banglanewspaper

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে প্রশাসনিক কার্যালয় ভাংচুর কর্মকর্তাদের উপর হামলা কার্যালয়ের মালামাল লুটপাটের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হলেও এখনো আটক হয়নি কেউ।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে কিছু সংখ্যক অসাধু ব্যাবসায়ী ও শ্রমিক নেতাসহ স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির ইন্দনে সরকারের রাজস্ব আয় ব্যহত করার লক্ষে বিশৃঙ্খলা করে এই হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশের একমাত্র চর্তুদেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা যার মাধ্যমে চারটি দেশের (বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভূটান)মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি সুবিধা রয়েছে। দেশের অন্যতম বৃহত্তম স্থলবন্দর হয়েও বাংলাবান্ধায় পণ্য খালাসের দীর্ঘসূত্রতায় মালবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি জমে থাকতো। পণ্য আমদানির পর খালাশের জন্য দুর্ভোগের শিকার হয়েছে ব্যবসায়ীরা।

তাই বন্দরে ব্যাবসায়ীক ধারা অব্যাহত রাখতে বাংলাবান্ধা ল্যান্ড পোর্ট লি. লোড আনলোডে লেবার হ্যান্ডলিং এর জন্য এটিআই লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ইজারাদার নিয়োগ দেয়। বিএলপিএল কর্তৃক সরকারের স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এটিআই প্রতিষ্ঠানকে বাংলাবান্ধা বন্দরে  ট্যারিফ শিডিউল অনুযায়ী লোড আনলোড চার্জসহ লেবার হ্যান্ডলিং কাজ দেয়া হয়।

বন্দর সুত্রে জানা যায়, বন্দরের কাজ সুষ্ঠু পরিচালনার স্বার্থে স্থানীয় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে লোড আনলোড চার্জ ও শ্রমিক বৃদ্ধির কাজ শুরু করেন। বাংলাবান্ধা ব্যতীত দেশের সকল স্থলবন্দরই লেভার হ্যান্ডেলিং ঠিকাদার দ্বারা পরিচালিত হত। অন্যান্য বন্দরে হাজার হাজার লেবার কাজ করলেও, এখানে লেবার কাজ চলত মাত্র ১৯০ জন লেবার দিয়ে। সেখানে এটিআই প্রথম থেকে পূর্বের ১৯০ জন শ্রমিক থেকে ৪৩৪ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।আয় হচ্ছে লক্ষ মাত্রার অধিক রাজস্ব।

এর ফলে দিনদিন যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে রাজস্ব আয়, অন্নদিকে সৃষ্টি  হচ্ছে নুতুন নতুন কর্মসংস্থান। শ্রমিক বৃদ্ধি ও লোড আনলোড চার্জ নেয়ায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এবং শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ্ঠ সৃষ্টি হয়। তার পেক্ষিতে গত ০২/০৭/২০১৮ ইং জেলা প্রশাসক জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ স্থল বন্দর যুগ্ন সচিব আনিছ আহম্মেদের উপস্থিতিতে জুরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সেই সভার সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গোলাম আজমের সভাপতিত্বে গত ১৯/০৭/২০১৮ ইং সর্ব সম্মতিক্রমে ভারত ভুটান থেকে আমদানিকৃত পণ্য খালাসের দর নির্ধারন করা হয়। সে হিসেবে বাংলাবান্ধা ল্যান্ড পোর্ট লিঃ এর সহকারী ম্যানেজার কাজী আল তারিফসহ এটিআই লিমিটেড লোক জন গত ৬/৮/১৮ ইং বিকেল ৫ টার সময় শ্রমিকদের কাজের মুজুরী দিতে গেলে কতিপয় কিছু সংখ্যক অসাধু ব্যাক্তি হটাৎ ৫ লক্ষ টাকা চাদা দাবী করে, টাকা দিতে না চাইলে প্রায় ৮০/৯০ জন গালীগালাজ করতে করতে অর্তকিত হামলা চালায়।

হামলায় স্থলবন্দরে প্রশাসনিক ভবনের কার্যালয়ের থাইগ্লাস, দরজা জানালা, আসবার পত্র, ভাংচুর চালিয়ে ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়। নিয়ে যায় মুল্যবান কাগছ পত্র। আগুন লাগানোর চেষ্টা করাহয় স্থলবন্দরে প্রশাসনিক ভবনে। ব্যাপক মারধর করা হয় স্থলবন্দরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের। খবর পেয়ে তেঁতুলিয়া থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানিউল ফেরদৌস গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

এ সময় বাংলাবান্ধা ল্যান্ড পোর্ট লিঃ এর ৪ জন কর্মকর্তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তেতুলিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করে। এর মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। আহতরা হলেন জহিরুল ইসলাম জুয়েল, আনিছুর রহমান, শওকত আলী, কাজী আল তারিফ। পরদিন সকাল বেলা কতিপয় হামলা কারীরা আবারো বন্দর কার্যালয়ের আস পাশে ঘোরাঘুরি করলে বাংলাবান্ধা ল্যান্ড পোর্ট লিঃ এর উদ্ধতন কর্মকর্তার পরামর্শে ল্যান্ড পোর্ট লিঃ এর সহকারী ম্যানেজার কাজী আল তারিফ বাদী হয়ে (১) আব্দুর রহমান, পিতা সহির উদ্দীন, (২) আকতারুল ইসলাম পিতা মৃত সামাজ উদ্দীন সহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে পৃথক দুটি মামলাতে ৭০/৮০ জন করে অগ্যাত দিয়ে মামলা করেন।যার মামলা নং এম আর ১০৪/১৮ এবং ৩৭৬/১৮ ।

মামলার বাদী বাংলাবান্ধা ল্যান্ড পোর্ট লিঃ এর সহকারী ম্যানেজার কাজী আল তারিফ জানান, রাজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য চারদেশের সাথে আরো সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে ব্যাবসা বাণিজ্যের প্রসারেও কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

বন্দরে কিছু সংখ্যক অসাধু ব্যাবসায়ী ও শ্রমিক নেতাদের ইন্দনে সরকারের রাজস্ব আয় ব্যহত করার লক্ষে বিশৃঙ্খলা করে শ্রমিক বৃদ্ধি ও লোড আনলোড চার্জ নেয়ায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এবং শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ্ঠ সৃষ্টি করে এই হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমি হামলা কারীদের দ্রুত আটক দেখতে চাই, তারা প্রক্যাশে ঘুরাফেরা কললেও তাদের আটক করা হচ্ছেনা।

ট্যাগ: Banglanewspaper বাংলাবান্ধা