banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ২২ আগস্ট বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা। আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগরে পশুর হাটসংলগ্ন কিছু শাখা খোলা থাকলেও ঈদের আগে পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যাংক খোলা ছিল গতকাল সোমবার পর্যন্ত। এ কারণে ঈদের খরচ ও কোরবানির পশু কেনার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা তুলতে এবং ব্যাবসায়িক লেনদেনের নগদ অর্থ জমা রাখতে ব্যাংকে ভিড় করেন অনেক গ্রাহক। প্রতিটি শাখায় ছিল দীর্ঘ সারি। ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এই সময়ে নগদ টাকা জমা দেওয়া, সঞ্চয়পত্র কেনা, ব্যাংক ড্রাফট করাসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রমেরও চাপ ছিল ব্যাংকগুলোতে। তবে গতকাল সোমবারের তুলনায় আগের দিন রবিবারে এই ভিড় ছিল বেশি।

রাজধানীর মতিঝিল ও দিলকুশা, পল্টন  দৈনিক বাংলা, মালিবাগ, রামপুরা ও বারিধারাসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যাংক শাখা ঘুরে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার কোরবানির ঈদে সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা পাঁচ দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। যে কারণে অনেক গ্রাহকই ব্যাংক বন্ধের আগে প্রয়োজনীয় লেনদেন সেরে নিয়েছেন। এর মধ্যে অনেকেই এসেছিলেন নতুন টাকা বিনিময় করতে।

তবে গত রবিবারই বেশির ভাগ গ্রাহক প্রয়োজনীয় লেনদেন সেরে নিয়েছেন বলে জানান ব্যাংক কর্মকর্তারা। তা ছাড়া গতকাল থেকে অনেকেই স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন করতে ঢাকা ছেড়ে গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেওয়ায় রাজধানীও কিছুটা ফাঁকা হয়ে এসেছে। গার্মেন্ট মালিকরাও শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দেওয়ার জন্য গত রবিবারই প্রয়োজনীয় পরিমাণ নগদ অর্থ উত্তোলন করে নিয়েছেন।

পূবালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখার দায়িত্বরত ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আলী খান গতকাল এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘গত রবিবার গ্রাহকের ভিড় এত বেশি ছিল যে আমার কক্ষ থেকে বের হওয়ারও উপায় ছিল না। দরজার সামনে এতই ভিড় ছিল।’ ক্যাশ কাউন্টারের দিকে একবার উঁকি দিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আজকে দেখেন ওই রকম ভিড় নেই।’

মোহাম্মদ আলী আরো বলেন, ‘গত রবিবারই গার্মেন্ট মালিকরা প্রয়োজনীয় পরিমাণ টাকা তুলে নিয়ে গেছেন। আজ (সোমবার) তাঁরা কারখানায় বসে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দিয়ে দেবেন।’ রবিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তাঁদের শাখায় লেনদেন হয়েছে বলে জানান পূবালী ব্যাংকের ওই শাখাপ্রধান।

গত রবিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে কিছু টাকা জমা করতে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখায় যান আরামবাগের বাসিন্দা তানভীর আহমেদ। এ প্রতিবেদককে তিনি জানান, টোকেন নিয়ে টাকা জমা দেওয়ার সারিতে দাঁড়িয়ে দেখেন টোকেন অনুযায়ী তাঁর সিরিয়াল ২৫৫। দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করার পর টাকা জমা দিতে সক্ষম হন তিনি। ওই দিন পূবালী ব্যাংকের রামপুরা শাখায় গ্রাহকের ভিড় শাখার বাইরের ফুটপাতে নেমে আসে।

তবে গতকাল এ রকম ভিড় দেখা যায়নি এনআরবি গ্লোবাল, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ও ওয়ান ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকের মতিঝিল ও দিলকুশা শাখায়। তবে ডাচ্-বাংলা, ইসলামী ব্যাংক, ইস্টার্ন, সিটি ও ব্যাংক এশিয়ার শাখায় ভিড় ছিল তুলনামূলক বেশি।

এদিকে ব্যাংকে টাকা তোলার চাপ থাকায় কয়েক দিন ধরেই আন্ত ব্যাংক মুদ্রাবাজারে (কলমানি মার্কেট) নগদ টাকা ধার নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। তবে বর্তমানে সার্বিকভাবে সুদহার নিম্নমুখী থাকায় এই বাজারের সুদের হারও নিম্নমুখী রয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, অন্যান্য সময়ে আন্ত ব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় হাজার কোটি টাকা হাতবদল হতো। কোরবানির ঈদের আগে লেনদেনের চাপ সামলাতে গিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কলমানি থেকে বাড়তি টাকা ধার করতে হয়েছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার এই বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ১১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।

গত মঙ্গলবার থেকে রবিবার পর্যন্ত তিন কর্মদিবসের মধ্যে কলমানিতে সবচেয়ে বেশি টাকা ধার দেওয়া-নেওয়া হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। ওই দিন কলমানিতে ১১ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকা হাতবদল হয়। এর আগে মঙ্গলবার হাতবদল হয় ১০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা এবং গত রবিবার হাতবদল হয় ১০ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা।

তবে কলমানির সুদের হার এবার খুব একটা বাড়েনি। সর্বশেষ গত রবিবার কলমানির সুদহার ছিল সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন সুদহার ছিল ৪ শতাংশ। ব্যাংকগুলোর মধ্যকার লেনদেনে কলমানির গড় সুদহার ছিল ৪.৪৫ শতাংশ এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার লেনদেনের গড় সুদহার ছিল ৪.৯৭ শতাংশ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশু কেনাসহ বাড়তি কেনাকাটায় নগদ টাকা তুলতে ব্যাংকগুলোতে ভিড় করে গ্রাহকরা। এ কারণে ঈদের সময় লেনদেন বেড়ে যায়। তবে বর্তমানে কিছু ব্যাংকের নগদ টাকার দরকার পড়লেও সার্বিকভাবে ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার সংকট নেই।’

লেনদেন বাড়লেও কলমানি মার্কেটে সুদহার স্থিতিশীল রয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘নগদ টাকার সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে; আশা করছি নগদ টাকা লেনদেনে কোনো সমস্যা হবে না।’

এদিকে টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে গ্রাহকদের লেনদেনের সুবিধার্থে সব ব্যাংকের এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি এটিএম ও পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) ই-পেমেন্ট গেটওয়ে ও মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেন সার্বক্ষণিক সচল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। 

ট্যাগ: banglanewspaper ব্যাংক