banglanewspaper

{অরুন সরকার}
কয়েকমাস পরই আসছে একাদশ জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচন নিয়েই চলছে সারাদেশে এখন জল্পনা-কল্পনা। একধারে সভা-সমাবেশে জনগণের কাছে ভোট চেয়ে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা । কিন্তু জাতীয়পার্টি ‘ধরিমাছ না ছুই পানি’ এমনি অবস্থায় চলছে তাদের দলীয় কার্যক্রম। তারা জনগণের নিকট ভোট চাওয়া-পাওয়া নিয়ে মেুখ খুলেও খুলছেন না! যদিও জাতীয়পার্টির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ দলের সাথে তালে তাল মিলিয়ে জোঠ গলায় ভোট চাওয়া-পাওয়ার লোকচুরি খেলায় মত্ত রয়েছেন। অথচ একসময়ের প্রধান বিরোধিদল জাতীয়তাবাদিদল বিএনপি ভোট চাওয়া-পাওয়ার মধ্যে মাঠে নেই বললে চলে। তারা দৌড়ঝাঁপ দিচ্ছেন তাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জেল জুলুম হতে মুক্ত করতে। আর গণতান্ত্রিক চর্চা রক্ষা করতে রাজনৈতীক বিভিন্ন জোট জামেলাগুলো সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশের জনগণের নিকট তুলে ধরছেন (প্রেস ব্রিফিং) মিডিয়ার মাধ্যমে। 
 
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এক সূত্রে গাঁথা  দু’টি রাজনৈতীকদল হলেও বর্তমানে বিএনপি পড়ে রয়েছে ধ্বংসস্তুপে। এ থেকে উত্তোরন খুঁজছে বিএনপি। ইতিমধ্যে তারা কিছু উন্নতির উচ্চ শেখড়েও পৌচেছে। যার প্রমাণ পাওয়া গেছে একাধিক সিটি নির্বাচনে তাদের দলীয় প্রার্থীর জয়ের মাধ্যমে। এবং গুরুত্বপুর্ন একটি সিটি হারিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারদল। এটি হচ্ছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। আওয়ামী লীগ সরকারদলের নৌকা প্রতিক মার্কা নিয়ে মাঠে ছিলেন মেয়রপ্রার্থী হিসেবে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। তার প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী ছিলেন সিসিক সাবেক মেয়র বিএনপি ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সেখানে আওয়ামী লীগ সরকারদলের তৃণমুল নেতাকর্মীরা মাঠে থেকেও ভোটযুদ্ধে হারিয়ে গেছেন। চরম খেশারত দিতে হয়েছে আওয়ামী লীগ তৃণমুল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের । ‘এ থেকে স্পষ্ট যে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা সত্বেও বিপুল ভোটে জয়ী হচ্ছেন বিএনপি প্রার্থীরা। এর চেয়ে লজ্জাজনক হার কি হতে পারে!’

একটু পেছনের দিকে থাকালে সিলেটের ইতিহাস বলে দেয়, ‘সিসিক নির্বাচনে বা সিলেট এক আসনে যে দলের প্রার্থী জয়ী হন তারাই জাতীয় নির্বাচনে সরকারদল গঠন করেন।’ কারন “৩৬০আউলিয়ার” পবিত্র এ পূণ্য ভুমি’র হিসেব-নিকেশ সম্পন্ন আলাদা। সিলেট এক আসন নির্বাচনে যে বা যারা জাল-জালিয়াতি,ভোট কারচুপি করার চেষ্টা করেন, অবশেষে তাদেরকেই অসহায়ের মতো মাঠে হার মানতে হয়। তাহলে সিসিক নির্বাচন প্রমাণ করে যে, আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির ভাগ্য জয়ী হতে সহায়ক ভ’মিকা পালন করবে। তবে বিএনপি-কে মনে রাখতে হবে সিলেট এক আসনকেও তাদের কব্জায় বন্ধি রেখে ভোটযুদ্ধে জয়লাভ করতে হবে। কারন স্বাধীন এ রাষ্ট্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’ই হচ্ছে প্রধান দু’টি রাজনৈতীক দল একথা কোন সন্দেঃহ নেই । যে যাকে যতই গায়েল করার চেষ্টা করুক না কেন এ দু’টি দলকে নিঃশ্বেস করা যাবেনা! 
 
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এবং এদেশের জনগণ ভুলেনি সেই এরশাদামলের (জাতীয় পার্টির) গল্পকাহিনী । অথচ আজ তারা লেজুর ভিত্তিক ‘প্রশ্নবিন্দ’ রাজনৈতিকদল হিসেবে খ্যাত। এখনও তারা জাতীর নিকট মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারেনি বা দাঁড়াতে দেয়নি এ বাঙ্গালী জাতী । ঠিক তেমনি ২১ আগষ্টের গ্রেণেড হামলারপর জাতীয়তাবাদিদল বিএনপি’র আস্তে আস্তে তাদের দলের ভাবমূর্তী ক্ষুন্ন হতে তাকে। তাদের টার্গেট ছিল জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর কণ্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখহাসিনাকে নিঃশ্চিহ্ন করা ! সেই হামলায় আওয়ামী লীগ’র রাজনৈতীক দলের একনিষ্ট প্রতিভাবান শীর্ষ স্থানীয় নেত্রী আইভি রহমান মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়াও আরো অনেকে পঙ্গুত্ব জীবণ-যাপন করছেন । যার বিচারকার্য আজ চৌদ্দ বছরের কোঠায় এসে পৌচেছে । সেই মরন কামরে সরাসরি জড়িত ছিলেন বিএনপি-জামায়াতসহ গোয়েন্দাসংস্থার কয়েকজন শীর্ষ স্থানীয় নেতাকর্তা । এমনটি তথ্য বেরিয়ে এসেছে স্বাক্ষ্য প্রমাণে । এখন শুধু অপেক্ষার পালা কবে হবে সেই আদালতের রায়।

