banglanewspaper

মো. নাসির উদ্দিন, নকলা ( শেরপুর): ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজ আমরা গর্বের সহিত বাঙ্গালী জাতীয়তার পরিচয় দিতে পারি। জাতির পিতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়েই পাকিস্তানী হানাদারদের বিরুদ্ধে তাঁরা জীবন বাজিরেখে এই দেশকে স্বাধীন করেছিলেন।

তাঁরা আমাদের গর্ব, তাঁরা অতীতেও ছিলেন, বর্তমানে আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। তাদের ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন হওয়া এই দেশ বঙ্গবন্ধু কন্যা জন-নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নের্তৃত্বে তড় তড় করে এগিয়ে চলছে। দ্রুত উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ আজ মডেলে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই সোনার বাংলাদেশকে আজও সেই পাকিস্তানী প্রেতাত্মা ও দোসররা পাকিস্তানী আদলে বানাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা বিভিন্ন অজুহাতে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা করছে। তাই বর্তমান প্রজন্মকে সদা সজাগ থাকতে হবে। বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে।

এরজন্য বর্তমান সরকার তথা বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার এবিষয়ে অধিক গুরুত্ব দিয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নব-নির্মিত শেরপুর জেলার নকলা উপজেলা শহরের নকলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন ১৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুরে উদ্বোধন উপলক্ষ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, দেশে শান্তি বজায় রাখতে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতায় বসাতে হবে। এরজন্য আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার কাছে নৌকা প্রতীকে ভোট আহ্বান করেন তিনি।

নকলা উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কমান্ড কাউন্সিল এর যৌথ আয়োজনে এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুলতানা রাজিয়া’র সভাপতিত্বে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় ওই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময় সভা শুরুর আগে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রাণালয়ের মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে নকলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধন করেন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে শেরপুর জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব, পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম, নকলা উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম মাহবুবুল আলম সোহাগ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও নকলা পৌরসভার মেয়র হাফিজুর রহমান লিটন, জেলা মুক্তিযুদ্ধা কমান্ডারে সাবেক কমান্ডার নূরুল ইসলাম হিরু, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডে সাবেক কমান্ডার আবুল মনসুর, উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মোজাম্মেল হক, সহ-সভাপতি ফেরদৌস রহমান জুয়েল, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক আলতাব আলী, দপ্তর সম্পাদক খলিলুর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুর রশিদ সরকার, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শহিদুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক উম্মে কুলসুম রেনু, শেরপুর খামার বাড়ীর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আশরাফ উদ্দিন, বিএডিসি হিমাগারের উপ-পরিচালক (টিসি) মো. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন কবীর, নকলা ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আলমগীর আজাদ ও সাধারন সম্পাদক মজিবুর রহমান, নকলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম সোহেল, যুগ্ম আহবায়ক এফএম কামরুজ্জামান রঞ্জু ও রেজাউল করিম রিপন; উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জিকরুল হাসান পিকুল, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল আজাদ ডেভিডসহ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে আগত মুক্তিযোদ্ধাগন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিকলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন গনমাধ্যমের কর্মীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে নকলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্পের কাজটি ২০১৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারীর কার্যাদেশ অনুযায়ী চুক্তিমূল্য ছিল ২ কোটি ২ লাখ ৩৯ হাজার ৮৭৯ টাকা ৩৫ পয়সায় এবং কাজ সমাপ্তির কথাছিল ৭ মে ২০১৫ তারিখে।

কিন্তু বিভিন্ন কারনে নির্দিষ্ট দিনে নির্মান কাজ শেষ না হলেও, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করা হয়। আর ওই নির্মান কাজটি করেন মেসার্স রুব ট্রেড এজেন্সি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

ট্যাগ: Banglanewspaper মুক্তিযোদ্ধা