banglanewspaper

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার বিচারকার্যের জন্য সংবিধান মেনেই কারাগারে অস্থায়ী আদালত স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই আদালত এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  

‘কারাগারে অস্থায়ী আদালত স্থাপন করায় সংবিধান লঙ্ঘন হয়েছে’- বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের এমন অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কারাগারে আদালত স্থানান্তর করায় সংবিধান লঙ্ঘন হয়নি। সংবিধানসম্মতভাবেই করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণেই পুরনো কারাগারে অস্থায়ী আদালত স্থাপন করা হয়েছে।’

এদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বুধবার সকালে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারের ভেতরে বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাস বসিয়ে জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার বিচারকার্য চালানো হয়। 

আদালতে মামলার প্রধান আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নিজের অসন্তোষ ব্যক্ত করে বিচারককে বলেন, ‘আপনার যত দিন ইচ্ছা সাজা দিন, আমি এ অবস্থায় আসতে পারবো না। এ আদালতে আমার ন্যায়বিচারও হবে না।’

এসময় বেগম জিয়া আদালতকে আরও বলেন, ‘আমি অসুস্থ। আমি বারবার আদালতে আসতে পারবো না। আর এভাবে বসে থাকলে আমার পা ফুলে যাবে। আমার সিনিয়র কোনও আইনজীবী আসেনি। এটি জানলে আমিও আসতাম না।’

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাকে জেলে রাখতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। আমার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। আমার আইনজীবীদেরও আদালতে আসতে দেয়া হচ্ছে না। তাদের যথাযথভাবে নোটিশ দেয়া হয়নি। যে প্রজ্ঞাপন গত রাতে করা হয়েছে, তা সাত দিন আগে কেন করা হয়নি?’

আধা ঘণ্টারও কম সময় আদালতের কার্যক্রম চলার পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা না থাকায় শুনানি মুলতবি করে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর শুনানির নতুন দিন ধার্য করেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান।

এতিমদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে রায় দেন নিম্ন আদালত। ওইদিনই বেগম জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। বর্তমানেও তিনি সেখানেই বন্দি আছেন। 

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় কুয়েত থেকে এতিমদের জন্য পাঠানো দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করে দুদক। ওই বছরই ৪ জুলাই মামলাটি গ্রহণ করেন আদালত। তদন্ত শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেন।

ট্যাগ: banglanewspaper অ্যাটর্নি জেনারেল