banglanewspaper

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতে বসবাসরত ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ ও রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় দেশ না ছাড়লে তাদের গুলি করে হত্যা করতে বললেন ক্ষমতাসীন দল বিজেপির হায়দরাবাদের গোশামহাল বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্বকারী তেলঙ্গানা আইন পরিষদের সদস্য টি রাজা সিং।

আসামে ভারতীয় নাগরিকদের চূড়ান্ত খসড়া তালিকা (এনআরসি) প্রকাশ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মঙ্গলবার এ কথা বলেন রাজা সিং।

এমপি রাজা সিংয়ের ভাষায়, অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গারা ‘ভারতের জন্য বিপজ্জনক’। স্বেচ্ছায় দেশ না ছাড়লে তাদের গুলি করে মারা উচিৎ। এটা করা ছাড়া শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।’এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া

৩০ জুলাই সোমবার আসামে এনআরসি তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকায় বাদ পড়েছে রাজ্যের ৪০ লাখ মানুষের নাম। এদের বেশিরভাগই মুসলিম। এ ঘটনায় সরব হয়েছেন বিরোধীরা। এই পদক্ষেপকে ‘বাঙালি খেদাও’ অভি‌যান হিসেবে আখ্যায়িত করেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারে থাকা তৃণমূল কংগ্রেস। দলটি বলছে, নাম, পদবী ধরে ধরে তালিকা থেকে মানুষজনকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এনআরসি নিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে মোদি সরকার সতর্ক রয়েছে। এ ইস্যুতে সরকারের কোনও নমনীয়তা নেই। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, রোহিঙ্গা ইস্যুর নাম নিয়ে প্রকৃতপক্ষে আসামের নাগরিক তালিকা থেকে বাদপড়া ৪০ লাখ বাসিন্দার ভবিষ্যৎ কী হতে যাচ্ছে; সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন কিরেন রিজিজু।

বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার রাজ্যসভায় কথা বলেন বিজেপি নেতা অমিত শাহও। তিনি বলেন, ‌এনআরসি তৈরি করা হয়েছে শরণার্থীদের চিহ্নিত করার জন্য। ১৯৮৫ সালে এই উদ্দেশ্যেই রাজীব গান্ধী আসাম অ্যাকর্ড তৈরি করেছিলেন। কিন্তু কেউ সেটা কার্যকর করার সাহস দেখাতে পারেননি। মোদি সরকার সেই সাহস দেখাতে পেরেছে।

অমিত শাহর এ বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই বিরোধীরা সদলে রাজ্যসভার ওয়েলে নেমে আসেন। মানুষে মানুষে বিভেদ বাড়িয়ে দেশকে আরও একবার ভাগাভাগির মুখে দাঁড় করাচ্ছে বলে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীরা অভিযোগ জানাতে থাকেন। 
চেয়ারম্যান ভেঙ্কাইয়া নাইডু সভা শান্ত করতে ব্যর্থ হয়ে সারা দিনের জন্য রাজ্যসভা মুলতবি করে দেন। সভার ঝগড়া এরপর চলে আসে সংসদ ভবনের বাইরে। সেখানে কংগ্রেস সদস্য প্রদীপ ভট্টাচার্যের সঙ্গে তীব্র বিবাদে জড়িয়ে পড়েন বিহার থেকে নির্বাচিত বিজেপির মন্ত্রী অশ্বিনী চৌবে।

নাগরিকপঞ্জী নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে জনমত গড়ে বিজেপিবিরোধী জোট জোরদার করতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল সন্ধ্যায় দিল্লি পৌঁছেছেন। 

মঙ্গলবার দুপুরে সংসদ ভবনের কাছে এক অরাজনৈতিক অনুষ্ঠানে নাগরিকপঞ্জী নিয়ে তিনি বলেন, আজ আসাম থেকে বাঙালি বিতাড়নের ছক কষা হয়েছে, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গ থেকেও তা করা হবে। এভাবে বিজেপি রাজ্যে রাজ্যে গৃহযুদ্ধ সৃষ্টি করতে চাইছে। গোটা আসামে জারি করা হয়েছে সতর্কতা। তিনি বলেন, প্রাণ থাকতে এই ভাগাভাগি করতে দেবেন না। সর্বস্ব নিয়ে রুখে দাঁড়াবেন।

এদিকে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আজ মঙ্গলবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, খসড়া তালিকার ভিত্তিতে রাষ্ট্র কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে না। সুপ্রিম কোর্ট এ কথাও জানিয়েছেন, যাঁদের নাম তালিকায় ওঠেনি, তাঁদের আপত্তি বা দাবিদাওয়া মেটাতে একটি স্বচ্ছ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বিচারপতি রঞ্জন গগৈ ও বিচারপতি আর এফ নরিম্যান এ নির্দেশ জারি করে বলেন, ১৬ আগস্টের মধ্যে সেই স্বচ্ছ পদ্ধতির বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতকে জানাতে হবে। নাগরিকপঞ্জী তৈরির দায়িত্বে থাকা আসামের রাজ্য কো-অর্ডিনেটর বিচারপতিদের বলেন, যাঁদের নাম তালিকায় ওঠেনি, তাঁদের মধ্যে ৩৭ লাখ ৫৯ হাজারের দাবি বাতিল করা হয়েছে, ২ লাখ ৪৮ হাজারের দাবির ফয়সালা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

ট্যাগ: বাংলাদেশি রোহিঙ্গা রাজা সিং