banglanewspaper

সাজ্জাদ সাজু : নাগরিক জীবনের যান্ত্রিকতা আর ইট কাঠের এ শহরে একটু স্বস্তিভরে নিশ্বাস নেবার জন্য আমাদের কত আকুতি। আর এ জন্য আমরা ছুটে যাই ঢাকা শহরের বিভিন্ন পার্ক কিংবা বিনোদন কেন্দ্রে। কিন্তু সরকারি পার্কগুলোর অধিকাংশ  মাদকসেবীদের দখলে তাই পরিবেশ ও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সেগুলোতে যাওয়ার উৎসাহ হারিয়ে ফেলে অনেকে।আর বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা বানিজ্যিক পার্কগুলোতে পর্যাপ্ত যায়গা না থাকায় জণাকীর্ণ পরিবেশে সেখানে শিশুদের নিয়ে বড়রা বেশিক্ষণ থাকার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।আর খেলার মাঠগুলো অধিকাংশ নানা ভাবে বেদখল হয়ে যাওয়ায় শিশু-কিশোররা খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ফলে কম্পিউটার-মোবাইলে গেইম, ফেসবুক সহ বিভিন্ন ভার্চুয়াল আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ে শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। আবার বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে বিভিন্ন যাদুঘর ও সরকারি সংগ্রহশালা গুলোতে কোন বিনোদনের ব্যবস্থা না থাকায় শিশু কিশোরেরা এসব যায়গাকে বিনোদনের মাধ্যম  হিসেবে গ্রহন করছেনা। 

এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে ঢাকার প্রণকেন্দ্র তেজগাঁতে অবস্থিত পুরাতন বিমানবন্দরের আগারগাঁও অংশে ২০০৪ সালে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠে সুবিশাল বিমান যাদুঘর ও পার্ক।  বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গৌরবজ্জ্বল ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিমান জাদুঘরটি। সারি সারি হান্টার বিমান, এন-২৪, এফ-৮৬,বাংলাদেশের প্রথম বিমান বলাকা সহ মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত অনেক বিমান। এগুলো দেখার পাশাপাশি বিমানে উঠে বাস্তবিক অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

শিশুদের মনোরঞ্জন ও উৎসাহ বৃদ্ধির জন্য শিশু পার্কের পাশাপাশি ফুটপাথের বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে জিরাফ, শিম্পাঞ্জি, হরিণ ইত্যাদি নানা রকম পশু-পাখির প্রতিকৃতি ও জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্রের দৃষ্টিনন্দন সমাহার। এটার নাম দেয়া হয়েছে ‘চিলড্রেন হেভেন’। এখানে রয়েছে শিশুদের জন্য অনেক দৃষ্টিনন্দন রাইড, রয়েছে পানির ফোয়ারা।

সুবিশাল পুকুরে সুসজ্জিত ওয়াটার বোট, মিনি ট্রেন, রেঞ্জার, দোলনায় ছোটদের সাথে সাথে বড়রাও বিনোদন নিতে পারবেন।বিশাল মাঠ আর রয়েছে প্রাকৃতিক পার্কে বসে মুক্ত বাতাস গ্রহনের সুযোগ, বাহারী সব গাছ ও ফুলের বাগান। যেখানে বসে কিছু সময়ের জন্য হলেও নাগরিক জীবনের কোলাহল- যন্ত্রনা থেকে মুক্তি লাভ করা যাবে।তাই প্রতিদিন এখানে অনেকেই বেড়াতে আসেন একটু খোলামেলা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে।     

জাদুঘরে দর্শনার্থীদের পানাহারের জন্য প্রাঙ্গণের দক্ষিণ দিকে নির্মাণ করা হয়েছে একটি ফুড কোর্ট ‘যইতুন’ এখানে ভোজন রসিকেরা মুক্ত পরিবেশে খাবার খেতে আসেন, তাছাড়া এর মনোরম পরিবেশে অনেকেই জন্মদিন সহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন। 

জাদুঘরটি সোম থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শুক্র ও শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে। রবিবার সাপ্তাহিক বন্ধ এবং প্রবেশ মূল্য ৪০ টাকা। সময় ও সুযোগ বুঝে প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন বাংলাদেশ বিমান জাদুঘর থেকে।

ট্যাগ: banglanewspaper যাদুঘর