত্রীটি যে ডকুমেন্ট দিয়েছে তাতে ধর্ষণ শব্দটির কোনো উল্লেখ নেই। তাই আমি বিষয়টি পরিস্কার হওয়ার জন্য জানতে চেয়েছি।’

‘তবে যদি ধরেও নেই যে ওই কমেন্টের কথাটি ধর্ষণের দিকে ইঙ্গিত করে তাহলে তার জন্য যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল আছে, সেখানে অভিযোগ করতে হবে। এটি প্রক্টর দেখবে না।’

‘কারণ প্রক্টরের কাছে আসলে বিষয়টি পাবলিক হয়ে যাবে। মিডিয়ায় আসবে। ফলে বিষয়টি প্রমাণ হওয়ার আগেই মিডিয়া ট্রায়াল হয়ে যাবে। যেটা ইতিমধ্যে হয়েছে।’

‘এজন্য আমরা প্রক্টরিয়াল টিম তাকে (ছাত্রী) অনুরোধ করেছিলাম বিষয়টি আমাদের কাছে না দিয়ে নির্দিষ্ট সেলে দিতে। যাতে বিষয়টি গোপন থাকে। কারণ, বিষয়টি স্পর্শকাতর। কিন্তু সে তাতে রাজি না হয়ে বলেছে, ‘আমি আপনাদের কাছে দিলাম। এখন আপনারা কী করবেন সেটা আপনাদের বিষয়’। তখন আমরা তার অভিযোগ গ্রহণ করেছি।’

প্রক্টর বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তাদের মধ্যে একজন এমন হুমকি দিয়েছেন। কিন্তু মেয়েটি পাঁচজনের নামেই একই অভিযোগ দিয়েছে। ফলে বিষয়টি তদন্ত করতে হবে।’

অভিযোগ থেকে ধর্ষণ শব্দটি বাদ দেওয়া প্রসঙ্গে তার বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, ‘মেয়েটি সকালে এসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে-এমন কথা বলেছিল। তখন আমি তাকে বলেছিলাম, লিখিত অভিযোগ দিতে। কিন্তু সে যখন বিকালে অভিযোগ নিয়ে আসে তখন সেখানে ধর্ষণ শব্দটি জুড়ে দেয়। তখন সকালের কথার সাথে লিখিত অভিযোগের মিল না থাকার বিষয়ে কথা বলেছি। কারণ বিষয়টি স্পর্শকাতর। কোনো প্রকার চাপ প্রয়োগ করা হয়নি।’

ছাত্রীর বক্তব্য

ছাত্রীটি জানান, তিনি যখন সকালের দিকে প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, তখন তার সাথে যা ঘটেছে পুরো বিষয়টি নিয়েই কথা বলেন। তখনও ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার বিষয়ে কথা বলা হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কোনো অভিযোগ তিনি করেননি।

একজনের ‘হুমকির’ কারণে সবার বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ দেয়া হলো, এমন প্রশ্নে ওই ছাত্র বলেন, ‘তারা সবাই একই জোট। তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই আমাকে এবং আমার পরিবারকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছে।’

‘তারা যে একজোট ফেসবুকে একটি পোস্ট দেখলেই বোঝা যায়। যেখানে তিনি একাধিকবার ‘আমরা’ এবং ‘ছাত্রলীগ নেতাদের’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। আর কেউ যদি আমার কোনো ক্ষতি করে তাহলে নিশ্চয় একা করবে না, সবাই মিলে করবে। তাই আমি সবার নামেই অভিযোগ দিয়েছি।’

এই ছাত্রী যাদের নামে অভিযোগ করেছেন তাদের একজনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে এক ছাত্রীকে হয়রানির অভিযোগে এনেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ছাড়া হল ক্যান্টিনে চাঁদা দাবিসহ ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে এলাকায় নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ট্যাগ: Banglanewspaper কোটা আন্দোলন ছাত্রীকে ধর্ষণ জাবি