banglanewspaper

মহান সৃস্টিকর্তা মানুষ সৃস্টি করে মানুষের যে জীবন পরিক্রমা দিয়েছেন তন্মধ্যে যৌবন কাল অন্যতম। শৈশব, কৈশর ও যৌবন খুব অল্প সময়ের জন্য আসে। কিন্তু বৃদ্ধাবস্থা কতদিন থাকবে তা মানুষের অজানা।

শৈশব ও কৈশরে প্রতিটি মানুষ জীবনের মর্ম অনুধাবন করতে ব্যর্থ। কিন্তু যৌবনকাল এমন একটা সময় যে সময়ের সঠিক ব্যবহারই ব্যক্তির পরবর্তী জীবনে পুর্ণতা এনে দেয়।সেকারণ যৌবন বা যুবশক্তির অবমূল্যায়ন ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।

যুবশক্তি এমন এক শক্তি যা পর্বতের মত অটল থেকে মাথা উঁচু করে অবদমিত হওয়ার শিক্ষা দেয়।এই শক্তি নির্ভীক,অস্থির সদা চঞ্চল যাকে শৃঙ্খলিত করা যায় না। সদা জাজ্বল্যমান থেকে সকল বাঁধা-বিপত্তিকে অতিক্রম করে কন্টকাকীর্ণ পথকে কুসুমাস্তীর্ণ করতে জানে যুবশক্তি।

পৃথিবীর ইতিহাসে যত সংগ্রামী মুক্তির আন্দোলন হয়েছে তার রথের সারথি হয়ে পথ দেখিয়েছে যুবকদল। তবে এখন তাঁরা কোথায়? যুবশক্তি কি এখন ন্যায়ের পথে মানব মুক্তির জন্য মাথা নত করছে?

যে শক্তির জয়গান গেয়েছেন কবি নজরুল,রবীন্দ্রনাথ, সুকান্ত,প্রমথ চৌধুরি। যে শক্তিবলে জালিমের জিঞ্জির ভেদ করে অর্জিত হয়েছে একাত্তরের স্বাধীনতা। সে যুবশক্তি আজ কোথায়? কোন পথে যাচ্ছে যুবসম্প্রদায়? কোনপথে ব্যয় করছে তাঁদের শক্তি? সভ্যতার উৎকর্ষে বিজ্ঞান কে হাতের মুঠোয় পেয়ে এক শ্রেণীর যুবক দল সর্বদা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর অপব্যবহার করছে

ফেজবুক, টুইটার, ইউটিউব এবং ম্যাসেঞ্জার চ্যাটে নিজেদের ঢুবিয়ে রেখে মূল্যবান সময় নষ্ট করছে। দুনিয়ার হাল হাকিকত জানার প্রয়োজন তাঁরা মনে করে না। কেউ নেশার গরলে হাবুডুবু খেয়ে যুবশক্তির প্রতি রক্ত কণিকায় বিষ ঢুকিয়ে অকালে জীবন ক্ষয় করছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা প্রেমের নামে নিজ প্রতিষ্ঠানের চিপায়,পার্ক, চিড়িয়াখানায় অথবা এর ওর ফ্লাটে নারী নিয়ে মত্ত থাকাকেই জীবন ভাবছে। নারী ও শিশু ধর্ষণ যেন পাগলা ঘোড়ার ন্যায় লাগাম ছাড়া যার মূলে রয়েছে যুবশক্তির অপব্যবহার।

যুবশক্তির  বৃহৎ একটা অংশ জড়িয়ে পড়েছে সন্ত্রাস এবং জঙ্গীবাদি কার্যক্রমে।দলীয় চাটুকারিতায় নষ্ট রাজনীতির অপসংস্কৃতির কারণে দেশের যুবশক্তি ব্যয়িত হচ্ছে দলীয় সন্ত্রাসের আঞ্জাম দিতে। ফলে বিপরীতে দল বা মতাদর্শের হলেই পান থেকে চুন খসা মাত্রই লাশ পড়ে যাচ্ছে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে।সহপাঠীর রক্তে হাত রঞ্জিত করতেও দ্বিধা করছে না তাঁরা।

অধিকারের দাবীতে কেউ প্রতিবাদ করলেও দলীয় মান রক্ষায় হায়েনার মত জীবন্ত মানুষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। কারা এরা? এরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। দেশ গড়ার কারিগর।এই কারিগররা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেছে এরা মনে হচ্ছে পণ করেছে অন্যায় পথ ছাড়বে না।এদের পদস্খলনের জন্য কি দায়ী শুধুই তাঁরা? আর কি কারও দায়বদ্ধতা নেই? জাতির বিবেকবান বুদ্ধিজীবীদের কাছে প্রশ্ন রেখে গেলাম।

কথায় আছে, "যে পর্বতের ভিত্তি দূর্বল তার থেকে প্রস্তরখণ্ড সহজেই খুলে পড়ে। " যুবশক্তি একটি দেশের মূল ভিত্তি। যদি এই ভিত্তিই মযবুত না হয় তবে এ জাতির ধ্বংস অনিবার্য। তখন দ্বিতীয়বার একাত্তর আসলে "রোম যখন পুড়ছিল নিরু তখন বাঁশি বাজাচ্ছিল " গল্পের ন্যায় হবে। তাই আসুন! যুবশক্তিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচিয়ে মানব কল্যাণে লাগানোর উপায় অনুসন্ধান করি।

লেখক

আব্দুর রউফ সালাফী, বি এ (অনার্স),

৩য় বর্ষ, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ,

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: banglanewspaper যুবশক্তি