banglanewspaper

যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে সঠিক তথ্য দেশে যৌন হয়রানি এবং জেন্ডার বৈষম্য কমাবে বলে মনে করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

তিনি বলেন, ‘যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা এবং অধিকার (এসআরএইচআর) বিষয়ে কথা বলা স্কুলে ও পরিবারে প্রায় নিষিদ্ধ বলা যায়। স্কুলের পাঠ্যবইয়েও সযতনে এ বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়। এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার, কারণ এসআরএইচআর মানবাধিকারের বিষয়।’

রবিবার (০৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারে নলেজ ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় এসআরএইচআর বিষয়টি সরাসরি যুক্ত। সমাজ ও অর্থনীতিতেও এর প্রভাব রয়েছে। তাই এসআরএইচআর বিষয়ে জ্ঞান বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে পারবো।’

সরকার এ বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার বিষয়ে সঠিক তথ্য যৌন হয়রানি এবং জেন্ডার বৈষম্য কমাতে সাহায্য করবে। আমরাই ইমামদের যুক্ত করেছি যাতে তারা এ বিষয়ে কথা বলেন। যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার বিষয়ে জানাতে ধর্মীয় সহযোগিতার দরকার। তাহলে মানুষ এ বিষয়টিকে গোপনীয় বা লজ্জার বলে মনে করবেন না। সুস্থ জীবনের জন্য এ বিষয়ে জানা দরকার।’

ইনু বলেন, ‘এ বিষয়ে পুরুষদের একতা দরকার। যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার বিষয়ে তাদের জ্ঞান বাড়াতে হবে; তা না হলে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার নিশ্চিত করা কঠিন হবে। বয়ঃসন্ধিকাল থেকে কিশোর-কিশোরীদের এ বিষয়ে জানাতে হবে।’

ঢাকায় নিযুক্ত নেদারল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ইয়েরুন স্তেইখ বলেন, ‘এসআরএইচআর নিয়ে কথা বলা খুবই জরুরি। আর এ বিষয়ে সঠিক তথ্য দেয়ার কাজটা করে আসছে শেয়ার-নেট বাংলাদেশ। এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নীতিনির্ধারক, প্রাকটিশনার, গবেষক, ডাক্তারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষেরা এক ছাদের নিচে এসে এসআরএইচআর বিষয়ে কথা বলতে পারছেন।’

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি অধ্যাপক সাবিনা ফাইজ রশিদ বলেন, ‘যখন আমরা সেক্সুয়ালিটি নিয়ে কথা বলি তখন শুধু সংখ্যালঘু কিছু মানুষের কথা বলছি না, আমরা সকল মানুষের অধিকারের কথা বলি। এ বিষয়ে জ্ঞান ও সচেতনতা বাড়াতে অ্যাডভোকেসি দরকার। আর সেজন্য ডাক্তার, সাংবাদিকসহ সকল পেশার মানুষের অন্তর্ভুক্তি প্রয়োজন।’

রেড অরেঞ্জ মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনের সিনিয়র এসআরএইচআর অ্যান্ড জেন্ডার স্পেশালিস্ট এলাদিভুদ বলেন, ‘এসআরএইচআর বিষয়ে সকলের জানা দরকার। কারণ এটি একটি সমাজকে সমতার সাথে গড়ে উঠতে ভূমিকা রাখে।’

রেড অরেঞ্জ মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অর্নব চক্রবর্তী বলেন, ‘তৃতীয়বারের মত নলেজ ফেয়ার আয়োজন করেছে শেয়ার-নেট বাংলাদেশ। যেসকল প্রতিষ্ঠান এসআরএইচআর নিয়ে কাজ করছে তাদের সবাইকে এক সাথে নিয়ে কাজ করতে চায় শেয়ার-নেট বাংলাদেশ।’

প্রসঙ্গত, শেয়ার-নেট বাংলাদেশ যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকারবিষয়ক একটি প্ল্যাটফর্ম; যার লক্ষ্য উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এসআরএইচআর ক্ষেত্রে নীতি নির্ধারণেও সক্রিয় কার্যক্রম গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখা। এসআরএইচআর বিষয়ে জ্ঞান বাড়াতে এবং এ বিষয়ে আলোচনা করতে এই নলেজ ফেয়ারের আয়োজন করেছে।

ট্যাগ: banglanewspaper তথ্যমন্ত্রী