banglanewspaper

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সান্তাহারে বিনোদনের জন্য সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে ‘শখের পল্লী’ নামে একটি বিনোদন কেন্দ্র। সান্তাহার পৌরসভা এলাকায় বশিপুর গ্রামে প্রায় ৪৫ বিঘা জমিতে পার্কটি নির্মাণ করা হয়েছে।

পুরো পার্কটি সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অশ্লীল কার্যকলাপের সুযোগ না থাকায় সকল শ্রেণী পেশার মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে এ পার্কে বিনোদোনের জন্য ভিড় জমায়। বিভিন্ন স্কুল-কলেজ থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিলে বনভোজনের জন্য আসতে দেখা যায়। এছাড়া এখানে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন জেলা থেকে বিনোদনের জন্য আসছেন বিনোদন প্রেমীরা।

জানা যায়, এলাকাবাসীকে সুস্থ, সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে আনন্দ-বিনোদনের লক্ষ্যে ২০১৬ সালের ২০ই ফেব্রুয়ারি থেকে পার্কের কার্যক্রম শুরু হয়। পৌর শহরের শেষ সিমানা বশিপুর গ্রামে পুকুর পাড় ও পতিত জায়গা কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলা নিরিবিলি পরিবেশে পার্কটি এখন বিনোদন প্রেমীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত প্রতিনিয়ত সপরিবারে এই পার্কে ঘুরতে আসেন।

পার্কটিতে রয়েছে- মিনি চিড়িয়াখানা, নামাজের জন্য ওয়াক্তিয়া মসজিদ, রেস্টুরেন্ট ও কনফেকশনারী, আকর্ষণিয় ‘সুইমিং পুল’ ও স্পিড বোর্ডসহ বিভিন্ন ধরনের রাইডস। বিনোদনের জন্য পার্কটিতে কোন ঘাটতি না থাকায় দিনদিন জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এই জনপ্রিয়তায় পার্কটির জন্য কাল হয়ে দাড়িয়েছে। এজন্য পার্ক মালিক অভিযোগ করে বলেন, দিনদিন পার্কটির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির জন্য একটি কুচক্রী মহল হিংসায় ফেটে পড়েন।

পার্কের জনপ্রিয়তা নষ্ট করতে বিভিন্ন ভাবে বাঁধাগ্রস্থ করা হচ্ছে। এরই এক পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনার বারাবর মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রদান করাও হয়েছে। যা এলাকাবাসী ওই মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। এমনকি পার্কটি রক্ষার্থে এলকাবাসী মানববন্ধন পর্যন্ত করেছেন। শুধু তাই নয় পার্কটিতে দর্শনার্থীদের বাঁধাগ্রস্থ করতে দু’টি রাস্তায় খুঁটি পুতে রাখা হয়েছে। যে কারণে আমাকে প্রতিমাসে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতির কারণে পার্কে আসা দর্শনার্থীরা আক্ষেপ করে বলেন, পরিবেশ সম্মত পার্কটির রাস্তায় খুঁটি পুতে রাখা ঠিক হয়নি।

পার্ক ম্যানেজার সুরুজ হোসেন জানান, ‘আমরা যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী আছি আমাদের ওপর ২০ পরিবার নির্ভরশীল তাই পার্কটি না থাকলে আমরা আবার বেকার হয়ে যাবো।’

বগুড়া থেকে সান্তাহারে বাবার বাড়িতে এসেছেন ইসরাত জাহান ইতি। তিনি বলেন ‘শুনেছি এখানে একটি সুন্দর পার্ক আছে। এজন্য স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে দেখতে এসেছি। অল্প জায়গায় খুব সুন্দরভাবে বিনোদন কেন্দ্রকে সাজানো হয়েছে। তবে আমার মনে হয় পার্কটিতে আরো আধুনিক রাইডস ও চিড়িয়াখানা স্থাপন করা প্রয়োজন।’

রংপুর থেকে পিকনিক করতে আসা রফিক জানান, ‘সবাই মিলে মিনি বাস নিয়ে এসেছিলাম পিকনিক করতে, কিন্তু রাস্তায় খুঁটির কারনে বাস ঢুকলোনা তাই বাহিরে রাখতে হলো। এজন্য অনেকটা সমস্যা পোহাতে হয়েছে।’

স্থানীয় খন্দকার আশরাফুল আলম বলেন, ‘আশে পাশে যে কয়টি বিনোদন কেন্দ্র আছে তার মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে গড়ে ওঠা এ বিনোদন কেন্দ্রটি খুবই ভালো। বিশেষ করে বাচ্চাদের খেলার জন্য অনেক রাইডস আছে। বাচ্চারা খুবই আনন্দ পায়। এখানকার পরিবেশটাও খুব সুন্দর।’

‘শখের পল্লী’র পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘শখের বশে পার্কটি তৈরী করেছি তাই পার্কটির নাম দিয়েছি ‘শখের পল্লী’। মানুষের বিনোদনের জন্য সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ‘শখের পল্লী’র সৃষ্টি। আমরা মাত্র ২ বছরে ব্যাপকভাবে সাড়া পেয়েছি। তবে স্থানিয় একটি কুচক্র মহল পার্কটিকে বাঁধাগ্রস্থ করতে বারবার অপচেস্টা করে যাচ্ছে। সাময়িক সমস্যার কারনে পার্কটিকে বর্ধিত করতে পারছিনা তবে পরিকল্পনা রয়েছে এলাকাবাসীর মনের মতো করে সাজাবো। সেই সাথে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতে পারছি পার্কটির কারণে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসনের হস্থক্ষেপ কামনা করছি।’

ট্যাগ: Banglanewspaper শখ শখের পল্লী