banglanewspaper

মোস্তাফিজুর রহমান, বরগুনা: বরগুনার তালতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান মিন্টুকে তার পদ থেকে অপসারণের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

পেশাগত অসদাচারণ, ইউএনও, ওসি, শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ একাধিক সরকারি কর্মকর্তাকে মারধরসহ নানা অনিয়ম দুর্নীতির ১৫টি অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় তাকে অপসারণ করা হয়েছে। 

১৫ জুলাই রোববার বিকেলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন বরগুনা জেলা প্রশাসকের দফতরে এসে পৌঁছায়। গত ৮ জুলাই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (উপজেলা-০১ শাখা) থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি হয়।

প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ (উপজেলা পরিষদ সংশোধন) আইন, ২০১১ দ্বারা সংশোধিত এর ধারা ১৩ (১) (গ) অনুযায়ী অসদাচরণ, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় জনস্বার্থে মো. মনিরুজ্জামান মিন্টুকে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণ করেছে সরকার।

এর আগে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান মিন্টুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন ও বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের তদন্ত প্রতিবেদন ঘেটে জানা যায়, তালতলী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান মিন্টুর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুজ্জামানকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে তদন্তের দায়িত্ব দেয় স্থানীয় সরকার।

তদন্তের নির্দেশ পেয়ে সরেজমিনে তদন্তের মাধ্যমে স্থানীয় ভুক্তভোগীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে ২০১৭ সালের ১ আগস্ট একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুজ্জামান।

বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুজ্জামান তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মিন্টুর বিরুদ্ধে উত্থাপিত ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ১৫টি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মিন্টু কর্তৃক তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজি তোফায়েল হোসেন, তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবু কমলেশ এবং এসআই আ. খালেক এবং বড়বগী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহকারী মো. জসীম উদ্দিন মধুকে মারধরের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।

এছাড়া তালতলী সিনিয়র মাদরাসার দফতরি মো. শাহজাহান মিয়া, রাখাইন ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (আরডিএফ) চেয়ারম্যান উসিত মং, ছোট অংকজানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুন্দর আলী ও তার ছেলে সবুজকেও মারধর করেছেন বলেও তদন্তে সত্যতা পাওয়া যায়।

পাশাপাশি উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মিন্টু তালতলী শহরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩ একর জমি দখল করে হাওলাদার সমিল স্থাপন করেছেন। এছাড়া উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কাছ থেকে অবৈধ উৎকোচ নিয়েছেন। গভীর নলকূপ বরাদ্দ দেয়ার নামে দুই শতাধিক স্থানীয় গ্রামবাসীর কাছ থেকে ১৫-২০ হাজার টাকা করে উৎকোচ নেন।

সেই সঙ্গে মনিরুজ্জামান মিন্টু তার ভাই তারিকুজ্জামান তারেক ও নয়ন ব্যাপারীকে নিয়ে এলাকায় ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসা চালিয়েছেন। এমনকি মিন্টুর প্রভাব খাটিয়ে তার বাবা এ কে এম কামরুজ্জামান তালতলী বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি হয়েছেন বলেও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মিন্টু জানান, তার মেয়ে অসুস্থ থাকায় তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার খবর শুনেছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধিকে এভাবে অপসারণ করা যায় না। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট করব আমি।

ট্যাগ: Banglanewspaper তালতলী উপজেলা চেয়ারম্যান