banglanewspaper

পিরোজপুর প্রতিনিধি : আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ৮ নং আসামী পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার সূর্য সন্তান কর্পোরাল এম এ সামাদ দাফন তার নিজ বাড়িতে সম্পন্ন হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় আনায় হয়।

রবিববার রাতে ঢাকা গ্রীনরোড স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদে প্রথম জানাযা শেষে আসর নামাজ বাদ মঠবাড়িয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাঁয়ে পুলিশ প্রশাসনের গার্ড অফ অর্নার শেষে দ্বিতীয় জানাযা এবং উপজেলার দক্ষিণ মিঠাখালী নিজ গ্রামের বাড়িতে তৃতীয় জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব এস এম সোহরাব হোসেন, মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: গোলাম ছরোয়ার, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বাচ্চু আকন, মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সেলিম মাতুব্বর। 

এম এ সামাদ ৯৫ বছর বয়সে চিকিৎসাধীন অবস্থান রোববার রাতে বার্ধক্যজনিত কারনে ঢাকা হৃদরোগ হাসপাতালে মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি এক সন্তান ও ৪ মেয়ে সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। ইতিহাসের এই বরেণ্য ব্যক্তি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার কাছিছিড়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। 

এম এ সামাদ বিমান বাহিনীতে কর্পোরাল পদে কর্মরত ছিলেন। ৯নং সাব সেক্টর কমান্ডের কমান্ডার এবং তিনি মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। এছাড়া তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি বার্ধক্য ও হৃদরোগজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মঠবাড়িয়া উপজেলা আ’লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ সর্বস্তরের জনগণ গভীর শোক প্রকাশ করেন।

১৯৬৮ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা ও পরবর্তীকালে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫জন বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' দায়ের কর করা হয়েছিলো। ওই মামলার আট নম্বর আসামী ছিলেন করপোরাল আবদুস সামাদ। তখন মামলায় অভিযোগ করা হয় যে, শেখ মুজিব ও অন্যান্যরা ভারতের সাথে মিলে পাকিস্তানের অখণ্ডতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এই মামলাটির পূর্ণ নাম ছিল রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবর রহমান গং মামলা। তবে এটি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হিসাবেই বেশি পরিচিত, কারণ মামলার অভিযোগে বলা হযয়েছিল যে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় কথিত ষড়যন্ত্রটি শুরু হয়েছিল।

কর্পোরাল এম এ সামাদ এর নাতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদ্যবিদায়ী সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন বিন সত্তার বলেন, আমার দাদা লোভ লালসার উর্ধে থেকে সততার সাথে রাজনীতি করেছেন। তিনি কখনো নিজের কথা নিজের পরিবারের কথা ভাবেননি সারাজীবন দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে গেছেন।  তিনি বঙ্গবন্ধুর অত্যান্ত ঘনিষ্ঠ জন ছিলেন বঙ্গবন্ধু তাকে আদর করে ভাগিনা বলে ডাকতেন। বঙ্গবন্ধু রাস্ট্রপতি হওয়ার পরে ধানমন্ডির ৩২ নাম্বার বাড়িতে ডুকতে কখনো তার পাশ লাগতো না। তিনি চাইলে বঙ্গবন্ধুর থেকে অনেক কিছু চেয়ে নিতে পারতেন কিন্ত বঙ্গবন্ধুর থেকে তিনি কখনো কোন কিছু চেয়ে নেননি। শেষ জীবনে তার বিপদের দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পাসে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। 

মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সেলিম মাতুব্বর বলেন, স্বাধীনতার পূর্বে থেকে কর্পোরাল এম এ সামাদ মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন, তাকে হারিয়ে মঠবাড়িয়াবাসী এক সূর্য সন্ত্রানকে হারিয়েছে। আমরা উপজেলা আওয়ামীলেিগর পক্ষ থেকে গভীর শোক জানাই এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি।

ট্যাগ: banglanewspaper পিরোজপুর