banglanewspaper

মোহাম্মদ আবদুল্লাহ মজুমদার: বদরুল সাহেব একজন জাতীয় রাজনীতিবিদ। দেশের উন্নয়নের আন্দোলন সংগ্রামে তিনি সর্বদাই সেচ্ছার। তার ৩ সন্তানের মধ্যে ২ ছেলে আর ১ মেয়ে। বড় ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা করে। ছোট ছেলে যুক্তরাজ্যে আর মেয়ে অষ্ট্রেলিয়ায় পড়াশুনা করে। জন্মের পর থেকেই তারা বিদেশে। মাতৃভূমির দূষিত বাতাস কখনোই তাদের গায়ে লাগেনি। তার স্ত্রী দেশে এবং বিদেশে যখন যেখানে ইচ্ছা সেখানেই থাকেন। 

 ক্ষমতা ছাড়লে যেমন ভরাডুবি হয় পরের বার ক্ষমতায় এসে মন্ত্রী হলে সুদে আসলে পুষিয়ে নেন। রাষ্ট্রের জন্মদিন থেকে শুরু করে বদরুলের মতো রাজনীতিবিদরা আমৃত্যু রাষ্ট্রের উন্নয়নে ব্যস্ত থাকেন। তবুও দেশের জনগণের অবস্থান একটি নির্দিষ্ট গতিতেই বিদ্ধমান থাকে। যখন ক্ষমতায় থাকেন তখন তারা দেশের তরুণদের পয়সা কড়ি দিয়ে গৃহপালিত জন্তুর ন্যায় পোষ মানিয়ে রাখেন। দ্ররিদ্র জনগোষ্ঠির অসহায় জনপদে জন্ম গ্রহণকারী দিশেহারা তরুণরাও কোন উপায় না পেয়ে দু’চারটি পয়সা ও একটু আশ্রয়ের আশায় বদরুলদের মতো লোকদের পেছনে লেগে থাকে। 

আবার বদরুলরা যখন রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে থাকে এ অসহায় মায়ের তরুণ সন্তানরাই রাজপথে রক্ত ঝরায়, কেউ কেউ জীবনের মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমায় পরপারে। বদরুলদের অবস্থা বরাবর একরকমই থাকে। ক্ষমতা হাতে থাকুক বা নাই থাকুক তাদের সু-সজ্জিত ফ্ল্যাট আর বিলাশ বহুল গাড়ী থেকে কখনোই নামতে হয়না। মাঠের কাজে সর্বদা পথহারা তরুণদের লেলিয়ে দেন। 

শিরিন বেগমও বদরুল সাহেবের মতো রাজনীতিবিদ। দেশে জনপ্রতিনিধিত্বই করেন। কখনও এমপি, কখনও মন্ত্রী। ৩ ছেলে ও ২ মেয়েসহ তার স্বামী বিদেশে থাকেন। ১ ছেলে ও ১ মেয়ে পড়াশুনা করেন, আর বাকিরা সবাই ব্যবসা। ব্যবসা করলেও তারা তা জীবিকার জন্য করেননা। এটি শুধুমাত্র সময় কাটানো ও পেশাদারিত্বের প্রমাণের জন্য। ব্যবসায়ে লাভ হলে তো ভালোই। আর ক্ষতি হলেও তাদের কোন অসুবিধা নেই। 

কারণ তারা বিদেশে কোন পেশাগত কাজ বা অন্যান্য কোন কারণে থাকেননা। তাদের বিদেশে থাকার উদ্দেশ্য হলো জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আর সর্বোত্তম নাগরিক সুবিধা ভোগ করার জন্য। দেশে জীবনের নিশ্চয়তা তো একদমই নেই। আর যেখানে জীবনের নিরাপত্তাই নেই সেখানে উত্তম নাগরিক সুবিধার তো প্রশ্নই আসেনা। 

বাংলাদেশের ভূখন্ডকে বিভিন্ন সময় যারা শাসন করেছেন কোন কালেই তারা এ দেশকে আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহার করার পরিবর্তে সবসময়ই ব্যবহার করেছে ব্যবসায়ের মুনাফা অর্জন ও লুটপাটের কলোনি হিসেবে।  কারণ যারা এ অঞ্চলের শাসনকর্তা তাদের পরিবার পরিজন নিকট আত্মীয় থেকে সবার বসবাস বিদেশে। 

একটি দেশের মানুষের জীবনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও আদর্শ নাগরিক সুবিধা প্রণয়নের জন্য রাজনৈতিক নেতাদের সংকল্প ও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের প্রচেষ্টাই যতেষ্ঠ। রাজনীতিবিদরা জনগণকে দেয় প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে তবেই সময়ের ব্যবধানে যে কোন ভূখন্ডকে আদর্শ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। 

আর রাজনীতিবিদরা যখন শিক্ষা,  চিকিৎসা ও খাদ্যদ্রব্য পর্যন্ত বিদেশ থেকে আমদানি করে। আর তাদের স্থায়ী বসবাসও যখন বিদেশে তখন দেশকে তারা একটি লুটপাটের উপনিবেশ হিসেবেই ব্যবহার করেন। 

বাংলাদেশ তেমনই একটি দেশ এদেশে দু’ধরণের লোক স্থায়ীভাবে বসবাস করে। প্রথমত যারা এ দেশকে মাতৃ সাদৃশ্য মনে করে এবয় দেশকে ভালোবাসে হৃদয়ের গভীরতা থেকে। আর অন্যরা হলো এ দেশ ছাড়া যাদের কোন উপায় নেই, আর অন্য কোন দেশে উড়াল দেয়ার সামর্থও তাদের নেই। 

আর এ দেশের মন্ত্রীরা তো বরাবর কুলাঙ্গারই থাকেন। মানুষের অনাহারি শুকনো মুখ যেমন তাদের হাসায়, প্রিয়জন হারানো অশ্রুমাখা মুখগুলো দেখেও তারা তেমন হাসিতে মুখর থাকে। তাদের সকল প্রচেষ্টাই যেন সবকিছু দুমড়ে মুচড়ে নিজেদের ভালো রাখার জন্য। আর যে অর্থ ও সময়টুকু মানুষ ও দেশের জন্য ব্যয় করেন তাও শুধুমাত্র দায় থেকে বাঁচতে আর লুটপাটে টিকে থাকার নিমিত্তে। 

এদেশে সবাই মানুষের সেবা করতে ক্ষমতার লড়াই করে। কিন্তু মানুষ চাইলে ক্ষমতাও ছাড়তে নারাজ। মানুষের অধিকার রক্ষায় যদি ক্ষমতায় থাকতে চাও, তাহলে মানুষ নারাজ হবে কেন? আর মানুষ চাইলে ক্ষমতা ছাড়তেও অসুবিধা কোথায়?  যদি সবই হয় মানুষের জন্য। 

লেখক: কবি ও উপ সম্পাদক, দৈনিক আমাদের অর্থনীতি

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: Banglanewspaper মন্ত্রী