banglanewspaper

এম.পলাশ শরীফ, মোড়েলগঞ্জ: অমাবশ্যার প্রভাব, বৃষ্টি ও মৌসুমি বায়ুর চাপে পানগুছি নদী ও তৎসংলগ্ন বলেশ্বর নদীতে জোয়ারের পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪/৫ফুট বেড়ে গেছে।

ফলে পানগুছি নদীর তীরবর্তী বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ পৌরসভাসহ কয়েকটি গ্রামের দেড় হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বেড়েছে পানগুছি নদীর ভাঙ্গনও।

পৌরসভা মেয়র এসএম মনিরুল হক তালুকদার বলেন, বেড়িবাঁধ না থাকায় পৌরসভার ১, ২, ৪, ৫, ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডে জোয়ারের পানিতে কমপক্ষে ৩শ’ পরিবারে রান্না বন্ধ হয়ে গেছে। ১ নং ওয়ার্ডে পিচ ঢালাই রাস্তা ধ্বসে গেছে, ডুবে গেছে ফেরিঘাট, এসিলাহা উচ্চ বিদ্যালয়ের শেণিকক্ষ ও মাঠ। 

মোড়েলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী বলেন, গাবতলা ও কাঠালতলা গ্রামের একটি রাস্তা নদীতে গর্ভে চলে যাওয়ায় ৩শ’ ৩০টি পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। ডুবে গেছে গাবতলা কমিউিনিটি ক্লিনিক, গিয়াসিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও গাবতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ।

তেলিগাতী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোর্শেদা আক্তার বলেন, এ ইউনিয়নের হেড়মা, মিস্ত্রীডাঙ্গা ও হরগাতী গ্রামের ১৫শ’ পরিবার গত তিন দিন ধরে পানিবন্দী অবস্থায় আছে। ধসে গেছে  তেলীগাতি থেকে এতিমূল্ল্যা বাজার, প্রায় এক কিলোমিটার ইটসোলিং রাস্তা।

হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী বদনীভাঙ্গা, পাঠামারা ও সানকিভাঙ্গা গ্রামে পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে খাউলিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া, খাউলিয়া, মধ্যবরিশাল ও সন্ন্যাসী গ্রামে।

ক্ষতিগ্রস্ত গাবতলা গ্রামের মাষ্টার আনোয়ার হোসেন তালুকদার ও আবুল কালাম হাওলাদার জানান, গত ২০ বছর ধরে পানগুছি’র ভাঙ্গনে এ গ্রামের পূর্ব পাড়ার দু’ হাজারেও বেশী ফসলী জমি শত শত পরিবারের বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা পেতে তারা খাউলিয়া খালের ওপর সুইজগেট ও বেরিবাঁধের নির্মাণের দাবী জানান প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

এ সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘উপকূলীয় উপজেলা মোড়েলগঞ্জ সদরসহ ৬ ইউনিয়ন ঝুঁকির মধ্যে। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে স্থায়ী ভেড়িবাঁধ প্রয়োজন।’

ট্যাগ: Banglanewspaper মোড়েলগঞ্জ পানিবন্দী