banglanewspaper

কিভাবে যেন মহিলাটির সাথে ফেসবুকের ম্যাসিঞ্জারেও কথা শুরু হলো সেটি নির্দিষ্ট করে মনে নেই। প্রথমে আমরা দু’জনের নাম দুজনে জানলাম। এরপর উভয়ের সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য জানাজানি হলো। মহিলাটি ঢাকায় থাকেন। তার স্থায়ী ঠিকানাও ঢাকায়। প্রোফাইল অনুযায়ী ঢাকার একটি প্রসিদ্ধ একটি মহিলা কলেজ থেকেই পড়াশুনা করেছেন। এক পর্যায়ে আমার মনে হলো মহিলাটি আমার পাঠানো বার্তার উত্তর খুব চিন্তা ভাবনা করে দিতে লাগলো। আগের দিনের বার্তার উত্তর পাই আগামীকাল, অথবা কোন কোন বার্তার উত্তর মিলে কয়েক ঘণ্টা পর। 

একদিন আমি তাকে প্রশ্ন করেছিলাম, আপনার জীবন সঙ্গী কি করেন? তিনি বললেন আমার প্রোফাইলে গিয়ে দেখুন। পরে আমি তার প্রোফাইলে গিয়ে দেখি ফেসবুকে নিজের সম্পর্কে যে তথ্য গুলো দিতে হয় সেখানে তার ব্যক্তিগত তথ্যও সবগুলো দেয়া নেই। যেখানে নিজের তথ্যই নেই সেখানে স্বামীর তথ্য পাওয়া তো অসম্ভব। পরে তার প্রোফাইলে তথ্য না পাওয়ার বিষয়টিও আমি তাকে জানালাম। 
পরের দিন তিনি উত্তর দিলেন, আমার বর ব্যবসা করেন। 
এরপর মহিলাটি আমাকে প্রশ্ন করলেন, কি করেন আপনি?

আপনি হিসেবে সম্বোধন করার কারণে আমি তাকে বললাম, আমি আপনার অনেক ছোট। বোঝাতে চেয়েছিলাম তিনি আমাকে আপনি না বলে তুমি করে সম্বেধন করলেও পারেন। 

তিনি বললেন, হ্যাঁ, অনেকটা আমার ছেলের সমান।
আমি বললাম, আপনার ছেলের বয়স কত?
তিনি বললেন, ১৮ পেরিয়ে এবার ১৯ এ পা দিয়েছে।
আমি বললাম, তাহলে আমি আপনার ছেলের বড়।
তিনি বললেন, বোঝতে পারছিনা আমাকে কেন বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠালেন?
আমি বললাম, আমি নই, অনুরোধ আপনি পাঠিয়েছিলেন।
তিনি বললেন, আপনিই পাঠিয়েছিলেন, আমি অনুরোধটি মুছে দিয়েছিলাম। এরপর আবার ভাবনা চিন্তা করে আপনাকে অনুরোধ পাঠিয়েছি।
আমি বললাম, হতে পারে, আমার ঠিক মনে পড়ছেনা। 
তিনি বললেন, বয়সের একটা ব্যপার আছেনা? 
আমি বললাম, বোঝলাম না।
তিনি বললেন, দুঃখিত, বোঝিয়ে বলতে পারছিনা।

এরপরই তার সঙ্গে আমার কথা তখনকার মতো শেষ হয়। কিন্তু উপরোল্লিখিত কথাটি তিনি আমাকে বোঝিয়ে না বললেও আমি ঠিকই বোঝে নিয়েছি। 
যেখানে তিনি নিজেই  বলেছেন আমি বয়সে তার ছেলের সমান। সেখানে তার মনের ভাবনাটি এমন হবে আমি স্বপ্নেও কল্পনা করিনি। তিনি ভেবেছিলেন আমি যৌন ও প্রেম সম্পর্কিত কারণে তার সাথে ফেসবুকে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী হয়েছি। 

মহিলাটি বয়সে আমার মায়ের একদম সমান না হলেও খুব দূরে নয়। আমিও তাকে মায়ের সারির তেমন কেউ ভেবেছি। তাকে প্রশ্ন গুলোও আমি সেভাবেই করেছি। ফেসবুক ছাড়া পরে তার সাথে আমার আরো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হলেও মায়ের মতো কোন একটি সম্পর্ক হবে এমটিই আশা ছিল। 
কিন্তু তিনি আমাকে যে সংকেত দিয়েছেন তাতে আমি শুধু সাময়িক মর্মাহতই হয়নি বরং দারুণভাবে দুঃখ পেয়েছি। 

হৃদয়ের অভ্যন্তরে তখন বহু প্রশ্নের উদয় হতে শুরু করেছে। নারীরা কি সবসময় পুরুষদের এমনই ভাবে? যে পুরুষটি তাদের মনোপূর্ত হয় তাকে প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ করে নেয়। আর যাকে মনে ধরেনা তার জন্য শুধু ঘৃণা প্রকাশ করতে থাকে। সময় অসময় তার আশ পাশের বিভিন্ন জনের কাছে সে পুরুষের শুধু মানহানি করতে থাকেন। 

অধিকাংশ মহিলা মনে করেন পুরুষদের সাথে তাদের সম্পর্কই হলো যৌন ও রোমাঞ্চকর সময় কাটানোর। আর পুরুষরাও শুধুমাত্র তাদের যৌন ক্ষুদা মিটানের যন্ত্র মনে করেন। সুযোগ মতো তারা পুরুষদের সাহস, দায়িত্বশীলতা, গাম্ভীর্য ও অগাদ ভালোবাসাকে পুঁজি করে নিজে সাবলম্বী হয়ে নেয়।

তবে এটি তাদের ভাবনা থেকে সম্ভবত এ অনুধাবন উদাও করে দিয়েছেন যে, যৌন বা রোমাঞ্চকর সময় কাটানোর সঙ্গী হিসেবে নারীরা পুরুষের নিকট শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট সময় আকর্ষনীয় বস্তু থাকে। পক্ষান্তরে মা, বোন ও তাদের সম-মর্যাদার যে সম্পর্ক গুলো গড়ে উঠে সেগুলো অটুট থাকে আজীবন। আনন্দ ও বেদনা উভয় কালে সম্পর্ক গুলোর গভীরতা থাকে সমান্তরাল।

লেখক: কবি ও উপ সম্পাদক, দৈনিক আমাদের অর্থনীতি। 

 

 

 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: banglanewspaper নারী যৌন