banglanewspaper

নিখোঁজ থাকা সেই ১২ শিক্ষার্থীকে অবশেষে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গ্রেফতার দেখানোর পর তাদেরকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) তাদেরকে আদালতে নিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে ঢাকা মহানগর হাকিম নূর নাহার ইয়াসমিন প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ২ দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন।

এর আগে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। রবিবার মামলাটি দায়ের করেন ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুর রহমান।

আটক ১২ শিক্ষার্থী সম্পর্কে পুলিশ বলছে, গত ৬ আগস্ট তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকায় অবস্থিত আহসান উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দুষ্কৃতকারীরা সরকার-বিরোধী স্লোগান দেয়, পুলিশের ওপর হামলা করে। এ ঘটনার সঙ্গে ১২ আসামির জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। 

রিমান্ডপ্রাপ্ত ১২ শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন গত ৫ তারিখে তেজগাঁওয়ের তেজকুনিপাড়া থেকে ডিবি পরিচয়ে তাদেরকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। আরও অনেককে ধরে নিয়ে গেলেও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হলেও এই ১২ শিক্ষার্থীকে ডিবি অফিসে আটকে রাখা হয়। 

রিমান্ডে নেওয়া ১২ শিক্ষার্থী হলেন, তারেক আজিজ, মুজাহিদুল ইসলাম, ইফতেখার আলম, জাহাঙ্গীর আলম, রায়হানুল আবেদীন, মাহফুজ আহমেদ, তারিক আজিজ, মেহেদী হাসান, জহিরুল ইসলাম, সাইফুল্লাহ বিন মানসুর, আল আমিন ও বোরহান উদ্দিন। 

এরা ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটি, তিতুমীর কলেজ, টাঙ্গাইলের করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী।

পুলিশ আজ আদালতে গ্রেফতারকৃত ১২ জনকে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারের জন্য তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি বলে রিমান্ড আবেদনে বলা হয়। পুলিশ আদালতকে বলেছে, এ মামলায় গ্রেফতার ১২ জনই শিবিরের সক্রিয় কর্মী। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। তারা আদালতকে বলেন, তারা সবাই শিক্ষার্থী। কোনও অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন।

গ্রেফতার শিক্ষার্থীদের মধ্যে তারেক আজিজকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে করা আরও একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। এ মামলায়ও তাকে দুই দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন।

শিক্ষার্থী বোরহান উদ্দিনের আইনজীবী মাহফুজার রহমান বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ঘটনার মামলায় তার মক্কেলকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।’

গতকাল রবিবার সাইফুল্লাহ বিন মানসুরের বাবা মানসুর রহমান ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্র্যাব) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন , তার দুই সন্তান সাইফুল্লাহ ও সিফাতকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সিফাতকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সাইফুল্লাহর সম্প্রতি একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে চাকরি হয়েছে। ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ নিতে তিনি ঢাকায় এসে ছোট ভাই সিফাতের মেসে ওঠেন। সেখান থেকে দুই ভাইকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। সিফাত ফিরে এসে বলেছেন, ডিবি অফিসে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা হচ্ছে। তাদের জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, তারা নিরাপদ সড়ক ও কোটা আন্দোলনে ছিলেন কি না।

রিমান্ডে নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ মহাখালী, তেজকুনিপাড়া ও বিজি প্রেস এলাকা থেকে ৩১ জনকে তুলে নিয়ে যায়। এক দিন পর ১২ জনকে আটকে রেখে বাকি শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আটকে রাখা ১২ জনকেই আজ রিমান্ডে নেওয়া হলো।

ট্যাগ: bdnewshour24 রিমান্ড