banglanewspaper

মজিবুর রহমান, কেন্দুয়া: নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার কলসহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহেল মিয়ার বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারীতা ও জালিয়াতির অভিযোগ করেছেন ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি শেখ নাজমুল হক।

গত ১৩ আগষ্ট জেলা শিক্ষা অফিসারের বরাবরে লিখিত অভিযোগে বিদ্যালয়ের সভাপতি নাজমুল হক বলেন, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোহেল মিয়া দুই বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দ্বায়িত্ব পালন করে আসছেন। প্রধান শিক্ষকের দ্বায়িত্ব নেয়ার পর তিনি মাসে ২০/২২ দিন নানা অজুহাতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির কোন সদস্যকে তোয়াক্কা না করে তার মন খুশি যা ইচ্ছা তাই করে আসছেন। দিন দিন তার বদমেজ্জী,কর্তব্যকাজের প্রতি অনীহা,স্বেচ্ছাচারীতায় অতিষ্ট ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও অভিভাবকরা। তিনি একজন জালজালিয়াতি ও অবৈধভাবে টাকা আত্মাসাৎকারী লোক। তিনি ইচ্ছামাফিক বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেন। কেউ জিজ্ঞাসা করলে অফিসের কাজে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসতে পারেন না।

বিদ্যালয়ের সভাপতি কিংবা কোন সদস্যকে না জানিয়ে গত অর্থ বছরের উন্নয়ন খাতে বরাদ্ধ পাওয়া স্লিপের টাকা উত্তোলন করে আত্মাসাৎ করিয়েছেন। ওই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহেল মিয়ার স্ত্রীও একই বিদ্যালয়ে কর্মরত। তিনিও মাতৃত্বকালী ছুটি নিয়ে দেড় বছর ধরে বিদ্যালয়ে আসেন না। হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর স্বামী করেন।

বিদ্যালয়টি সকাল সাড়ে ১০ টার আগে বিদ্যালয়ের দরজা খোলা হয়না। আবার ৩ বাজতে না বাজতেই ছুটির ঘন্টা বাজিয়ে দেন। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে সভাপতির সাথে সোহেল মিয়া অশালীন আচারণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ্য করা হয়েছে। সোহেল মিয়ার স্বেচ্ছাচারীতায় এক সময়ে উপজেলা সেরা বিদ্যালয়টি আজ গোয়াল ঘরে পরিণত হয়েছে।  

এ ব্যাপারে মঠোফোনে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহেল মিয়া বলেন, সভাপতি আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো এনেছেন এই অভিযোগগুলো সভাপতির বিরুদ্ধে আমারও।

এব্যাপারে কেন্দুয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হক জানান,অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের জন্য দুইজন সিনিয়র সহকারী শিক্ষা অফিসারকে দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমানিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 

ট্যাগ: Banglanewspaper কেন্দুয়া