এদিকে বর্তমানে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় আওয়ামী লীগ সরকারের একটু হলেও দলের ভাবমূর্তী ক্ষুন্ন হয়েছে । কারন যে রায়টি বিচারকের আদালত দিয়েছেন সেই রায়টি নিয়ে দেশে-বিদেশে প্রশ্ন ওঠেছে । সেখানে প্রাধান্য পেয়েছে শুধু একটাই কথা মা-ছেলে মিলে কিভাবে গরীবের টাকা আত্মসাৎ করতে পারেন ? সরকার এতে সহযোগীতা না করে বরং সরকারের পক্ষের মন্ত্রী-এমপিরা সেটাকে নিয়ে উপহাস করছেন । এতে যে, হিতে বিপরীত হচ্ছেনা সেটা বলা সম্ভব নয় ! তার উপরে ফের মামলা দায়ের করেছেন আওয়ামী লীগ দলের নেতাকর্তারা । এ দেশের প্রত্যন্ত অ লের বিচারাদালতে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে এ মামলাগুলোও ঝুলছে বিএনপি নেত্রীর উপরে ! এমনিতেই বাংলাদেশের যতটি থানা রয়েছে মনে হয়না এমন কোন থানা বাকি রয়েছে শীর্ষ স্থানীয়-নিম্নস্থানীয় বিএনপি নেতাদের উপরে কোন মামলা নেই । তার খেশারত গুণতে হবে আওয়ামী লীগ সরকারকে এবং তার দায়ভার তাদের উপরেই বর্তাবে । ‘যদি একাদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাহলে সেই গণেশ পাল্টাতে বেশিক্ষন সময় নাও দিতে পারে জনগণ। যেহেতু ভোটের মালিক জনগণ, সরকার নয়?’ তাই আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচন উভয়দলের জন্য একটি গুরুত্বপুর্ন নির্বাচন একথা বলা যেতেই পারে ।

যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কারনে জয় পেতে পারে আওয়ামী লীগ-
*  বিগত দশ বছরে সমগ্র দেশে যে পরিমান উন্নতি হয়েছে তা অবিস্মরনীয়
*  যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ সম্পন্ন ও জঙ্গি নির্মূলে গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা রাখায় ।
*  সমগ্র দেশে প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে বিনামূল্যে বই বিতরন ও ছাত্র/ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান ।
*  সারাদেশে বিদুৎ পৌছে দেয়া ও মাদকাসক্ত দেশ গড়তে বিশেষ ভ’মিকা পালন করা ।
*  সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতনভাতা বাড়িয়ে দেয়া ও বিনোদন-খেলাধুলা পর্যায়ে গুরুত্বপুর্ন ভ’মিকা পালন করা ।
যে কারনে জয় থেকে বঞ্জিত হতে পারে আওয়ামী লীগ- 
* প্রতিহিংসার রাজনীতিতে জড়িত হয়ে গৃহযুদ্ধের রাজনীতি সৃষ্টি করায়।
* পিলখানার  বিডিআর বিদ্রোহ বির্তকিত ঘঁটনা ও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাভোগ রাখায় ।
* কোন ঘঁটনা সামাল দিতে পুলিশ,র‌্যাব ও ছাত্রলীগকর্মী ব্যবহার করায় ।
* সারাদেশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা - বিদুৎবিলে কার্ড তৈরী করা ও শহড় থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যন্ত কাচ,পাঁকা বাড়ি ঘর হতে সরকারী ট্যক্স আদায় করায়।
* সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের নিয়োগে এমপি-মন্ত্রীদের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও দেশে একনায়তন্ত্রের রাজনীতির অপচেষ্টা চালানো।
* ছাত্র/ছাত্রীদের দাবিকৃত মূল শর্ত সড়ক দুর্ঘটনাকারী গাড়ির চালকদের যাবজ্জিবণ-মৃত্যুদন্ডাদেশ দেয়া,সেখানে আইনের ফাঁক রেখে শর্তসাপেক্ষে আইন পাশকরা ।
* কোটা সংস্কার নিয়ে ছাত্র/ছাত্রীদের জেল, জুলুম, নির্যাতন ও তথ্যপ্রযুক্তি আইন ব্যবহার করায়।
* অনলাইন গণমাধ্যম নিবন্ধন আশ্বাস দিয়ে ঝুঁলিয়ে রাখা ও অনেক নির্যাতিত সাংবাদিক বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হওয়ায়।

উপরের জরীপ বলছে বাংলাদেশের জনগণ উন্নয়নের পাশাপাশি বেশি গুরুত্ব দেয় নীতিপরায়নতাকে । তারা কখনও গৃহযুদ্ধের মাঝে আবদ্ধ থাকতে চায়না। এ বাঙ্গালী জাতী গনতন্ত্র চর্চায় বিশ্বাসী। জেল, জুলুম, নির্য়াতনে তারা বিশ্বাসী নয়। যেমনটা অতীতে করেছিল বিএনপি-জামায়াত। সেই রুপরেখা এখন ফলো করছে আওয়ামী লীগ। অদূর ভবিষ্যতে সেই আওয়ামী লীগ দল যেন না হয়ে ওঠে লেজুড় ভিত্তিক দল জাতীয়পার্টির মতো। সময় থাকতে যদি আওয়ামী লীগ দল সবক’ল রক্ষা করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে তাহলে সেটাই হবে বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।

 

লেখক ও সাংবাদিক,
অরুন সরকার।

 

 

 

 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: bdnewshour24 আওয়ামী লীগ