banglanewspaper

মজিবুর রহমান, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা): জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে দীর্ঘদিন থাকতে হয়েছে ছদ্মবেশে। আর ছদ্মবেশে থেকেই শিক্ষা জীবন শেষ করতে হয়েছে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারী ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান মানিকের।

সেই ৭৫’এর ১৫ আগষ্ট প্রতিবাদ মিছিলের বিষয়ে জানতে চাইলে এডভোকেট মানিক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, ১৯৭৫ সালের আমি কিশোরগঞ্জ শহরে থেকে লেখাপড়া করতাম। ১৫ ই আগষ্ট ভোরের রেডিও মাধ্যমে খবর পাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদেরকে নির্মমভাবে হত্যার করা হয়েছে।

ঘুম থেকে উঠে এ সংবাদে বিষ্মিত হই। মুহুতেই ঘর থেকে বের হয়ে দেখি শোক ও আতঙ্কে নীরব কিশোরগঞ্জের শহর। এমনিভাবে বের হয়ে আসেন প্রয়াত এডভোকেট আমিরুল ইসলাম, এডভোকেট ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন, এডভোকেট অশোক সরকার, হাবিবুর রহমান মুক্তা, ডা.এনামূল হকসহ আমারা ২০ জন তরুণ শহরের রেল ষ্টেশন সড়কের রংমহল সিনেমা হলের সামনে এসে জড়ো হয়ে সিদ্ধান্ত নেই এ হত্যাকে নিরবে সহ্য করা যাবে না প্রতিবাদ করতে হবে।

তখন অনুমান সকাল ৯টা বাজে আমরা ‘ডালিমের ঘোষনা, মানি না মানব না’ ‘ মুজিব হত্যার পরিনাম, বাংলা হবে ভিয়েতনাম’ মুজিব হত্যা বদলা নেব, বাংলাদের মাটিতে ইত্যাদি স্লোগান দিয়ে রাজপথে নেমে পড়ি।

মিছিলটি পুরান থানা, একরামপুর, বড়বাজার, ঈশাখাঁ রোড, আখড়া বাজার, কালিবাড়ি মোড় হয়ে থানা সামন দিয়ে আবারো রংমহল সিনেমা হলের সামনে এসে মিছিল শেষ করে যখন জাহেদ মিয়া চায়ের দোকানে বসে যখন চা পান করছিলাম তখন এক ট্রাক পুলিশ আসে আমাদেরকে গ্রেফতার করতে। আমরা তখন ছত্রভঙ্গ হয়ে যে যার মত পালিয়ে যাই।

তিনি আরো বলেন,আওয়ামীলীগ রাজনীতি করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা ভাবে নির্যাতিত-নীপীড়িত হয়েছেন বলে উল্লেখ করে ৭৫’র ১৫ আগষ্ট  জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সপরিবারে হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারীর অগ্রনায়ক মানিক বলেন এই প্রতিবাদ মিছিলে অংশগ্রহনকারী আমাদের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারী করেছিল ততকালীন সরকার। বহু দিন আত্মগোপনে থেকে ছদ্মবেশ ধারণ করে শিক্ষাজীবন শেষ করি।

১৯৫৫ সালে ১২ জানুয়ারী বাবা-মায়ের কোল আলোকিত করে কেন্দুয়া উপজেলার দলপা ইউনিয়নের কুনিহাটি গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন জাতির এই শ্রেষ্ট সন্তান এডভোকেট সাইদুর রহমান মানিক। কুনিহাটির পাশের গ্রাম বর্তমানে নেত্রকোনার সদর উপজেলার চন্দনকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শুরু হয় তাঁর।

বেখৈরহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পঞ্চম ও বেখৈরহাটি এনকে উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬ষ্ট শ্রেণি এবং নেত্রকোণা দত্ত উচ্চ বিদ্যাল ৮ম শ্রেনি পাশ করেন। পরে কিশোরগঞ্জের আজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ১৯৭০ সালে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাশ করেন। স্বাধীকার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে গেরিলা যুদ্ধে বহু কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। স্বাধীনতার পর অস্ত্র রেখে তিনি আবার পড়া লেখায় মনোযোগী হন।

১৯৭২ সালে কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজ হতে এইচএসসি এবং ১৯৭৬ সালে ছদ্মবেশে পরীক্ষা অংশ নিয়ে বিএ পাশ করেন। এ অবস্থায় ১৯৭৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে (ল) এলএলবি ও ১৯৮০ সালে জগনাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসএস ডিগ্রী লাভ করেন। কিশোরগঞ্জের আজিমউদ্দিন স্কুলে অধ্যায়নকালে স্বাধীকার আন্দোলনের ঐতিহাসিক ঘটনা ৬৯’র গণউভেস্থান সক্রিয় অংশ গ্রহণের মধ্যদিয়ে ছাত্ররাজনীতি জড়িয়ে পড়েন তিনি।

১৯৭৮ সালে উত্তরা ব্যাংকে তিনি কর্মে যোগদেন কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেন তিনি। ১৯৮০ সালে চাকুরী ইস্তফা দিয়ে আইনপেশার পাশাপাশি চলচিত্রে যোগদেন। তার প্রযোজনা ৩৪টি পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি নির্মিত হয়েছে এবং পরান পাখি নামে সিনেমার তিনি একাই পরিচালনা ও প্রযোজনা করেঠেন। গত ২০১২-১৩ মেয়াদে চলচিত্র প্রযোজনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে সুনামের সাথে দ্বায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া তিনি ঢাকাস্থ কেন্দুয়া সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক,ঢাকাস্থ নেত্রকোণা সমিতির সাধারণ সম্পাদক,ময়মনসিংহ বিভাগ বাস্তবায়ন কমিটির কোষাদক্ষ ও ঢাকা বারে ২০১৬-১৭ মেয়াদে সভাপতি নির্বাচিত হন এবং দ্বায়িত্ব পালনে ব্যাপক সুনাম কুঁড়িয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের এই সিনিয়র আইনজীবি বর্তমানে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু কেন্দ্রীয় আইনজীবি পরিষদের আহবায়ক কমিটির সদস্য,বৃহত্তর ময়মনসিংহ আইনজীবি পরিষদের সভাপতি ও ময়মনসিংহ সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি দেশের নামকরা বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত রয়েছেন।

সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান মানিক এবার নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে নির্বাচনী এলাকায় নৌকার পক্ষে ব্যাপক গণসংযোগ, পথ সভা, শোডাউন, নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময়সহ সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে চলছেন তিনি। পরিবর্তন ও উন্নয়নের আশায় নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন তিনি। অল্প সময়ে তিনি জনপ্রিয় নেতা হিসেবে এলাকায় পরিচিতি লাভ করেছেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারী ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট সাইদুর রহমান মানিক বলেন, এই নৃশংস হত্যার বিচার হওয়ায় আমারা আনন্দিত। তবে আমাদের মাঝে কয়েকজন প্রতিবাদী বন্ধু আজ বেচেঁ নেই।

এই হত্যাকান্ডের বিচার দেখে যেতে পারেননি আমিরুল ইসলাম ও সেকান্দার আলী ভূইয়া। আমরা চাই আত্মস্বীকৃত পলাতক খুনিকে দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত রায় বাস্তবায়ন করা হোক।

ট্যাগ: Banglanewspaper বঙ্গবন্ধু